১৮ মে ২০২৬, ১৬:২৮

১১ হাজার ৪০১ বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর ঠিকানা এখন মালয়েশিয়া

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার পতাকা  © টিডিসিস সম্পাদিত

উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য হয়ে উঠেছে মালয়েশিয়া। বর্তমানে দেশটির বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অধ্যয়ন করছেন ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংখ্যার বিচারে বাংলাদেশিদের অবস্থান এখন তৃতীয়।

সোমবার (১৮ মে) বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে নেটওয়ার্কিং বিষয়ক এক যৌথ সভায় এ তথ্য জানান বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান।

রাষ্ট্রদূত সুহাদা ওথমান বলেন, বর্তমানে হাজার হাজার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ায় উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করছে। এটি মালয়েশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থার প্রতি বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আস্থা ও বিশ্বাসের প্রতিফলন। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত মানসম্পন্ন শিক্ষা, তুলনামূলক সাশ্রয়ী ব্যয় এবং নিরাপদ ও বহুসাংস্কৃতিক পরিবেশের কারণে মালয়েশিয়া বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের কাছে উচ্চশিক্ষার অন্যতম পছন্দের গন্তব্যে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, শিক্ষা কেবল ডিগ্রি অর্জনের মাধ্যম নয়; এটি ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরি, দেশগুলোর মধ্যে সেতুবন্ধন গড়ে তোলা এবং টেকসই সমৃদ্ধির পথ প্রশস্ত করার একটি শক্তিশালী হাতিয়ার। বাংলাদেশের বিশাল কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে দেশটির ক্রমবর্ধমান গুরুত্বারোপ দুই দেশের উচ্চশিক্ষা, কারিগরি প্রশিক্ষণ, গবেষণা এবং একাডেমিক এক্সচেঞ্জের ক্ষেত্রে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার ব্যাপক সুযোগ সৃষ্টি করেছে।

তিনি আরও বলেন, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশ উভয় দেশের তরুণ প্রজন্মই এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। আর সেই ভবিষ্যৎ নির্মাণের জন্য শিক্ষা হচ্ছে সর্বোত্তম বিনিয়োগ। মালেশিয়ার বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে ১১ হাজার ৪০১ জন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। সংখ্যার বিচারে আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাংলাদেশিদের অবস্থান তৃতীয়। এর মধ্যে অধিকাংশ শিক্ষার্থী বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়ন করছেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ইউজিসি সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন বলেন, গবেষণায় যৌথ সহযোগিতা, শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি সহায়তা, উচ্চশিক্ষা–সংক্রান্ত তথ্য বিনিময় এবং শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধির ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারে দু’দেশ একসাথে কাজ করতে পারে।

বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের র‌্যাংকিং, পেশাগত সক্ষমতা বৃদ্ধি, শিক্ষার্থীদের চাকরির উপযোগী করে গড়ে তোলা, গবেষণা নীতিমালা তৈরি করা, শিল্প-বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানের সাথে সহযোগিতা বৃদ্ধিতে তিনি মালয়েশিয়ার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন। 

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া দীর্ঘদিনের ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অংশীদার। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বন্ধুত্ব ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক সময়ের সঙ্গে আরও সুদৃঢ় হয়েছে। শিক্ষা দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অন্যতম শক্তিশালী স্তম্ভ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। বাংলাদেশের হাজার হাজার শিক্ষার্থী মালয়েশিয়ার মানসম্মত উচ্চশিক্ষার সুযোগ থেকে উপকৃত হয়েছে এবং দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সহযোগিতামূলক সম্পর্ক ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।

ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, আজকের এই আয়োজন কেবল একটি আনুষ্ঠানিক সভা নয়; এটি বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার উচ্চশিক্ষা খাতে অর্থবহ অংশীদারিত্ব গড়ে তোলার একটি কৌশলগত প্ল্যাটফর্ম। মালয়েশিয়ান বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাংলাদেশের প্রায় ৫২টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণ উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ, উদ্ভাবন, আন্তর্জাতিকীকরণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার প্রতি দুই দেশের যৌথ অঙ্গীকারকে প্রতিফলিত করে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই নেটওয়ার্কিং ইভেন্ট অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য গঠনমূলক সংলাপ, সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র অন্বেষণ এবং ভবিষ্যৎ যৌথ উদ্যোগের বাস্তবসম্মত পথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। একইসঙ্গে উচ্চশিক্ষা, গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, দক্ষতা উন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক অংশীদারিত্ব জোরদারে এ ধরনের উদ্যোগ দুই দেশের সম্পর্ককে আরও গতিশীল করবে।

ইএমজিএসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নভি তাজউদ্দীন বলেন, গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। গুণগত শিক্ষা, আধুনিক একাডেমিক পরিবেশ, তুলনামূলক ব্যয়সাশ্রয়ী শিক্ষাব্যবস্থা এবং আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধার কারণে মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। 

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি, প্রো-ভিসি, ট্রেজারার, ইউজিসির পরিচালক, রেজিস্ট্রার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ডেস্কের পরিচালকবৃন্দ, এডুকেশন মালয়েশিয়া গ্লোবাল সার্ভিসেস এবং মালয়েশিয়ার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা অংশ নেন।