০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২৮

চ্যাটজিপিটিকেই প্রশ্ন—‘চ্যাটজিপিটি কি ডাউন?’ মিলছিল না সাড়া, ৩০মিনিটে অভিযোগ ৭৪ হাজার

চ্যাটজিপিটি   © টিডিসি ছবি

‘চ্যাটজিপিটি কি ডাউন?’—বৃহস্পতিবার সকালে ব্যবহারকারীদের মধ্যে ঘুরপাক খেতে থাকে এই প্রশ্ন। কারণ, উত্তর দেওয়ার জন্য তৈরি চ্যাটজিপিটিই তখন অনেক ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিল না। অল্প সময়ের মধ্যে সমস্যার অভিযোগ ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়। মাত্র তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বার বড় ধরনের বিভ্রাটের মুখে পড়ল চ্যাটজিপিটি।

যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় সকাল ৭টা ৫৩ মিনিটে বিভ্রাট পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট ডাউনডিটেক্টরে চ্যাটজিপিটি নিয়ে ৫ হাজারের বেশি অভিযোগ জমা পড়ে। মাত্র ১০ মিনিটের মধ্যে সেই সংখ্যা ২২ হাজার ছাড়িয়ে যায়। সকাল ৮টা ২৩ মিনিটে; ৩০ মিনিটের মাঝেই অভিযোগের সংখ্যা ৭৪ হাজার ছাড়িয়ে যায়।

অভিযোগ দ্রুত বাড়লেও শুরুতে ওপেনএআইয়ের স্ট্যাটাস পেজে কোনো সমস্যার তথ্য দেখা যায়নি। একই সময়ে ‘Is ChatGPT down?’ বা ‘চ্যাটজিপিটি কি ডাউন?’—এমন সার্চও দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পরে সকাল ৭টা ৫৮ মিনিটে ওপেনএআই জানায়, চ্যাটজিপিটি ও তাদের এআই কোডিং সেবা কোডেক্সে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ত্রুটি দেখা দিয়েছে।

সকাল ৮টা ২২ মিনিটে ওপেনএআই জানায়, তারা সমস্যা কমাতে একটি ব্যবস্থা নিয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। তাদের প্রকাশিত ঘটনার বিবরণে চ্যাটজিপিটির ১৫টি এবং কোডেক্সের চারটি উপাদান আক্রান্ত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

তবে বিভ্রাটের কারণে সবার জন্য চ্যাটজিপিটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়নি। কেউ ধীরগতির উত্তর পেয়েছেন, কেউ প্রশ্ন পাঠানোর পর কোনো ফলাফল পাননি, আবার কারও ক্ষেত্রে সেবাটি লোডই হয়নি। অনেক ব্যবহারকারীর জন্য প্ল্যাটফর্মটির বিশেষ ‘ওয়ার্ক মোড’ও অচল হয়ে পড়ে। এতে বিশেষ করে চ্যাটজিপিটি প্লাস গ্রাহকেরা সমস্যায় পড়েন।

ওপেনএআইয়ের স্ট্যাটাস পেজে প্রতিষ্ঠানটি বলেছে, ‘চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক মোডে উচ্চমাত্রার ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি।’

ডাউনডিটেক্টরের তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১৩ হাজার ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তাদের মধ্যে ৭৭ শতাংশ চ্যাটজিপিটি প্ল্যাটফর্ম, ১০ শতাংশ কোডেক্স এবং ৭ শতাংশ অ্যাপ নিয়ে অভিযোগ করেছেন। ভারতে ৪০০-এর বেশি ব্যবহারকারী চ্যাটজিপিটি, ওয়েব ব্রাউজার ও ওয়েবসাইট নিয়ে সমস্যার কথা জানিয়েছেন।

ডাউনডিটেক্টরে প্রকাশিত অভিযোগের সংখ্যা সমস্যায় পড়া মানুষের নিশ্চিত সংখ্যা নয়। এটি ব্যবহারকারীদের জমা দেওয়া অভিযোগের হিসাব। বড় অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের আংশিক বিভ্রাটে নির্দিষ্ট অঞ্চল, অ্যাকাউন্ট বা ফিচার আক্রান্ত হতে পারে।

গত ৩১ আগস্টও চ্যাটজিপিটির ‘ওয়ার্ক মোড’ নিয়ে বড় ধরনের সমস্যা হয়েছিল। ওই সময় চ্যাটজিপিটি প্লাস গ্রাহকেরা নতুন কাজ শুরু করতে সমস্যায় পড়েন এবং সেবাটিতে ধীরগতি ও ত্রুটি দেখা দেয়। ডাউনডিটেক্টরে সেদিন যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো, গ্রিস, যুক্তরাজ্য, জাপান, ভারত ও অস্ট্রেলিয়া থেকে দুই হাজারের বেশি অভিযোগ আসে। একই দিনে মাইক্রোসফট ৩৬৫-এর কয়েকটি সেবাতেও সমস্যা দেখা দিয়েছিল।

এর আগে গত ২৭ আগস্টও চ্যাটজিপিটি ওয়ার্ক এবং মোবাইল ও ওয়েব সংস্করণের ওয়ার্কস্পেস এজেন্টগুলোতে স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি ত্রুটির কথা জানিয়েছিল ওপেনএআই। ফলে সাত দিনের মধ্যে এটি প্ল্যাটফর্মটির পঞ্চম এবং তিন দিনের মধ্যে দ্বিতীয় বড় ধরনের বিভ্রাট।

ওপেনএআই এখনো সর্বশেষ সমস্যার সঠিক কারণ জানায়নি। বিভ্রাট পুরোপুরি শেষ হয়েছে কি না, সেটিও নিশ্চিত করেনি। তবে ঘটনাটি দেখিয়ে দিয়েছে, কাজ, পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনে চ্যাটজিপিটির ওপর মানুষের নির্ভরতা কতটা বেড়েছে। সেবাটি হঠাৎ অচল হয়ে পড়ায় অল্প সময়ের মধ্যেই হাজারো ব্যবহারকারী সমস্যার মুখে পড়েন।