অনুমোদনের অপেক্ষায় আরও ৮ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়
দেশে নতুন করে আরও ৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় অনুমোদনের অপেক্ষায় রয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো প্রতিষ্ঠার জন্য সম্ভাব্যতা যাচাইয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) চিঠি পাঠানো হয়েছে। নতুন এই ৮টি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন পাওয়া গেলে দেশে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা দাঁড়াবে ১২৪টিতে।
ইউজিসি একটি সূত্র জানিয়েছে, নৌবাহিনী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, খুলনা; আশ্রয় ইউনিভার্সিটি, রাজশাহী; ইম্পেরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ, রাজশাহী; ইকো ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, ঠাকুরগাঁও; ইউনিভার্সিটি অব ইন্টিগ্রেটেড থট, রূপগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ; বেঙ্গল ইউনিভার্সিটি, গাজীপুর; যমুনা ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি, ঢাকা; ব্রিটিশ বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটির বিষয়ে মতামত জানতে চাওয়া হয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউজিসি সদস্য (বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়) প্রফেসর ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন দ্যা ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘৮টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে আমাদের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলো আমরা সরেজমিনে পরিদর্শন করব। পরিদর্শনে সবকিছু ঠিক মনে হলে অনুমোদন সংক্রান্ত কাগজপত্র মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার চূড়ান্ত অনুমোদন মন্ত্রণালয় দিয়ে থাকে। ’
জানা গেছে, ২২টি শর্তে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমোদন দেওয়া হয়। এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে সাময়িক অনুমতির মেয়াদ হবে সাত বছর, প্রস্তাবিত বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যাপ্তসংখ্যক শ্রেণিকক্ষ, গ্রন্থাগার, গবেষণাগার, মিলনায়তন, সেমিনারকক্ষ, অফিস কক্ষ, শিক্ষার্থীদের জন্য পৃথক কমনরুম এবং প্রয়োজনীয় অন্যান্য কক্ষের জন্য পর্যাপ্ত স্থান ও অবকাঠামো থাকতে হবে। এ ছাড়া কমপক্ষে ২৫ হাজার বর্গফুট আয়তনের নিজস্ব বা ভাড়া করা ভবন, কমপক্ষে তিনটি অনুষদ ও তার অধীনে ছয়টি বিভাগ থাকতে হবে। এ রকমভাবে আরও কিছু শর্ত মানতে হবে। তবে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় এসব শর্ত সঠিকভাবে প্রতিপালন করেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
শিক্ষা সংশ্লিষ্টটরা দেশের অধিকাংশ বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন আছে। মানসম্মত শিক্ষার জন্য যেসব সুযোগ-সুবিধা থাকা দরকার, তা নেই অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ে। আছে নানা ধরনের অনিয়মের অভিযোগ, যা বিভিন্ন সময় ইউজিসির তদন্তেও উঠে এসেছে।
তাদের মতে, বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো অনুমোদনের পূর্বে ভালোভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই করা প্রয়োজন। অনেক বিশ্ববিদ্যালয় প্রয়োজনীয় অবকাঠোমো তৈরি না করেই যত্রতত্র বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে তুলছে। এতে একদিকে শিক্ষার্থীরা সঠিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অন্যদিকে মোটা অংকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে অভিভাবকদের।