দীর্ঘক্ষণ প্রস্রাব চেপে রেখে যে বিপদ ডেকে আনছেন
কাজের ব্যস্ততা কিংবা বাইরে পরিষ্কার শৌচাগারের অভাবে অনেকেই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব চেপে রাখেন। সাময়িকভাবে এমনটা করলেও নিয়মিত এই অভ্যাস শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। এতে মূত্রাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি মূত্রনালীর সংক্রমণসহ বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি বিরল ক্ষেত্রে মূত্রাশয় ফেটে যাওয়ার মতো ঘটনাও ঘটতে পারে।
একজন সুস্থ পূর্ণবয়স্ক মানুষের মূত্রাশয়ে সাধারণত ৩৫০ থেকে ৫৫০ মিলিলিটার প্রস্রাব জমা হতে পারে। তবে প্রায় ২০০ মিলিলিটার প্রস্রাব জমলেই সাধারণত মূত্রত্যাগের প্রয়োজন অনুভূত হয়। তাই দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখা শরীরের জন্য ভালো নয়। নিয়মিত এমন অভ্যাসের কারণে একাধিক শারীরিক জটিলতা তৈরি হতে পারে।
প্রস্রাব দীর্ঘ সময় চেপে রাখলে যেসব সমস্যা দেখা দিতে পারে—
কিডনিতে পাথরের ঝুঁকি: প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীর থেকে ইউরিয়া ও অন্যান্য বর্জ্য পদার্থ বের হয়ে যায়। দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে কিডনিতে পাথরসহ বিভিন্ন জটিলতার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। কিডনিতে পাথর হলে ব্যথা, সংক্রমণ কিংবা প্রস্রাবের সঙ্গে রক্ত যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। পাথরের আকার বড় হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনও হতে পারে।
পেলভিক ফ্লোরের পেশি দুর্বল হওয়া: দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাসে শ্রোণিতল বা পেলভিক ফ্লোরের পেশির স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে। এতে পরবর্তী সময়ে প্রস্রাব নিয়ন্ত্রণে সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমনকি হাঁচি বা কাশির সময় অনিচ্ছাকৃতভাবে প্রস্রাব বের হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি ঘন ঘন প্রস্রাবের প্রবণতাও তৈরি হতে পারে।
মূত্রনালীর সংক্রমণ: দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রাশয়ে ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধির সুযোগ তৈরি হতে পারে। এতে মূত্রনালীর সংক্রমণ বা ইউরিনারি ট্র্যাক্ট ইনফেকশন (ইউটিআই) হওয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে। এ ধরনের সংক্রমণে প্রস্রাবের সময় জ্বালাপোড়া ও ব্যথাসহ বিভিন্ন অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।
মূত্রাশয়ের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা নষ্ট হওয়া: মূত্রাশয় প্রস্রাবে পূর্ণ হলে স্বাভাবিকভাবেই প্রসারিত হয়। প্রস্রাব বের হয়ে গেলে এটি আবার আগের অবস্থায় ফিরে আসে। কিন্তু নিয়মিত দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখলে মূত্রাশয়ের পেশির কার্যক্ষমতা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে মূত্রাশয় ঠিকমতো সংকুচিত হতে না পারার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
মূত্রাশয় ফেটে যাওয়ার আশঙ্কা: দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার কারণে বিরল ক্ষেত্রে মূত্রাশয় ফেটে যাওয়ার মতো গুরুতর ঘটনা ঘটতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে।
তাই কিডনি ও মূত্রতন্ত্র সুস্থ রাখতে পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি সময়মতো প্রস্রাব ত্যাগ করা জরুরি। কাজের ব্যস্ততা কিংবা বাইরে শৌচাগারের অভাব থাকলেও দীর্ঘ সময় প্রস্রাব আটকে রাখার অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত।