১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৫:৪৭

জীবনসঙ্গী হিসাবে কে ভালো, কে খারাপ, সিদ্ধান্ত নিতে নিজেকে করুন ৩ প্রশ্ন

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

লোকে বলে, প্রেমে পড়লে অনেক সময়ে যুক্তি পিছনের সারিতে চলে যায়। মানুষটির হাসি, কথা বলার ধরন, যত্ন নেওয়া কিংবা একসঙ্গে কাটানো সুন্দর মুহূর্তইগুলিতেই মোহিত হয়ে থাকে অধিকাংশ। কিন্তু প্রেমের সম্পর্ক যখন দীর্ঘ জীবনের সঙ্গীতে পরিণত হতে চলেছে, তখন শুধু আকর্ষণ বা রোম্যান্টিক রসায়ন যথেষ্ট কি? জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কিছু বিষয় দেখা জরুরি।

অভিনেত্রী ভাগ্যশ্রী সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে একটি পোস্টে সেই কথাই মনে করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর পরামর্শ— প্রেমের জোয়ারে ভেসে না গিয়ে বরং একটু থেমে, যুক্তিবাদী ও দূরদৃষ্টি হয়ে ভেবেচিন্তে জীবনসঙ্গী বেছে নেওয়া দরকার। বিশেষ করে কোনও মানুষকে বিয়ের জন্য বেছে নেওয়ার আগে তিনটি বিষয় খতিয়ে দেখা দরকার।

১. শুধু আনন্দের সময়ে নয়, কঠিন সময়ে মানুষটি কেমন?
কারও চেহারা, ব্যক্তিত্ব বা প্রথম দেখার আকর্ষণ সহজেই মুগ্ধ করতে পারে। কিন্তু সম্পর্ক দীর্ঘস্থায়ী হবে কি না, তা বোঝার জন্য শুধু সুন্দর সময় নয়, জরুরি কঠিন সময়গুলি খতিয়ে দেখা দরকার। রাগ, হতাশা, সমালোচনা বা কোনও কঠিন পরিস্থিতির মুখে তাঁর আচরণ কেমন— সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম দিকের তীব্র আকর্ষণ বা প্রেমের উন্মাদনা সম্পর্কের শুরুটা সুন্দর করতে পারে। কিন্তু ধীরে ধীরে সম্পর্কে আবেগ নিয়ন্ত্রণ, পরিণত মানসিকতা এবং পারস্পরিক বোঝাপড়া অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তাই বিয়ের আগে নিজেকে প্রশ্ন করুন— মানুষটি রেগে গেলে কী করেন? ভুল হলে স্বীকার করতে পারেন? মতের অমিল হলে অপমান করেন, না কি আলোচনা করেন? আপনার সাফল্য বা ব্যর্থতার সময়ে তাঁর আচরণ কি একই রকম থাকে?

২. পছন্দ এক হলেই হবে না, মূল্যবোধও মিলছে কি?
একই সিনেমা দেখা, একই গান পছন্দ করা, একই ধরনের খাবার খাওয়া বা একই শখ থাকা সম্পর্ককে আনন্দের করে তুলতে পারে। কিন্তু সংসারের ভিত তৈরি হয় আরও গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে। অর্থনৈতিক পরিস্থিতি কী ভাবে সামলাবেন, পরিবারকে কতটা গুরুত্ব দেবেন, সন্তানের জন্ম নিয়ে সম্পর্কে কী ভাবেন, কর্মজীবন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষার জায়গাটা কেমন হবে— এই মৌলিক বিষয়গুলিতে দু’জনের দৃষ্টিভঙ্গি কতটা কাছাকাছি, তা জানা জরুরি। কারণ, শখ আলাদা হওয়া নিয়ে হয়তো মাঝেমধ্যে ঠাট্টা-মস্করা করা যায়, কিন্তু অর্থনৈতিক সিদ্ধান্ত, পরিবার বা সন্তানপালনের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সম্পূর্ণ বিপরীত মেরুতে অবস্থান করলে ভবিষ্যতে দ্বন্দ্ব তৈরি করতে পারে। জীবন সম্পর্কে সঙ্গীর সঙ্গে আপনার মৌলিক বিশ্বাসগুলি এক কি না, তা দেখা দরকার।

৩. একা থাকলে মানুষটি কেমন?
ভাগ্যশ্রীর তৃতীয় পরামর্শটি হয়তো সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ— কেউ যখন একা থাকেন, তখন তিনি কেমন মানুষ, তা বোঝার চেষ্টা করুন। কারও সামনে ভাল ব্যবহার করা তুলনামূলক সহজ। কিন্তু একা থাকলে নিজের আবেগ, ব্যর্থতা, হতাশা বা অস্বস্তিকে তিনি কী ভাবে সামলান, সেটাই তাঁর মানসিক পরিণতিকে অনেকটা প্রকাশ করে। নিজের সম্পর্কে কী ধারণা, ব্যর্থতার সঙ্গে কী ভাবে মোকাবিলা করেন ইত্যাদি— এই বিষয়গুলির দিকে নজর দেওয়া জরুরি। যে মানুষ নিজের আবেগ সম্পর্কে সচেতন, নিজের ভুল বা দুর্বলতা নিয়ে ভাবতে পারেন, তিনি সাধারণত সঙ্গীর উপর নিজের সমস্ত সমস্যা চাপিয়েও দেন না।