ঢাবি অধ্যাপক কার্জনের গায়ে হাতও তোলেন উত্তেজিত জনতা
সাবেক সংসদ সদস্য আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আইন বিভাগের আওয়ামীপন্থী অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনকে অবরুদ্ধ করেছে একদল ব্যক্তি। আজ বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে তারা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) গোলটেবিল আলোচনায় অংশ নিতে যান। সেখানে একদল ব্যক্তি তাদের অবরুদ্ধ করেন। পরে তাদেরকে শাহবাগ থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির শফিকুল কবির মিলনায়তনে ‘আমাদের মহান স্বাধীনতাযুদ্ধ এবং বাংলাদেশের সংবিধান’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘মঞ্চ ৭১’। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকার কথা ছিল গণফোরামের সাবেক সভাপতি ড. কামাল হোসেনের। এই আলোচনায় প্রথমে বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন। তিনি বলেন, ‘আমরা দেখতে পাচ্ছি, দেশের সংবিধানকে ছুঁড়ে ফেলার পাঁয়তারা করা হচ্ছে। এর পেছনে রয়েছে জামায়াত–শিবির ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। অধ্যাপক ইউনূসের নেতৃত্বে তারা মুক্তিযোদ্ধাদের জুতার মালা পরাচ্ছে।’
তার বক্তব্য শেষ হওয়ার পরই মিছিল নিয়ে একদল উত্তেজিত জনতা ডিআরইউ মিলনায়তনে ঢোকেন। এ সময় তারা ‘জুলাইয়ের হাতিয়ার, গর্জে উঠুক আরেকবার’, ‘লীগ ধর, জেলে ভর’, ‘জুলাইয়ে যোদ্ধারা, এক হও লড়াই করো’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। একপর্যায়ে তারা গোলটেবিল আলোচনার ব্যানার ছিঁড়ে আলোচনায় অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের অবরুদ্ধ করে রাখেন।
তাদের অবরুদ্ধ করে রাখার সময় ডিআরইউ মিলনায়তনে কয়েকজনকে শারীরিক লাঞ্ছিত ও মারধর করার ঘটনাও ঘটেছে। এসময় একজন উত্তেজিত জনতা কর্তৃক অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জনের পিঠে হাত দিয়ে ধাক্কা দিতে দেখা গেছে। এদিকে, তার গায়ে হাত তোলার পরপরই তিনি বলেন, গায়ে হাত দিচ্ছেন কেন? এসময় তার পাশে আবদুল লতিফ সিদ্দিকীও উপস্থিত ছিলেন।
পরে এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এছাড়া এ ঘটনার মারধর করার কয়েকটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তা নিয়ে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
এদিকে, দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশের (ডিএমপি) একটি দল এলে তারা পুলিশের কাছে লতিফ সিদ্দিকী, অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ অন্তত ১৫ জনকে তুলে দেন। পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (এডিসি) আসাদুজ্জামান সেখানে উপস্থিত ছিলেন। দুপুর সোয়া ১২টার পর কয়েকজন পুলিশ সদস্য এসে লতিফ সিদ্দিকীসহ বেশ কয়েকজনকে পুলিশ ভ্যানে নিয়ে যান।
পরে তাদেরকে শাহবাগ থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। এরপর তাদেরকে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নেওয়া হয়েছে। দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করে শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালিদ মনসুর দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এবং অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমানসহ বেশ কয়েকজনকে শাহবাগ থানা পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়েছে। সেখানে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।