সমালোচনার মুখে নাম বদলে ‘র্যাম অল্টম্যান’ করলেন স্যাম অল্টম্যান
র্যাম নিয়ে ওপেনেএআই উদ্যোক্তা স্যাম অল্টম্যানের একটি মন্তব্য যেন তোলপাড় হয়ে গেল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির জন্য কম্পিউটারের র্যাম ব্যবহারের বিষয়ে মন্তব্য করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার মুখে পড়েছেন স্যাম। এর পর এক্সে নিজের অ্যাকাউন্টের নাম বদলে ‘র্যাম অল্টম্যান’ করেছেন তিনি। সোশ্যল মিডিয়ায় হওয়া ট্রলের জবাবে মজা করেই নাম পরিবর্তন করেন এই প্রযুক্তি উদ্যোক্তা।
সম্প্রতি ‘চেকি পিন্ট’ পডকাস্টে কম্পিউটারের র্যান্ডম অ্যাকসেস মেমোরি (র্যাম) নিয়ে কথা বলেন অল্টম্যান। তার মন্তব্যের পর ব্যক্তিগত কম্পিউটারে বেশি পরিমাণ র্যাম ব্যবহারের অধিকার নিয়ে প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
অল্টম্যানের বক্তব্য ছিল, বিশ্বজুড়ে র্যামের সরবরাহ সীমিত থাকলে ব্যক্তিগত ডেস্কটপ ও ল্যাপটপে বিপুল পরিমাণ ডিআরএএম বরাদ্দ করা কতটা কার্যকর, তা বিবেচনা করা দরকার। তার মতে, ব্যক্তিগত কম্পিউটারে থাকা র্যামের বড় একটি অংশ অনেক সময় অব্যবহৃত থাকে। এর পরিবর্তে ক্লাউড কম্পিউটিং বেশি কার্যকর হতে পারে। বড় ডেটা সেন্টারগুলো একাধিক ব্যবহারকারীর মধ্যে কম্পিউটিং সক্ষমতা ভাগ করে দিতে পারে।
তবে তার এই বক্তব্য ভালোভাবে নেননি অনেক কম্পিউটার ব্যবহারকারী। তারা মনে করেন, অল্টম্যান ব্যক্তিগত কম্পিউটারে ব্যবহারকারীদের ইচ্ছামতো র্যাম কেনা ও ব্যবহারের অধিকারের প্রশ্ন তুলেছেন। পরে বিষয়টি প্রযুক্তি ফোরাম ছাড়িয়ে এক্সেও ছড়িয়ে পড়ে। সেখানে অল্টম্যানকে নিয়ে নানা ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট করা হয়।
এ নিয়ে আলোচনায় যোগ দেন টেসলার প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্কও। এক্সে তিনি লেখেন, ‘মানুষেরও তাদের র্যাম পাওয়ার অধিকার আছে!’ আরেকটি পোস্টে অল্টম্যানের মন্তব্যের সমালোচনার জবাবে তিনি লেখেন, ‘সত্যিই।’
একপর্যায়ে এক্সের এক ব্যবহারকারী অল্টম্যানকে নিজের নাম ‘র্যাম অল্টম্যান’ করার পরামর্শ দেন। সেই প্রস্তাব গ্রহণ করে অ্যাকাউন্টের নাম পরিবর্তন করেন তিনি। তবে একই সঙ্গে নিজের আগের বক্তব্যের ব্যাখ্যাও দেন।
অল্টম্যান জানান, তিনি বরং বিশ্বজুড়ে র্যামের সরবরাহ বাড়ানোর পক্ষে। মানুষ যেন নিজেদের কম্পিউটারে প্রয়োজনমতো র্যাম ব্যবহার করতে পারেন, সেটিও চান তিনি। এক্সে তিনি লেখেন, ‘আমি আসলে চাই, বিশ্বজুড়ে প্রচুর মেমোরি থাকুক এবং মানুষ তাদের কম্পিউটারে ইচ্ছামতো র্যাম ব্যবহার করতে পারুক। আমার বক্তব্যকে প্রসঙ্গের বাইরে নিয়ে যাওয়াটা সত্যিই বিরক্তিকর।’
তিনি আরও বলেন, বিশ্বজুড়ে মেমোরি উৎপাদন বাড়ানোর পক্ষে তিনি দীর্ঘদিন ধরেই কথা বলে আসছেন। নাম পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের রসিকতায় অংশ নেওয়ার পাশাপাশি নিজের অবস্থানও পরিষ্কার করেছেন তিনি।
র্যাম নিয়ে এত আলোচনা কেন
এআই প্রযুক্তির দ্রুত বিস্তারের কারণে মেমোরি চিপের চাহিদা বাড়ছে। এআই পরিচালনার জন্য বড় ডেটা সেন্টারগুলোতে বিপুল পরিমাণ উন্নত মেমোরি প্রয়োজন হয়। এতে বিশ্ববাজারে মেমোরি চিপের সরবরাহ ও দামের ওপর চাপ তৈরি হচ্ছে।
এর প্রভাব পড়ছে স্মার্টফোন ও কম্পিউটারের বাজারেও। স্যামসাং, ওয়ানপ্লাস ও অপোর মতো স্মার্টফোন নির্মাতারা যন্ত্রাংশের দাম বাড়ার কারণে পণ্যের দাম সমন্বয় করেছে। কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোও বাড়তি উৎপাদন খরচের মুখে পড়ছে। এইচপি জানিয়েছে, ল্যাপটপ তৈরির মোট খরচের মধ্যে মেমোরির অংশ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
ফলে এআই প্রযুক্তির জন্য বাড়তি মেমোরির চাহিদা এবং সাধারণ গ্রাহকদের কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের প্রয়োজন—এই দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে রাখা হবে, তা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। স্যাম অল্টম্যানের নাম পরিবর্তন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হাস্যরস তৈরি হলেও এর পেছনে রয়েছে প্রযুক্তি খাতের বড় একটি সংকট।