১২ জানুয়ারি ২০২৬, ২২:২২

রেজাল্টে এগিয়ে থাকা ১১ জন আউট, নিয়োগ পেলেন প্রো-ভিসির কন্যা

চবি উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খান  © টিডিসি সম্পাদিত

বিভাগীয় ফলাফলে পিছিয়ে থেকেও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) ফাইন্যান্স বিভাগে প্রভাষক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীম। শুক্রবার (৯ জানুয়ারি) উপাচার্যের সম্মেলন কক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৬৫তম সিন্ডিকেট সভায় তাকে নিয়োগের অনুমোদন করা হয়। এর আগে গত ১৯ ডিসেম্বর এই নিয়োগ বোর্ড অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্রজনতা গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন প্রশাসন দায়িত্বে আসার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগে স্বচ্ছতা ফেরাতে প্রণয়ন করেন নতুন শিক্ষক নিয়োগ নীতিমালা। এই নীতিমালার আওতায় এ পর্যন্ত চবিতে ৭৮ জন শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে সর্বশেষ ৫৬৫তম সিন্ডিকেটে বিভিন্ন বিভাগে নতুন করে নিয়োগ পান ১৮ জন শিক্ষক। এর আগে ৫৬৪তম সিন্ডিকেটে নিয়োগ দেওয়া হয় ৩৮ শিক্ষককে। অর্থাৎ গত দুই সিন্ডিকেটে ৫৬ জনসহ এই প্রশাসনের আমলে মোট শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে ৭৮ জনকে।

এর আগে গত বছরের ১৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স বিভাগের শিক্ষক নিয়োগের জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ করে কর্তৃপক্ষ। প্রভাষক পদে নিয়োগের জন্য চারজনের নিয়োগের বিষয়ে উল্লেখ করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইন্যান্স বিভাগে শিক্ষক নিয়োগের জন্য ১৯ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করা হয়। উপাচার্যের অফিস কক্ষে নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার বিষয়টি বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। 

ফাইনান্স বিভাগের চার প্রভাষক পদের বিপরীতে শিক্ষক হিসেবে আবেদন করেন ৫১ জন প্রার্থী। এই চার পদের মধ্যে একটিতে সহকারী অধ্যাপকের বিপরীতে এবং অন্য একটিতে সহযোগী অধ্যাপকদের বিপরীতে প্রভাষক নিয়োগ করা হবে বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের সূত্রে জানা গেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার দপ্তর থেকে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে দেখা যায়, ফাইন্যান্স বিভাগের জন্য আবেদন করা ৫১ জন প্রার্থীর মধ্যে উপ-উপাচার্য শামীম উদ্দিন খানের মেয়ে মাহিরা শামীমের নাম তালিকায় ৪৩ নম্বরে উল্লেখ রয়েছে।  

বিভাগীয় ফলাফলে দেখা দেখা যায়, মাহিরা শামীমের স্নাতকের সিজিপিএ-৩.৮০। সিজিপিএ হিসেবে তার উপরে ওই বিভাগে আরও ১১ জন রয়েছেন। এর মধ্যে বিভাগে প্রথম হওয়া প্রার্থীর সিজিপিএ-৩.৯৫। এ ছাড়া মাহিরা শামীমের উপরে সিজিপিএ-৩.৯০ দুইজন, সিজিপিএ-৩.৮৯ একজন, সিজিপিএ-৩.৮৪ দুইজন, সিজিপিএ-৩.৮২ দুইজন এবং সিজিপিএ-৩.৮০ তিনজন প্রার্থী রয়েছেন।

উপ-উপাচার্যের মেয়ে নিয়োগ পাওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা। আজ সোমবার (১২ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্র মজলিসের সভাপতি সাকিব মাহমুদ রুমি ব্যঙ্গ করে একটি প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। ক্যাম্পাসের ড. এ আর মল্লিক ভবনের সামনে দাঁড়ানো প্ল্যাকার্ড হাতে লেখেন, ‘বাবা আমায় একটা নিয়োগ দেবে?’

 এ বিষয়ে উপ-উপাচার্য অধ্যাপক শামীম উদ্দিন খান বলেন, ফাইন্যান্স বিভাগের নিয়োগের সঙ্গে আমি কোনোভাবে যুক্ত ছিলাম না। আমি নিয়োগ বোর্ডের সদস্যই নই। নিয়োগ বোর্ড কীভাবে হচ্ছে আমি জানি না। আমার মেয়ে সেখানে আবেদন করেছে এটুকুই মাত্র। তাছাড়া এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ভালো বলতে পারবেন, কেননা তিনি নিয়োগ বোর্ডের সভাপতি। 

জানতে চাইলে চবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইয়াহ্ইয়া আখতার বলেন, আমরা কয়েক ধাপে প্রার্থীদের যাচাই-বাছাই এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিচ্ছি। এখানে স্বজনপ্রীতি কিংবা পক্ষপাতিত্বের কোনো সুযোগ নেই। আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ হচ্ছে কিনা এজন্য আমরা সবাইকে আহ্বান করেছি যে আপনারা এসে আমাদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দেখে যান। কিন্তু কেউই আমাদের কথা কর্ণপাত করেননি। 

তিনি বলেন, আমরা প্রথমে লিখিত পরীক্ষা নিই। এরপর লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীকে ডেমনস্ট্রেশনের মাধ্যমে যাচাই করা হয়। সেখানে উত্তীর্ণ হলে প্রার্থীকে চূড়ান্তভাবে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিতে হয়। এই তিন পরীক্ষায় যারা ভালো ফলাফল করে তাদের মধ্যে সেরা প্রার্থীকে নিয়োগের জন্য বেছে নেওয়া হয়। 

তিনি আরও বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি নিরপেক্ষতার সাথে শিক্ষকদের নিয়োগ দিচ্ছেন। অথচ দেশের আরও বড় তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ে কেবল ভাইবার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। এটা কোনো যথাযথ প্রক্রিয়া না। কেবল ভাইবার মাধ্যমে নিয়োগ দিলে পক্ষপাতিত্বের সুযোগ আছে।