ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি উচ্চশিক্ষায় দুটি পরিবর্তন আনতে পারে, জানালেন ইউজিসি চেয়ারম্যান
ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি (ঢাকেবি) দেশের উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে প্রধানত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ। সম্প্রতি একটি গণমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এমন কথা বলেছেন তিনি। বলেছেন, ঢাকেবি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি কার্যকর ও বাস্তব উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে এবং এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয়।
অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, সর্বশেষ ঢাকায় প্রতিষ্ঠিত ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি একটি ভিন্ন প্রেক্ষাপটে গড়ে উঠেছে। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তর্ভুক্ত কলেজগুলো শুরুতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল, পরে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় যায় এবং পরবর্তীতে আবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সংযুক্ত হয়। বিভিন্ন প্রশাসনিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিস্থিতির কারণে এক পর্যায়ে তারা স্বতন্ত্র কাঠামোর পথে অগ্রসর হয়। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আগ্রহে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
একটি বিশ্ববিদ্যালয় মূলত শিক্ষার্থীদের জন্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা রয়েছে বলেই শিক্ষকসমাজ ও শিক্ষা কার্যক্রম অর্থবহ হয়ে ওঠে। একই সঙ্গে শিক্ষকদের স্বার্থ ও বাস্তবতাকেও উপেক্ষা করা যায় না। তবে যেকোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রেও সেই নীতিকেই প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এক প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিচালনা করা কতটা কঠিন হবে— এমন প্রশ্নের জবাবে ইউজিসি চেয়ারম্যান বলেন, রাজধানীর সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানকে একক প্রশাসনিক কাঠামোর আওতায় পরিচালনা করা খুব বেশি কঠিন হবে না। অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, এই কলেজগুলো ইতোমধ্যে ভিন্ন ভিন্ন সময় একই ধরনের প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়েছে। তারা যখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ছিল, তখনও প্রায় একই রকম ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়েছে। একইভাবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনেও তারা অনুরূপ প্রশাসনিক কাঠামোর মধ্যেই ছিল।
তিনি বলেন, বর্তমানে যে নতুন মডেলটি গৃহীত হয়েছে, তা পূর্ববর্তী দুই ব্যবস্থার অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই প্রণীত। তবে গুণগত দিক থেকে এটি আরও আধুনিক ও সময়োপযোগী। এখানে উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো সবগুলো ক্যাম্পাসই একই মহানগর এলাকায় অবস্থিত, যা সমন্বিত প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা বাস্তবায়নকে তুলনামূলকভাবে সহজ করে।
বিশ্বের বহু দেশে একাধিক ক্যাম্পাস নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার উদাহরণ রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, কোথাও একই শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ক্যাম্পাস, আবার কোথাও একাধিক শহরজুড়েও একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কাঠামো কার্যকরভাবে পরিচালিত হচ্ছে। সে অভিজ্ঞতার আলোকে বলা যায়, রাজধানীর সাতটি বড় প্রতিষ্ঠানকে এক প্রশাসনিক কাঠামোয় পরিচালনা করা বাস্তবসম্মত ও ব্যবস্থাপনাগতভাবে সম্ভব, যদি যথাযথ পরিকল্পনা ও আধুনিক ব্যবস্থাপনা কাঠামো অনুসরণ করা হয়।
ইউজিসি চেয়ারম্যান আরও বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির আত্মপ্রকাশ বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষার ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্কারের সূচনা হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। এতদিন এই সাতটি বড় কলেজ যে প্রশাসনিক দোদুল্যমানতার মধ্যে ছিল, তার স্থায়ী অবসানের মাধ্যমে এই বিশ্ববিদ্যালয় উচ্চশিক্ষার একটি বিশাল শিক্ষার্থী জনগোষ্ঠীকে একটি সুসংহত কাঠামোর আওতায় নিয়ে এসেছে। এটি কেবল একটি নতুন প্রতিষ্ঠানের নাম নয়; বরং একটি নতুন একাডেমিক দর্শনের প্রতিফলন। যেহেতু সাতটি ক্যাম্পাসই রাজধানী ঢাকার ভেতরে অবস্থিত এবং প্রত্যেকটির নিজস্ব ঐতিহ্য, অবকাঠামো ও একাডেমিক অভিজ্ঞতা রয়েছে, তাই নতুন এই কাঠামোর মাধ্যমে তারা পরস্পরের সম্পদ ও অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করার সুযোগ পাবে। এর ফলে শিক্ষা ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় ও দক্ষতা বৃদ্ধি পাবে।
অধ্যাপক ড. এসএমএ ফায়েজ বলেন, ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি দেশের উচ্চশিক্ষার মানচিত্রে প্রধানত দুটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আনতে পারে। প্রথমত, এটি প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের একটি কার্যকর ও বাস্তব উদাহরণ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবে, যেখানে বড় আকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি আধুনিক ও গতিশীল কাঠামোর আওতায় এনে কীভাবে সেশনজটমুক্ত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা যায়—তার একটি দিকনির্দেশনা তৈরি হবে। দ্বিতীয়ত, এই বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য একটি শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক পরিচয় (আইডেন্টিটি) গড়ে তুলবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও উচ্চশিক্ষার ক্ষেত্রে বাড়তি আত্মবিশ্বাস ও গ্রহণযোগ্যতা প্রদান করবে।