১৩ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৮

বাংলাদেশের ১ কোটি ৩২ লাখের বেশি ভিডিও সরিয়েছে টিকটক, বিশ্বে কত?

জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক  © সংগৃহীত

চলতি বছরের প্রথম তিন মাসে (জানুয়ারি–মার্চ) বাংলাদেশ থেকে ১ কোটি ৩২ লাখ ১৮ হাজার ৪টি ভিডিও সরিয়েছে জনপ্রিয় শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্ম টিকটক। কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের অভিযোগে এসব ভিডিও অপসারণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। টিকটকের ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকের (কিউ১ ২০২৬) কমিউনিটি গাইডলাইনস এনফোর্সমেন্ট রিপোর্ট (সিজিইআর)-এ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে অপসারণ করা ভিডিওগুলোর ৯৯ দশমিক ৬ শতাংশ ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর আগেই টিকটকের স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়। এছাড়া ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ ভিডিও আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই প্ল্যাটফর্ম থেকে সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), মেশিন লার্নিং এবং মানব পর্যালোচনার সমন্বয়ে ক্ষতিকর কনটেন্ট দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হওয়ায় এই উচ্চ হার বজায় রাখা যাচ্ছে। তবে শুরুতে অপসারণ করা সব ভিডিও স্থায়ীভাবে মুছে ফেলা হয়নি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পরবর্তী পর্যালোচনায় ৩ লাখ ২০ হাজার ৫৯৩টি ভিডিও পুনর্বহাল করা হয়েছে। অর্থাৎ, যাচাই-বাছাই শেষে যেসব ভিডিওকে কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনকারী হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, সেগুলো আবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যেসব কারণে ভিডিও সরানো হয়
টিকটকের কমিউনিটি গাইডলাইন অনুযায়ী, ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সহিংসতা বা সহিংসতায় উসকানি, ঘৃণাত্মক বক্তব্য, হয়রানি ও বুলিং, শিশুদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন কনটেন্ট, যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ বা নগ্নতা-সংবলিত ভিডিও, আত্মহত্যা বা আত্মক্ষতির প্রচার, বিপজ্জনক কর্মকাণ্ড বা চ্যালেঞ্জ, ভুয়া তথ্য ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট, প্রতারণা, স্প্যাম এবং গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা নীতিমালা লঙ্ঘনকারী কনটেন্ট সরিয়ে ফেলা হয়। এসব কনটেন্ট শনাক্তে টিকটক স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তির পাশাপাশি মানব পর্যালোচনারও সহায়তা নেয়।

বিশ্বজুড়ে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ভিডিও অপসারণ
একই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের প্রথম প্রান্তিকে বিশ্বজুড়ে ১৮ কোটি ৪০ লাখ ১২ হাজার ৫৭৬টি ভিডিও কমিউনিটি গাইডলাইন লঙ্ঘনের কারণে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। এটি ওই সময়ে প্ল্যাটফর্মে আপলোড হওয়া মোট কনটেন্টের প্রায় ০.৫ শতাংশ। 

আরও পড়ুন: আর্জেন্টিনার ম্যাচের আগে যে বাড়তি সুবিধা পাচ্ছে ইংল্যান্ড

এর মধ্যে ১৭ কোটি ৮০ লাখ ১৪ হাজার ১৫৪টি ভিডিও স্বয়ংক্রিয় শনাক্তকরণ প্রযুক্তির মাধ্যমে অপসারণ করা হয়েছে। পরে পর্যালোচনার পর ৮৮ লাখ ৩৮ হাজার ৭১০টি ভিডিও পুনর্বহাল করা হয়।

এছাড়া বিশ্বব্যাপী ৯৯ দশমিক ৩ শতাংশ নীতিমালাবিরোধী ভিডিও ব্যবহারকারীদের অভিযোগ পাওয়ার আগেই শনাক্ত করা হয়েছে। অপসারণ করা ভিডিওগুলোর ৯৪ দশমিক ৪ শতাংশ আপলোডের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

নিরাপদ প্ল্যাটফর্ম গড়ার লক্ষ্য
টিকটকের দাবি, সৃজনশীলতা প্রকাশের স্বাধীনতা বজায় রেখেই ব্যবহারকারীদের জন্য নিরাপদ ও ইতিবাচক একটি ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করতে তারা নিয়মিত কনটেন্ট মডারেশন প্রযুক্তির উন্নয়ন করছে। পাশাপাশি ভুলবশত কোনো ভিডিও অপসারণ করা হলে ব্যবহারকারীরা আপিলের সুযোগ পান। পরে মানব পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

প্রতিষ্ঠানটির মতে, আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবিক পর্যালোচনার সমন্বয়ে ক্ষতিকর কনটেন্টের বিস্তার কমিয়ে ব্যবহারকারীদের জন্য আরও নিরাপদ ও দায়িত্বশীল একটি প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলাই লক্ষ্য।