২৬ মে ২০২৬, ১৩:১৪

ভি-সাইন দেখিয়ে ছবি তুলছেন? আপনার জন্য অপেক্ষা করছে যে বিপদ

ভি-সাইন   © সংগৃহীত

ভিকট্রি সাইন বা ‘ভি-সাইন’ দেখিয়ে ছবি তোলার অভ্যাস এখন অনেকের কাছেই সাধারণ বিষয়। তবে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অভ্যাসই ডেকে আনতে পারে বড় ধরনের বিপদ। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি ব্যবহার করে সাধারণ একটি সেলফি থেকেও আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করতে পারে হ্যাকাররা। ফলে ব্যক্তিগত ও বায়োমেট্রিক তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।

নিরাপত্তা গবেষকেরা ইতোমধ্যে সমাজমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন তারকার সেলফি বিশ্লেষণ করে দেখিয়েছেন, ছবি থেকে আঙুলের ছাপ সংগ্রহ করা সম্ভব। তাঁদের মতে, একটি সাধারণ ‘ভি-সাইন’ ছবিতেও এমন অনেক তথ্য থেকে যায়, যা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিগত তথ্য হাতিয়ে নিতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, যদি আঙুলের ডগা সরাসরি ক্যামেরার দিকে থাকে এবং ছবি ১ দশমিক ৫ মিটারের মধ্যে থেকে তোলা হয়, তাহলে আঙুলের ছাপের তথ্য স্পষ্টভাবে বের করে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হয়ে যায়। এমনকি ১ দশমিক ৫ থেকে ৩ মিটার দূর থেকে তোলা ছবিতেও আঙুলের ছাপের প্রায় অর্ধেক তথ্য পাওয়া সম্ভব।

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা জানিয়েছেন, উন্নত ছবি সম্পাদনা প্রযুক্তি ও কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে ঝাপসা বা অস্পষ্ট আঙুলের ছাপকেও পরিষ্কার করা যায়। ফলে নিম্নমানের বা কম রেজল্যুশনের ছবিও বিস্তারিত বায়োমেট্রিক তথ্যে পরিণত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আঙুলের ছাপ, মুখের গঠন বা অন্যান্য বায়োমেট্রিক তথ্য স্থায়ী ধরনের তথ্য। একবার ফাঁস হলে তা পরিবর্তন করা যায় না। তাই এসব তথ্য চুরি হলে পরিচয় জালিয়াতি, ব্যাংকিং প্রতারণা কিংবা আর্থিক ক্ষতির মতো বড় ধরনের সমস্যার মুখে পড়তে পারেন ব্যবহারকারীরা।

সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের দাবি, আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় মদতপুষ্ট কিছু হ্যাকার গোষ্ঠীও এ ধরনের তথ্যচুরির সঙ্গে জড়িত। বিশেষ করে ওপেনএআই, গুগলের জেমিনি এবং ক্লডের মতো বাণিজ্যিক এআই মডেল ব্যবহার করে বড় পরিসরে তথ্যচুরির চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।