কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের ১০০টি উত্তরপত্র হারালেন শিক্ষক, ৩ দিন পর মিলল সিএনজিতে
ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের কম্পিউটার সাইন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের ইনস্ট্রাক্টর পারিজাত দেব নাথ কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের প্রায় ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে ফেলেছিলেন। সেমিস্টার ফাইনাল পরীক্ষার এসব উত্তরপত্র মূল্যায়নের জন্য বোর্ড থেকে নিয়ে আসার পর সিএনজি অটোরিকশায় ফেলে আসেন তিনি। ঘটনার পর খোঁজাখুঁজি করেও উত্তরপত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না।
তবে শেষ পর্যন্ত হারিয়ে যাওয়া সেই উত্তরপত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে। আজ বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড়ে আসার পথে ভুলক্রমে একটি সিএনজি অটোরিকশায় তিনি উত্তরপত্রগুলো ফেলে রেখে চলে যান।
এ ঘটনায় সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে উত্তরপত্র হারানোর বিষয়টি উল্লেখ করে একটি স্ট্যাটাস দেন ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক অতিথি শিক্ষক লিও মো. মেহেদী হোসাইন। স্ট্যাটাসে তিনি লেখেন, রোববার আনুমানিক রাত ১০টার দিকে মহিপাল থেকে সদর হাসপাতাল মোড়ে সিএনজিতে আসার সময় ফাইনাল পরীক্ষার ১০০টি উত্তরপত্র হারিয়ে গেছে। কেউ উত্তরপত্রগুলো পেয়ে থাকলে যোগাযোগ করার অনুরোধ জানিয়ে তিনি উপযুক্ত সম্মানি দেওয়ার কথাও উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে যোগাযোগের জন্য ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ও তার নিজের ব্যবহৃত একটি মোবাইল নম্বর দেওয়া হয়।
পরে ওই পোস্টে দেওয়া মোবাইল নম্বরে কল করে বিষয়টি জানতে চাইলে লিও মো. মেহেদী হোসাইন বলেন, ‘আমি কোথাও পলিটেকনিকের খাতা হারানোর কথা উল্লেখ করিনি।’ তিনি জানান, ফেসবুকের ওই পোস্টটি তিনি ডিলিট করে দিয়েছেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ফেনী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন তিনি।
উত্তরপত্র হারানোর তিন দিন পর বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যে সিএনজি অটোরিকশায় সেগুলো ফেলে আসা হয়েছিল, সেখান থেকেই উত্তরপত্রগুলোর সন্ধান পাওয়া গেছে।
ফেনী সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষ মো. জাহেদুল কবির খান বলেন, ‘যে সিএনজি অটোরিকশায় উত্তরপত্রগুলো রেখে এসেছিলেন, সেটির চালক সিএনজি না চালানোর কারণে আগে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। পরবর্তীত ওই সিএনজিতেই উত্তরপত্রগুলো পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান, উত্তরপত্রগুলো বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের হেফাজতে রয়েছে।’
এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত শিক্ষক পারিজাত দেবনাথের মোবাইল নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।