ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রকে চাপে ফেলতে যেভাবে প্রযুক্তির ব্যবহার করছে ইরান
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে রক্ষা পেতে ইসরায়েলি নাগরিকরা যখন নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছিলেন, তাদের অ্যান্ড্রয়েড ফোনে তখন একটি খুদে বার্তা আসে। বার্তায় আশপাশে থাকা নিরাপদ আশ্রয়ের রিয়েল-টাইম তথ্যের একটি লিংক দেওয়া ছিল। কিন্তু ওই লিংকে ক্লিক করতেই ফোনে একটি স্পাইওয়্যার ডাউনলোড হয়ে যায়। এর মাধ্যমে হ্যাকারদের কাছে ব্যবহারকারীর ক্যামেরা, লোকেশন এবং সমস্ত ব্যক্তিগত তথ্যের নিয়ন্ত্রণ চলে যায়।
ইরানের পক্ষ থেকে চালানো এই সুপরিকল্পিত স্পাইওয়্যার হামলা সাইবার যুদ্ধের এক নতুন দিক উন্মোচন করেছে। যুদ্ধের ময়দানে এর প্রভাব নগণ্য হলেও এটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলার একটি বড় হাতিয়ার।
সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান চেক পয়েন্ট রিসার্চের কর্মকর্তা গিল মেসিং জানান, এই ভুয়া বার্তাগুলো ঠিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার সময়ের সঙ্গে মিলিয়ে পাঠানো হয়েছিল। মানুষ যখন প্রাণ বাঁচাতে নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তে তাঁদের কাছে এই বার্তা পৌঁছেছে। ডিজিটাল এবং ফিজিক্যাল অ্যাটাকের এমন নিখুঁত সমন্বয় আমরা আগে দেখিনি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুদ্ধবিরতি হলেও এই ডিজিটাল লড়াই থামার সম্ভাবনা কম। কারণ, প্রচলিত যুদ্ধের তুলনায় সাইবার যুদ্ধ অনেক বেশি সস্তা এবং সহজ। এর লক্ষ্য কেবল ধ্বংস করা নয়, বরং নজরদারি ও তথ্য চুরির পাশাপাশি জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। ইরান-সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা গত কয়েক মাসে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরায়েলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রায় ৫ হাজার ৮০০টি সাইবার হামলা চালিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক নিরাপত্তা সংস্থা ডিজিসার্টের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০টি ভিন্ন ভিন্ন গোষ্ঠী এসব হামলার পেছনে কাজ করেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের হ্যাকারদের বিরুদ্ধেও সাইবার হামলার ঘটনা ঘটেছে।
ইরানের করা এসব হামলাকে আরও সহজ করে তুলেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই। বিশেষ করে জনমনে বিভ্রান্তি ছড়াতে এআইয়ের ভূমিকা এখন প্রশ্নাতীত। সম্প্রতি ইরানের হামলায় মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ডুবে যাওয়ার একটি ডিপফেক ছবি ছড়িয়ে পড়ে অনলাইনে। বাস্তবে না ঘটলেও ইতিমধ্যে ১০ কোটির বেশি মানুষ ছবিটি দেখেছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) পরিচালক ক্যাশ প্যাটেলের ব্যক্তিগত ই–মেইল হ্যাকের (নিয়ন্ত্রণে নেওয়া) দাবি করেছে ইরান–সংশ্লিষ্ট হ্যাকাররা। প্যাটেলের কিছু ছবি ও নথিপত্র ইন্টারনেটে প্রকাশ করেছে তারা। যুদ্ধের ময়দানে এর প্রভাব নগণ্য হলেও এটি মনস্তাত্ত্বিক লড়াইয়ে বিপক্ষকে চাপে ফেলার একটি বড় হাতিয়ার।