শব্দহীন সুপারসনিক বিমান তৈরিতে বড় চমক দেখাল নাসা
ভাবুন তো আপনি ঘুমাচ্ছেন আর আপনার বাড়ির ছাদের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ১২০০ কিলোমিটার বেগে উড়ে গেল একটি বিমান। চলতি বিমানের মতো কোনো শব্দ না করে প্রচণ্ড গতিতে উড়ার সক্ষম বিমান তৈরিতে আশার আলেঅ দেখেছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। শব্দের চেয়েও দ্রুতগতিতে ওড়ার নতুন রেকর্ড গড়ল মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার পরীক্ষামূলক বিমান ‘এক্স-৫৯’ ।
এই প্রথম বিমানটি শব্দের গতিসীমা অতিক্রম করল, যা শব্দহীন সুপারসনিক বিমান প্রযুক্তির উন্নয়নে একটি বড় মাইলফলক। ক্যালিফোর্নিয়ার এডওয়ার্ডস এয়ার ফোর্স বেস থেকে নাসার টেস্ট পাইলট জিম ক্লু লেস বিমানটি নিয়ে উড্ডয়ন করেন। ৮১ মিনিটের এই পরীক্ষামূলক ফ্লাইটে বিমানটি সর্বোচ্চ প্রায় ১.১ ম্যাক (ঘণ্টায় ১,১৪৭ কিলোমিটার) গতিবেগ এবং ১৩,২২৮ মিটার উচ্চতা স্পর্শ করে। খবর ইউরো নিউজের
গেল বছরের ২৮ অক্টোবর প্রথম উড্ডয়নের পর থেকে গত ৯০ দিনে এক্স-৫৯ বিমানটি মোট ১৬ বার আকাশে উড়েছে। নাসা প্রধান জ্যারেড আইজ্যাকম্যান এই সাফল্যে নাসা ও লকহিড মার্টিন স্কঙ্ক ওয়ার্কস টিমকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘নাসার 'এক্স-প্লেন' পোর্টফোলিও পুনর্গঠনে এটি একটি দারুণ যৌথ প্রয়াস। সাধারণত কোনো বিমান শব্দের চেয়ে দ্রুতগতিতে চললে প্রচণ্ড শব্দ বা সনিক বুম তৈরি হয়, কিন্তু এক্স-৫৯ বিমানটিকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে যাতে এটি কোনো জোরালো শব্দ ছাড়াই সাইলেন্ট থাম্প বা মৃদু কম্পন তৈরি করে উড়ে যেতে পারে।
এবারের ফ্লাইটে এক্স-৫৯ বিমানটিকে পর্যবেক্ষণ করতে পাশে একটি নাসার এফ-১৫ চেজ বিমানও উড়েছিল। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই বিমানটি তার আসল মিশন কন্ডিশন ফ্লাইটের প্রস্তুতি নিচ্ছে, যেখানে এটি ১.৪ ম্যাক (ঘণ্টায় ১,৪৮৯ কিলোমিটার) গতিতে এবং প্রায় ১৬,৭৬৪ মিটার উচ্চতায় উড়বে। আমেরিকার বিভিন্ন লোকালয়ের ওপর দিয়ে এই বিমানটি উড়িয়ে মানুষের ওপর এর মৃদু শব্দের প্রভাব কেমন হয়, সেই ডেটা সংগ্রহ করাই নাসার মূল লক্ষ্য। পরবর্তীতে এই তথ্য মার্কিন ও আন্তর্জাতিক নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কাছে হস্তান্তর করা হবে, যা ভবিষ্যতে বাণিজ্যিক সুপারসনিক বিমানের জন্য নতুন বৈশ্বিক শব্দ নীতিমালা তৈরিতে সাহায্য করবে।