০৩ অক্টোবর ২০২৬, ১৮:৫০

প্রতিদিনের যে ৫ অভ্যাস লিভারের ক্ষতি করে, সতর্ক হোন এখনই

প্রতীকী ছবি   © সংগৃহীত

লিভারের রোগ মানেই শুধু অনিয়মিত খাওয়াদাওয়া বা মদ্যপানের কারণে সমস্যা—এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়। প্রতিদিনের কিছু অভ্যাসও লিভারের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া কিছু ওষুধ ও সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার এবং কিছু রাসায়নিকের সংস্পর্শে আসার মতো বিষয় লিভারের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

তাই দৈনন্দিন জীবনের কয়েকটি অভ্যাস সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি।

অতিরিক্ত ভিটামিন সাপ্লিমেন্ট

ত্বক ভালো রাখা বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই বিভিন্ন ভিটামিন ও মাল্টিভিটামিন সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন। তবে প্রয়োজনের অতিরিক্ত কিছু ভিটামিন, বিশেষ করে ভিটামিন ‘এ’, দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় গ্রহণ করলে শরীরে জমতে পারে এবং লিভারের ক্ষতি করতে পারে।

তাই প্রয়োজন না থাকলে নিজের ইচ্ছায় ভিটামিন বা অন্য কোনো সাপ্লিমেন্ট নিয়মিত খাওয়া ঠিক নয়। সাপ্লিমেন্ট গ্রহণের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।

প্লাস্টিকের বোতল ও কৌটোর অতিরিক্ত ব্যবহার

প্লাস্টিকের কিছু পণ্যে থাকা রাসায়নিক নিয়ে স্বাস্থ্যঝুঁকির বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে গবেষণা চলছে। বিশেষ করে গরম খাবার বা পানীয় প্লাস্টিকের পাত্রে রাখার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।

কিছু রাসায়নিক শরীরের হরমোন ও বিপাকীয় কার্যক্রমে প্রভাব ফেলতে পারে। তাই গরম খাবার বা পানি রাখার ক্ষেত্রে প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাচ, স্টিল বা এ ধরনের উপযোগী পাত্র ব্যবহার করা তুলনামূলক নিরাপদ।

প্রসাধনী ব্যবহারে অসতর্কতা

বিভিন্ন প্রসাধনীতে থাকা কিছু রাসায়নিক দীর্ঘদিন অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে নিম্নমানের বা অনিয়ন্ত্রিত প্রসাধনী ব্যবহারে সতর্ক থাকা জরুরি। তবে প্রসাধনী ব্যবহার করলেই লিভারে বিষাক্ত পদার্থ জমে গিয়ে গুরুতর প্রদাহ হবে—এমন সরাসরি সিদ্ধান্তে যাওয়ার সুযোগ নেই। 

তাই অনুমোদিত ও মানসম্মত প্রসাধনী ব্যবহার এবং অতিরিক্ত ব্যবহারের অভ্যাস এড়িয়ে চলাই ভালো।

চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ খাওয়া

কিছু ওষুধ লিভারের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে নির্দিষ্ট কিছু ব্যথানাশক, কোলেস্টেরল কমানোর ওষুধসহ বিভিন্ন ওষুধ অতিরিক্ত মাত্রায় বা ভুলভাবে গ্রহণ করলে লিভারের ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি থাকে।

অনেকে আবার ঘুমের সমস্যা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ঘুমের ওষুধ খাওয়া শুরু করেন। এ ধরনের অভ্যাস এড়িয়ে চলা উচিত। নিয়মিত কোনো ওষুধ খাওয়ার প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

পর্যাপ্ত পানি না খাওয়া 

শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রমের জন্য পর্যাপ্ত পানি পান গুরুত্বপূর্ণ। তবে শুধু বেশি পানি খেলেই শরীরের সব ‘টক্সিন’ বের হয়ে যায় বা লিভার সুস্থ থাকে—এমন ধারণা ঠিক নয়। লিভার ও কিডনি শরীরের বর্জ্য অপসারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পাশাপাশি সুষম খাবার, নিয়মিত শরীরচর্চা এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন জরুরি। তেল-মসলাযুক্ত খাবারের পর কোমল পানীয় বা অতিরিক্ত চিনিযুক্ত পানীয়ের পরিবর্তে পানি পান করা ভালো।

লিভার ভালো রাখতে শুধু একটি অভ্যাস পরিবর্তন করলেই হবে না। সুষম খাবার, স্বাস্থ্যকর ওজন বজায় রাখা, নিয়মিত শরীরচর্চা, অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা এবং প্রয়োজন ছাড়া ওষুধ বা সাপ্লিমেন্ট না খাওয়ার মতো বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ। লিভার নিয়ে কোনো উপসর্গ বা দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা থাকলে নিজে থেকে চিকিৎসা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।