অস্ট্রেলিয়ার সরকারি ওয়েবসাইট হ্যাকের অভিযোগ চ্যাটজিপিটির বিরুদ্ধে
অস্ট্রেলিয়ার সরকারি স্বাস্থ্যব্যবস্থার মেডিকেয়ার পরিসংখ্যানবিষয়ক পোর্টালে ওপেনএআইয়ের একটি এআই এজেন্ট অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। গত জুনে এ ঘটনা ঘটলেও প্রায় তিন মাস পর অস্ট্রেলিয়া সরকারকে বিষয়টি জানায় ওপেনএআই। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ঘটনাটিকে ‘অগ্রহণযোগ্য’ উল্লেখ করে জরুরি তদন্তের ঘোষণা দিয়েছেন। খবর গার্ডিয়ানের
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনে অংশ নিতে নিউইয়র্কে থাকা অবস্থায় এ ঘটনা প্রকাশ্যে আনেন। তিনি জানান, ওপেনএআইয়ের এআই এজেন্ট মেডিকেয়ার স্ট্যাটিস্টিকস রিপোর্টিং সার্ভিস পোর্টালে থাকা প্রকাশ্য ও অপ্রকাশ্য কিছু ফাইলে অননুমোদিতভাবে প্রবেশ করে। পোর্টালটি অস্ট্রেলিয়ার সরকারি সংস্থা সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার অধীনে পরিচালিত হয়।
তবে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া যায়নি। সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার পুরো নেটওয়ার্কও আক্রান্ত হয়নি বলে জানিয়েছেন আলবানিজ। বিষয়টি নিশ্চিত করতে অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটের সহায়তায় ফরেনসিক তদন্ত চলছে।
ওপেনএআইয়ের এজেন্টটি মূলত অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য ও চিকিৎসাবিষয়ক পরিসংখ্যান সংগ্রহের একটি অভ্যন্তরীণ কাজ করছিল। ওই কাজের সময় এজেন্টটি নির্ধারিত সীমার বাইরে গিয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করে। ওপেনএআই জানিয়েছে, তাদের প্রাথমিক পর্যালোচনায় মডেলগুলো এমন কিছু পদক্ষেপ নিয়েছিল, যা তাদের প্রত্যাশিত ছিল না।
ঘটনাটি শুধু মেডিকেয়ারেই সীমাবদ্ধ ছিল কি না, তা নিয়েও তদন্ত চলছে। অস্ট্রেলিয়ার স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত আরও কয়েকটি সরকারি ব্যবস্থায় একই ধরনের এআই কার্যক্রমের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ান ইনস্টিটিউট অব হেলথ অ্যান্ড ওয়েলফেয়ার, ভিক্টোরিয়া ডিপার্টমেন্ট অব হেলথ এবং নিউ সাউথ ওয়েলস ব্যুরো অব ক্রাইম স্ট্যাটিসটিকস অ্যান্ড রিসার্চের সিস্টেমও রয়েছে। তবে এসব ঘটনায় কোন কোন তথ্য অননুমোদিতভাবে দেখা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত এখনো চলছে।
সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন উঠেছে ঘটনাটি জানাতে ওপেনএআইয়ের দেরি করা নিয়ে। কোম্পানিটি আগস্টে এআই এজেন্টের অননুমোদিত প্রবেশের বিষয়টি জানতে পারে। এরপর ১০ সেপ্টেম্বর একটি সাধারণ সরকারি ই-মেইল ঠিকানায় বিষয়টি জানানো হয়। ওই ই-মেইল পরদিন পড়া হয়। পরে ১৫ সেপ্টেম্বর সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়া অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেটকে জানায় এবং ১৭ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীকে অবহিত করা হয়।
আলবানিজ বলেন, সরকারকে বিষয়টি জানাতে ওপেনএআইয়ের ‘অনেক বেশি সময়’ লেগেছে। তিনি কোম্পানিটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে কথা বলে এ ঘটনায় অস্ট্রেলিয়ার ‘চরম উদ্বেগের’ কথা জানিয়েছেন।
এ ঘটনার পর অস্ট্রেলিয়া সরকার একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে। এতে জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা সমন্বয়কারী, অফিস অব এআই, অস্ট্রেলিয়ান সিগন্যালস ডিরেক্টরেট, অস্ট্রেলিয়ান এআই সেফটি ইনস্টিটিউট ও সার্ভিসেস অস্ট্রেলিয়ার প্রতিনিধিরা রয়েছেন। এআই-সম্পর্কিত সাইবার হামলার তথ্য জানানোর নিয়ম, সরকারি কর্মকর্তাদের দায়িত্ব, এআই কোম্পানিগুলোর ভবিষ্যৎ রিপোর্টিং বাধ্যবাধকতা এবং বিদ্যমান আইন যথেষ্ট কি না—এসব বিষয় তদন্ত করা হবে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী রিচার্ড মার্লেস বলেছেন, ঘটনার সরাসরি প্রভাব তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও বিষয়টি গুরুতর সতর্কবার্তা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তির চিকিৎসা তথ্য এতে প্রবেশ করা হয়নি এবং মেডিকেয়ার ব্যবস্থাও সামগ্রিকভাবে আক্রান্ত হয়নি।
অস্ট্রেলিয়ার এআই নীতিনির্ধারণে এ ঘটনা নতুন করে নিরাপত্তা ও জবাবদিহির প্রশ্ন সামনে এনেছে। দেশটির সরকার এআই প্রযুক্তির সম্ভাবনার পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় এআই ব্যবস্থার অননুমোদিত কর্মকাণ্ড ঠেকাতে আরও শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা পর্যালোচনা করছে।