পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য আবেদন ৩ হাজার ৮০০ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর
চলতি বছর পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ থেকে প্রায় ৩ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী আবেদন করেছেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সঙ্গে ইউজিসি কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার এ তথ্য জানান।
ইমরান হায়দার বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের ছয়টি অঞ্চলে পাকিস্তানে উচ্চশিক্ষার জন্য শিক্ষার্থীদের আবেদন গ্রহণ করা হয়েছে। তিনি জানান, পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তির পাশাপাশি আবাসন, খাবার ও যাতায়াত সুবিধাও দিয়ে থাকে।
বৈঠকে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময় এবং ইউজিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা উন্নয়নে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়। এ লক্ষ্যে দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ জোরদারে শিগগিরই একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে নীতিগতভাবে একমত হয় উভয় পক্ষ।
এ সময়, দুই দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী বিনিময় কর্মসূচি চালু, অন্তত একটি সেমিস্টারের জন্য একাডেমিক এক্সচেঞ্জ, যৌথ গবেষণা, উদ্ভাবনী কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের দক্ষতা উন্নয়নে যৌথ প্রশিক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
এ ছাড়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি শিক্ষা, গবেষণা ব্যবস্থাপনা, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের আধুনিকায়ন, আন্তর্জাতিক র্যাংকিংয়ে অগ্রগতি এবং পাকিস্তানের ‘নলেজ করিডোর’ কর্মসূচির অভিজ্ঞতা বিনিময়ের বিষয়েও আলোচনা হয়। উচ্চশিক্ষা খাতে যৌথ প্রকল্প গ্রহণের ব্যাপারেও উভয় পক্ষ ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশ করে।
বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকার ইউজিসিকে উচ্চশিক্ষা কমিশনে রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে। এ ক্ষেত্রে পাকিস্তানের হায়ার এডুকেশন কমিশনের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হতে পারে।
তিনি বলেন, গবেষণা, উদ্ভাবন ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সক্ষমতা বৃদ্ধিতে পাকিস্তানের উচ্চশিক্ষা কমিশন এবং দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি হলে উভয় দেশের উচ্চশিক্ষা খাত আরও সমৃদ্ধ হবে।
পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার জানান, সম্প্রতি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বৈঠকে শিক্ষা খাতকে দুই দেশের সহযোগিতার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে যোগাযোগ ও সহযোগিতা বৃদ্ধি পেলে গবেষণা, উদ্ভাবন এবং দক্ষ মানবসম্পদ উন্নয়নে উভয় দেশই উপকৃত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বৈঠকে ইউজিসির সদস্য অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম, অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন এবং পাকিস্তানের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।