০৩ নভেম্বর ২০২৬, ১০:৫২

লাল শাপলায় প্রকৃতিতে ছড়াচ্ছে মুগ্ধতা

লাল শাপলা  © টিডিসি ছবি

ভোরের আলো ফুটতেই নিজেদের অবস্থান জানান দেয় রক্তলাল বর্ণের হাজার হাজার শাপলা ফুল। পাপড়ি ছড়িয়ে তৈরি করে নয়নাভিরাম মুগ্ধতা। আর এই সৌন্দর্যকে উপভোগ দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন দর্শনার্থীরা। বলছিলাম লক্ষ্মীপুর সদর উপজেলার তেওয়ারিগঞ্জ ইউনিয়নে ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে তোলা ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ এর কথা।

ভবানীগঞ্জ-কুশাখালী-নোয়াখালী সড়কের পূর্ব চর মনসা গ্রামে রাস্তার পাশেই বাগানটি। ব্যক্তি উদ্যোগে গড়ে ওঠা এ শাপলা বাগানটি মন কাড়ছে লক্ষ্মীপুরের দর্শনার্থীদের। প্রত্যন্ত অঞ্চলের সবুজ-শ্যামল প্রকৃতির সৌন্দর্য্যকে আরও সমৃদ্ধ করে তুলেতে পরিকল্পিতভাবে তৈরি এ শাপলা বাগান। ফজরের নামাজের পর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত শাপলা বাগানের লাল শাপলা পাপড়ি ছড়িয়ে থাকে নয়নাভিরাম মুগ্ধতায়। এজন্য এসময় দর্শনার্থীদের উপস্থিত লক্ষণীয়।

২০২০ সালে নিজের ১৪৩ শতাংশ জমিতে জলা কেটে পরিকল্পিতভাবে এ বাগানটি গড়ে তোলেন কুমিল্লা শিক্ষাবোর্ডের সচিব প্রকৃতিপ্রেমী প্রফেসর জাহাঙ্গীর আলম। নাম দিয়েছেন ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’। কোন প্রকার বাণিজ্যিক চিন্তা ছাড়াই শুধুমাত্র সবুজ প্রকৃতি ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের উদ্দেশে বরিশালের উজিরপুর থেকে লাল শাপলার কন্দ এনে লাগিয়েছেন তিনি। নিবিড়ভাবে পরিচর্যা ও রক্ষণাবেক্ষণ করার ফলে সেখানেই এখন ফুটেছে হাজারো লাল শাপলা। এতে বাগানটি আপন সৌন্দর্য্যে নয়নাভিরাম মুগ্ধতা বিলিয়ে যাচ্ছে।

জানা গেছে, প্রতিদিন সৌন্দর্য্য পিয়াসী মানুষ বাগানটি দেখতে আসেন। ভোরবেলায় দর্শনার্থী বেশী আসেন। ‘সাহেব বাড়ি শাপলা বাগান’ নামের এ শাপলা বিল দেখতে অনেকে পরিবার-পরিজন নিয়েও আসেন বলে জানায় স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইস্রাফিল বলেন, এ শাপলা বাগানটি এ অঞ্চলের জন্য অত্যান্ত সুন্দর এবং মনোমুগ্ধকর পরিবেশ তৈরি করেছে। এখানে প্রতিদিনই সকাল বেলায় অনেক নারী-পুরুষ আসেন। অত্র অঞ্চলের আর কোথাও এমন সুন্দর পরিবেশ না থাকায় মানুষ এ জায়গাটি দেখতে আসে এবং উপভোগ করে। এ উদ্যোগের পিছনের কারিগর অধ্যাপক জাহাঙ্গীর আলম। উনার জায়গাতেই উনি স্ব-উদ্যোগে কাজটি করেছেন। আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে তাকে ধন্যবাদ জানাই। 

লক্ষ্মীপুর থেকে আসা এক শিক্ষার্থী মিম বলেন, অনেকের কাছ থেকে এ বাগানটির কথা শুনেছি। আজ পরিবার নিয়ে দেখতে এসেছি। বেশ সুন্দর। বাগানটি বেশ উপভোগ করেছি।

কলেজ শিক্ষার্থী মো. ফুহাদ হাসান বলেন, বাগানটি প্রাকৃতিক বিনোদন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠেছে। অনেকেই এখানে ঘুরতে আসেন। তবে কেউ কেউ ফুল ছিঁড়ে ফেলছে, যা ঠিক নয়। এতে বাগানটি তার সৌন্দর্য হারাবে এবং প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট হবে। 

শাপলা বাগানের উদ্যোক্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, নিজের শখ থেকেই বাগানটি করা। আমার উদ্যোগে অন্যদেরও ভালো লাগা কাজ করছে এতে আমি খুশি। নিজের সামর্থ অনুযায়ী করেছি। অনেক কিছুই করতে ইচ্ছে করে। কিন্তু সামর্থের ব্যাপার আছে। আমাদের এদিকে দেখার কিছু নেই। শাপলা বাগানটি এখন অনেকের ভালো লাগার জায়গা, আমারও ভালো লাগে।