১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৩৮

কারিগরি শিক্ষক বদলিতে শূন্যপদের তথ্য দিতে জটিলতা, অধিদপ্তরে ভিড় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরে ভিড় প্রতিষ্ঠান প্রধানদের  © টিডিসি ফটো

কারিগরি শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রমের জন্য শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে এমপিও-টিটিএস সফটওয়্যারে জটিলতায় পড়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান। সফটওয়্যারে প্রবেশ, ই-মেইল ও প্রতিষ্ঠানের তথ্যগত সমস্যার সমাধান না পেয়ে বুধবার কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরে ছুটে আসেন তারা। 

সরেজমিনে বুধবার সকাল থেকেই কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের দপ্তরের সভাকক্ষের সামনে দেখা যায় এমন কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধানকে। দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে দপ্তরের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা প্রতিষ্ঠান প্রধানদের কেউ নিজের ভুলের কারণে তৈরি হওয়া সমস্যার সমাধান খুঁজেছেন, কেউ সফটওয়্যারের তথ্যগত অসঙ্গতি ঠিক করাতে এসেছেন। সবারই অপেক্ষা একটি নির্ভুল শূন্যপদের তালিকা তৈরি করে বদলি কার্যক্রমের পরবর্তী ধাপে যাওয়ার।

নাটোরের গুরুদাসপুরের মাহমুদপুর মোল্লাবাজার কারিগরি স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠান প্রধান মাসুদুল হকও এসেছিলেন অধিদপ্তরে। সকাল সাড়ে ৭টায় এসে পৌঁছেছেন তিনি।

সমস্যাটির কারণ হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠানকেই কিছুটা দায়ী করলেন মাসুদুল হক। তাদের প্রতিষ্ঠানের এসএসসি বিএম ও এসএসসি ভোকেশনাল, এই দুই শাখার জন্য একই জিমেইল ব্যবহার করা হয়েছিল। এমনকি প্রতিষ্ঠান প্রধানের নিজের নামের জিমেইলের সঙ্গেও প্রতিষ্ঠানের জিমেইল ব্যবহারে মিল থাকায় সফটওয়্যারে প্রবেশে সমস্যা তৈরি হয়।

মাসুদুল হক দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে  বলেন, ‘প্রবলেমটা হচ্ছে, আমরা ওই সফটওয়্যারে ঢুকতে পারতেছি না। এখানে আমাদের নিজেদেরও কিছু দোষ আছে। দেখা যাচ্ছে, আমরা প্রতিষ্ঠানের যে জিমেইল খুলেছি, নিজের নামেরও প্রতিষ্ঠান প্রধানেরও জিমেইল নাম্বার একই। আমার এসএসসি বিএম আছে, এসএসসি ভোকেশনাল আছে। কিন্তু দুইটার একই জিমেইল। যার কারণে সমস্যা।’

অধিদপ্তর থেকে দুই শাখার জন্য আলাদা জিমেইল করার নির্দেশনা ছিল। নিজের ভুলের কথাও স্বীকার করেন এই প্রতিষ্ঠানপ্রধান। তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, বলে দিছিল। কিন্তু আমরা হয়ত ওভাবে বুঝতে পারিনি। প্রথম প্রথম বদলি তো। যার কারণে আমাদের দোষের কারণে এই সমস্যা।’

অধিদপ্তরে এসে অবশ্য সমস্যার সমাধান পেয়েছেন তিনি। খুব বেশি সময় অপেক্ষা করতে হয়নি বলে জানান মাসুদুল হক। তার ভাষায়, ‘অল্প সামান্য’ সময় সিরিয়ালে থাকার পরই সমস্যার সমাধান হয়েছে।

সভাকক্ষের ভেতরেও অপেক্ষারত বহু প্রতিষ্ঠান প্রধান। কেউ দুইশত মাইল কেউবা তিনশত মাইল দূর-দূরান্ত থেকে এসেছেন। তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য সরাসরি সফটওয়্যারের কর্মকর্তারা উপস্থিত রয়েছেন। প্রত্যেকের সমস্যার সমাধান করছেন।    

সফটওয়ারের এক কর্মকর্তা বলেন, সমস্যাগুলো মূলত ইমেইলের কারণেই হচ্ছে। ই-মেইল অ্যাড্রেস ঠিক করে দিচ্ছি। ফলে তারা সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে পারবেন এবং শূন্য পদের তথ্য দিতে পারবেন।

 সফটওয়্যারে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার বর্ধিত সময়ও শেষ হচ্ছে আজ। ফলে এই শিক্ষকরা দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। কারণ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সফটওয়্যারে প্রবেশ করতে না পারলে অনেক প্রতিষ্ঠানই শূন্যপদের তথ্য দিতে পারবে না।

রংপুর থেকে আসা শাহিন নামের এক শিক্ষক বলেন, সময় আরও বাড়ালে আমাদের জন্য খুব উপকার হয়।

এদিকে অধিদপ্তরের এমপিও শাখার সংশ্লিষ্টদের পক্ষ থেকে সময় বাড়ানো হবে বলে নিশ্চিত করেছেন। তবে কতদিন সময় বাড়ানো হবে, সে বিষয়ে তখনও নির্দিষ্ট তথ্য জানা যায়নি। অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, যতক্ষণ পর্যন্ত সবাই শূন্যপদের তথ্য দিতে না পারবেন, ততদিন সুযোগ রাখার কথা বলা হয়েছে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন এমপিও-টিটিএস সফটওয়্যারে শিক্ষকদের বদলি কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠান প্রধানদের নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের শূন্যপদের তথ্য সফটওয়্যারে হালনাগাদ করতে বলা হয়েছে। কিন্তু সফটওয়্যারে প্রবেশ, ই-মেইল, প্রতিষ্ঠানের ধরন ও পদ-বিষয়সংক্রান্ত বিভিন্ন জটিলতায় অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তথ্য দিতে পারেনি।