তরুণদের মাদক-ইন্টারনেট আসক্তি ঠেকাতে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার
তরুণদের মাদক ও ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সরকার শিক্ষা, খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বহুমুখী উদ্যোগ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন। তিনি বলেন, মাদকসেবীদের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে হবে এবং তাঁদের সমাজের মূলধারায় ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে।
মাদক কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি ও মাদকের গডফাদারদের বিরুদ্ধে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে মোকাবিলা করতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকারকে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ‘মাদক ও ইন্টারনেট আসক্তি, ক্যারিয়ার নির্বাচনে বিভ্রান্তি: সমাধান যে পথে’ শীর্ষক কর্মশালায় উদ্বোধনী বক্তব্যে অধ্যাপক মামুন এসব কথা বলেন। কর্মশালায় সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও তরুণেরা অংশ নেন।
বাংলাদেশ অ্যান্টি ড্রাগ ফেডারেশন ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর যৌথভাবে এ কর্মশালার আয়োজন করে। অধ্যাপক মামুন বলেন, শুধু সচেতনতা তৈরি করে তরুণদের আসক্তি থেকে দূরে রাখা সম্ভব নয়। তাঁদের জন্য আনন্দময় ও ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি করতে হবে। এ লক্ষ্যে শিক্ষাক্রমে ‘এডুকেশন উইথ হ্যাপিনেস’ কর্মসূচি গ্রহণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি তাঁদের খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে।
শিশু-কিশোরদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে ‘নতুন কুঁড়ি’ কর্মসূচির কথাও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গোল্ডকাপসহ বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন তরুণদের ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে যুক্ত রাখতে সহায়ক হবে বলে মনে করেন তিনি। এতে তাঁদের মাদক ও ইন্টারনেটের আসক্তি থেকে দূরে রাখার পরিবেশ তৈরি হবে।
আরও খবর: এসএসসিতে যারা ভালো করেনি, তাদের ভালোবেসে বলুন—তোমরা আগামীর পরীক্ষায় ভালো করবে
তরুণদের স্বাবলম্বী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেন ইউজিসির এই সদস্য। তিনি বলেন, যুবসমাজের বেকারত্ব দূর করতে আগামী পাঁচ বছর বা নির্দিষ্ট মেয়াদে এক কোটি কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করছে সরকার। দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সম্প্রসারণ এবং কারিগরি প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এই কর্মসংস্থান সৃষ্টির পরিকল্পনা রয়েছে।
বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য তরুণদের ভাষা ও পেশাগত দক্ষতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন অধ্যাপক মামুন। পাশাপাশি তথ্যপ্রযুক্তি ও কারিগরি প্রশিক্ষণ, উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়তা এবং আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো হচ্ছে। এসব সুযোগ-সুবিধা পূর্ণ ব্যবহারে তিনি তরুণদের আহবান জানান।