১২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:৪২

শিশুদের শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের কারণ, জেনে নিন

শিশুদের শরীরে যেসব লক্ষণ হতে পারে ক্যান্সারের কারণ   © সংগৃহীত

শিশুদের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ অনেক সময় সাধারণ অসুস্থতা বা ক্লান্তি ভেবে এড়িয়ে যান অভিভাবকেরা। অথচ দীর্ঘস্থায়ী ক্লান্তি, সামান্য পরিশ্রমেই শ্বাসকষ্ট, শরীরে অকারণে কালশিটে দাগ কিংবা ক্রমশ বড় হতে থাকা গুটি ক্যানসারের সতর্কসংকেত হতে পারে। যুক্তরাজ্যে প্রতিবছর শূন্য থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রায় ১ হাজার ৯০০ শিশুর ক্যানসার শনাক্ত হয়।

ক্যানসার রিসার্চ ইউকের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের রোগজনিত মৃত্যুর প্রধান কারণ ক্যানসার। তবে দেশটির প্রতি তিনজন অভিভাবকের মধ্যে একজনেরও কম জানিয়েছেন, তারা শিশুদের ক্যানসারের লক্ষণ শনাক্ত করতে আত্মবিশ্বাসী।

১৩ বছর বয়সী অ্যামেলিয়া ক্যারলের অভিজ্ঞতাও বলছে, প্রাথমিক লক্ষণগুলো সহজেই চোখ এড়িয়ে যেতে পারে। গত বছর তার অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া (এএমএল) শনাক্ত হয়। বর্তমানে সে রোগমুক্তির পর্যায়ে রয়েছে। অ্যামেলিয়ার মা জেমা জানান, শুরুতে মেয়ের ক্লান্তি ও সামান্য শারীরিক পরিশ্রমের পর শ্বাসকষ্টের বিষয়টি তারা তেমন গুরুত্ব দেননি। এসব লক্ষণকে শারীরিক সক্ষমতার ঘাটতি এবং স্কুল থেকে ফেরার পরের স্বাভাবিক ক্লান্তি বলে মনে করেছিলেন তাঁরা।

তবে অ্যামেলিয়ার শরীরে কালশিটে দাগ দেখা দিতে শুরু করলে জেমার সন্দেহ হয়, কিছু একটা ঠিক নেই। এর মাত্র ১০ দিনের মধ্যে অ্যামেলিয়ার লিউকেমিয়া শনাক্ত হয়।

শিশু ক্যানসার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বব ফিলিপসের মতে, শিশুদের শরীরে একাধিক লক্ষণ একসঙ্গে দেখা দিলে অভিভাবকদের সতর্ক হওয়া প্রয়োজন। বিশেষ করে লক্ষণগুলো দীর্ঘস্থায়ী হলে, সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকলে কিংবা আরও তীব্র হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

শিশুদের ক্যানসারের সম্ভাব্য লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে অতিরিক্ত ক্লান্তি, ত্বক অস্বাভাবিক ফ্যাকাশে হয়ে যাওয়া, কোনো আঘাত ছাড়াই শরীরে কালশিটে দাগ দেখা দেওয়া এবং শরীরে এমন গুটি বা ফোলা তৈরি হওয়া, যা ক্রমশ বড় হচ্ছে বা সহজে সেরে যাচ্ছে না।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাপ্তবয়স্কদের তুলনায় শিশুদের শরীরে ক্যানসার দ্রুত বিকশিত হতে পারে। তাই এসব লক্ষণ দীর্ঘদিন অবহেলা না করে প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

শিশু ও তরুণদের ক্যানসার নিয়ে কাজ করা সংস্থা সিসিএলজি (চিলড্রেন অ্যান্ড ইয়াং পিপলস ক্যানসার অ্যাসোসিয়েশন) ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানো এবং দ্রুত রোগ শনাক্তের লক্ষ্যে পরিচালিত জাতীয় প্রচারাভিযানে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। যেখানে চিকিৎসকদের জন্য ‘তিনের নিয়ম’ অনুসরণের কথা বলা হয়েছে। কোনো শিশুর তিনটি স্থায়ী উপসর্গ দেখা দিলে, একই সমস্যা নিয়ে তিনবার চিকিৎসকের কাছে যেতে হলে অথবা তিন সপ্তাহ ধরে কোনো ব্যাখ্যাতীত উপসর্গ থাকলে বিশেষজ্ঞের কাছে পাঠানোর বিষয়টি বিবেচনা করতে বলা হয়েছে।

তবে শিশুদের ক্যানসারের চিকিৎসায় সাফল্যের হারও বেড়েছে। ১৯৭০-এর দশকের তুলনায় বর্তমানে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে। রোগ শনাক্তের পর পাঁচ থেকে ১০ বছর বা তারও বেশি সময় বেঁচে থাকে প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে প্রায় আটজন।