কারিগরিতে নারী শিক্ষক-শিক্ষার্থী এখনো ৩০ শতাংশের নিচে
কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষায় নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি অর্জিত হয়নি। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী থেকে শুরু করে শিক্ষকতা উভয় ক্ষেত্রেই নারীদের উপস্থিতি এখনো ৩০ শতাংশের নিচে। সম্প্রতি প্রকাশিত বাংলাদেশ শিক্ষাতথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর (ব্যানবেইস) ‘বাংলাদেশ শিক্ষা পরিসংখ্যান ২০২৫’ প্রতিবেদনে এ চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা খাতে মোট শিক্ষার্থী ১৩ লাখ ৫৭ হাজার ৮৯৪ জন। এর মধ্যে ছাত্রী সংখ্যা ৪ লাখ ৩ হাজার ৪৫৮ জন বা ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ। বিপরীতে ছাত্রের সংখ্যা ৯ লাখ ৫৪ হাজার ৪৩৬ জন।
অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষায় নারী শিক্ষকের সংখ্যাও আশানুরূপ নয়। ২০২৫ সালে এই খাতে মোট শিক্ষক ছিলেন ৫০ হাজার ৫৮৯ জন। তাদের মধ্যে পুরুষ শিক্ষক ৩৭ হাজার ৩৪৭ জন হলেও নারী শিক্ষক ছিলেন মাত্র ১৩ হাজার ২৪২ জন যা মোট শিক্ষকের ২৬ দশমিক ১৮ শতাংশ।
সরকারিতে অংশগ্রহণের হারও কম
সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি প্রতিষ্ঠানে নারীদের অংশগ্রহণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ে বেশ কম।
তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রয়েছে মোট শিক্ষার্থীর ৩২ দশমিক ৬৭ শতাংশ বা ৩ লাখ ১৩ হাজার ১৬৬ ছাত্রী। অন্যদিকে, সরকারি প্রতিষ্ঠানে মাত্র ৯০ হাজার২৯২ জন ছাত্রী। যা মোট শিক্ষার্থীর ২২ দশমিক ৬১ শতাংশ। অর্থাৎ সরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রতি ১০০ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে প্রায় ২৩ জন ছাত্রী হলেও বেসরকারিতে রয়েছে ৩৩ জন।
এদিকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মোট ৩৯,৩৫৪ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী ১০,৮৯০ জন বা ২৭ দশমিক ৬৭ শতাংশ। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানের ১১ হাজার ২৩৫ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী শিক্ষক মাত্র ২ হাজার ৩৫২ জন বা ২০ দশমিক ৯৩ শতাংশ।
যেসব খাতে নারীদের উপস্থিতি সবচেয়ে কম
কারিগরি শিক্ষায় প্রতিষ্ঠানভেদে নারী শিক্ষক ও ছাত্রীদের উপস্থিতি কম রয়েছে। বিশেষ করে সুনির্দিষ্ট কয়েকটি খাতে এই হার আশঙ্কাজনকভাবে কম।
প্রতিষ্ঠানগুলোর স্তরভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজে মোট ৪৫২টি প্রতিষ্ঠানে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৪৬২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী ২৫.৬০ শতাংশ (৪৩,৩৮০ জন)। তবে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে অবস্থা আরও নাজুক; সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজে নারী শিক্ষকের উপস্থিতি মাত্র ১৪.১৬ শতাংশ (৩,৫১১ জনের মধ্যে ৪৯৭ জন) এবং ছাত্রী ২২.২১ শতাংশ (২১,৭৯৬ জন)।
মাধ্যমিক স্তরের (এসএসসি ভোকেশনাল ও টেক্সটাইল) ৩,১১৯টি প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ৩২.৯৮ শতাংশ হলেও সরকারি খাতে তা ১৯.৯৭ শতাংশে নেমে এসেছে। এছাড়া সরকারি টেক্সটাইল ভোকেশনাল ইনস্টিটিউটের ২২১ জন শিক্ষকের মধ্যে নারী রয়েছেন মাত্র ৪৯ জন বা ২২ দশমিক ১৭ শতাংশ এবং মোট ৬,৪৩৭ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ছাত্রী মাত্র ১,৬৪২ জন ২৫ দশমিক ৫১ শতাংশ।
টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টারের (টিটিসি) ৩,৯২৩টির ৩ লাখ ৮১ হাজার ৮৩৪ জন প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে ১ লাখ ২৩,১১৭ জন ছাত্রী ৩২ দশমিক২৪ শতাংশ। এই খাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ছাত্রী ৩৩ দশমিক ২২ শতাংশ হলেও সরকারি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে তা ২৮ দশমিক৯৯ শতাংশ।
দেশের ১০ হাজার ৫২১টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সরকারি মাত্র ৭৬৬টি। সব মিলিয়ে সরকারি বা বেসরকারি কোনো খাতেই নারী শিক্ষকের উপস্থিতি মোট শিক্ষকের এক-তৃতীয়াংশ ছুঁতে পারেনি। একই অবস্থা নারী শিক্ষার্থীদেরও।