কারিগরি শিক্ষক বদলির সফটওয়্যারের ‘মন্তব্য’ ঘরে দুই শতাধিক অভিযোগ
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলিতে শূন্যপদের তথ্য দিতে গিয়ে সফটওয়্যার-সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। শিক্ষকদের বদলির জন্য নতুন সফটওয়্যারে প্রবেশ করে পদ কিংবা বিষয় খুঁজে না পাওয়াসহ নানা সমস্যায় পড়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান। সফটওয়ারের ‘মন্তব্য’ ঘরে এসব অসঙ্গতি জানিয়েছেন দুই শতাধিক প্রতিষ্ঠান প্রধান।
২০২৬ সালের বদলি নীতিমালা অনুযায়ী বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষকদের স্বেচ্ছায় বদলি কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গত ৬ সেপ্টেম্বর থেকে বেসরকারি এমপিওভুক্ত কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর শূন্যপদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়। প্রতিষ্ঠানগুলোকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে শূন্যপদের তথ্য দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ তথ্য দেওয়ার শেষ সময় ১২ সেপ্টেম্বর দুপুর ২টা।
জানা গেছে, শূন্যপদের চাহিদার তথ্য দিতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠানই সফটওয়্যারে বিভিন্ন ধরনের অসঙ্গতির মুখোমুখি হচ্ছে। কোথাও প্রতিষ্ঠানের ধরন ভুল দেখাচ্ছে, কোথাও কাঙ্ক্ষিত বিষয় বা পদের তালিকা পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে কোন প্রতিষ্ঠানে কোন পদে শূন্যপদ রয়েছে তা সঠিকভাবে সফটওয়্যারে যুক্ত করতে পারছেন না প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, শিক্ষকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের জন্য ব্যবহৃত ইএফটি সিস্টেমে থাকা প্রতিষ্ঠানের তথ্যগুলো শিক্ষক বদলির নতুন সফটওয়্যারে স্থানান্তর করা হয়েছে। ফলে ইএফটি সিস্টেমে থাকা ২ হাজারের বেশি প্রতিষ্ঠানের তথ্য নতুন প্ল্যাটফর্মে নেওয়া হয়েছে। তবে পুরোনো সিস্টেম থেকে তথ্য স্থানান্তরের সময় সব তথ্য ঠিকভাবে স্থানান্তরিত হয়নি। এর ফলে নতুন সফটওয়্যারে তথ্য দিতে সমস্যায় পড়েছেন শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে অধিদপ্তরের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বিষয়টি অনেকটা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় বাসা পরিবর্তনের মতো। আগের জায়গায় কোনো জিনিস যেভাবে ছিল, নতুন জায়গায় স্থানান্তরের সময় সেটি একই অবস্থানে নাও থাকতে পারে। সফটওয়্যারে তথ্য স্থানান্তরের ক্ষেত্রেও এমন কিছু অসঙ্গতি তৈরি হয়েছে।’
এমন সমস্যা নিয়ে এক প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ এসেছেন অধিদপ্তরে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই প্রতিষ্ঠান প্রধান জানান, তাদের প্রতিষ্ঠানটি স্বতন্ত্র ক্যাটাগরির। কিন্তু সফটওয়্যারে সেটি সংযুক্ত প্রতিষ্ঠান হিসেবে দেখাচ্ছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত ধরন অনুযায়ী যে বিষয় ও পদের তালিকা থাকার কথা সেটি সফটওয়্যারে পাওয়া যাচ্ছে না।
অধিদপ্তর সূত্রে আরও জানা যায়, এ ধরণের সমস্যাও হয়েছে মূলত এক সফটওয়্যার থেকে আরেক সফটওয়ারে তথ্য স্থানান্তরের কারণে। ফলে কিছু প্রতিষ্ঠানের ‘ইনস্টিটিউট টাইপ’ পরিবর্তিত হয়ে গেছে। ফলে প্রতিষ্ঠানের ধরন পরিবর্তিত হওয়ায় সফটওয়্যারে প্রদর্শিত বিষয় ও পদের তালিকাতেও পরিবর্তন এসেছে।
এদিকে অভিযোগ শুধু সফটওয়্যারের মন্তব্য ঘরেই সীমাবদ্ধ নেই। অধিদপ্তরের হেল্পলাইন, হোয়াটসঅ্যাপ এবং সরাসরি যোগাযোগ করেও সমস্যার কথা জানাচ্ছেন প্রতিষ্ঠান প্রধানরা। অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট তথ্য যাচাই করে প্রয়োজন অনুযায়ী তা সংশোধনের কাজ চলছে বলে জানিয়েছে অধিদপ্তর।
সফটওয়্যারেই প্রবেশ করতে পারছেন না অনেকে
শূন্যপদের তথ্যের পাশাপাশি সফটওয়্যারে প্রবেশের ক্ষেত্রেও সমস্যায় পড়েছেন অনেক প্রতিষ্ঠান প্রধান। প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল ঠিকানা তৈরি করে তা অধিদপ্তরে পাঠানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। এর জন্য ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ই-মেইল ঠিকানা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠান ব্যক্তিগত ই-মেইল ব্যবহার করেছেন, কেউ ভুল ই-মেইল দিয়েছেন। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে একই ইমেইল দিয়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যবহারকারী প্রবেশের চেষ্টা করেছেন। ফলে ওটিপি পাওয়া বা লগইন করার ক্ষেত্রে জটিলতা তৈরি হয়েছে।
অধিদপ্তরের এমপিও শাখার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সংযুক্ত কর্মকর্তা দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘শিক্ষকরা যেকোনো সমস্যায় আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। সফটওয়্যারের কমন্ট বক্স বা মন্তব্য ঘরেও সমস্যার কথা জানাতে পারেন। এছাড়াও যেসব প্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ইমেইল জটিলতায় সফটওয়্যারেই প্রবেশ করতে পারছেন না তারা অফিস চলাকালে ০১৪০৩৩১৯৮০৮ নম্বরে যোগাযোগ করলে সমাধান দেওয়া হবে। হোয়াটঅ্যাপে মেজেস দিলেও সমাধান মিলবে।’