৩০ আগস্ট ২০২৬, ১৫:০৭

কারিগরি শিক্ষকদের বদলিতে মানবিক কারণ জানানোর সুযোগ, আবেদনে থাকবে ‘মন্তব্য’ ঘর

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর  © সংগৃহীত

বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদনে মানবিক কারণ জানানোর সুযোগ রাখা হচ্ছে। দীর্ঘদিন প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত থাকা, পারিবারিক সমস্যা কিংবা বিশেষ কোনো পরিস্থিতিতে বদলি হতে আগ্রহী শিক্ষক অনলাইন আবেদনের সময় এসব বিষয় উল্লেখ করতে পারবেন। এ জন্য আবেদনপত্রে আলাদা ‘মন্তব্য’ ঘর রাখা হবে। সেখানে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রও সংযুক্ত করার সুযোগ থাকবে।

কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে  বলেন, বদলির আবেদনে শিক্ষকদের জন্য ‘মন্তব্য’ নামে একটি ঘর থাকবে। সেখানে তারা নিজেদের সমস্যার কথা লিখতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংযুক্ত করতে পারবেন। মানবিক বিষয়গুলো কর্তৃপক্ষের নজরে আনার সুযোগ থাকবে।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, বদলির আবেদন স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে নেওয়া হবে। শিক্ষক নিজেই অনলাইনে আবেদন করবেন। সেখানে নির্ধারিত তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি কোনো বিশেষ সমস্যা বা পরিস্থিতি থাকলে তা মন্তব্যের ঘরে উল্লেখ করতে পারবেন।

দীর্ঘদিন প্রত্যন্ত এলাকায় কর্মরত থাকা শিক্ষকদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। একইভাবে পারিবারিক সমস্যা বা অন্য কোনো মানবিক কারণে বর্তমান কর্মস্থল থেকে বদলি হতে আগ্রহী শিক্ষকও আবেদনের সঙ্গে নিজের পরিস্থিতি তুলে ধরতে পারবেন।

মন্তব্যের ঘরে কোনো কারণ উল্লেখ করলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বদলি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে না। সংশ্লিষ্ট শিক্ষককে বদলির অন্যান্য শর্তও পূরণ করতে হবে। বিশেষ করে কাঙ্ক্ষিত প্রতিষ্ঠানে তাঁর সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের শূন্য পদ থাকতে হবে। প্রতিষ্ঠানের ধরনও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে।

একই শূন্য পদের জন্য একাধিক শিক্ষক আবেদন করলে বিভিন্ন মানদণ্ড বিবেচনায় নেওয়া হবে। নারী শিক্ষক, স্বামী বা স্ত্রীর কর্মস্থল, দূরত্বসহ একাধিক বিষয় বিবেচনার কথা জানিয়েছে অধিদপ্তর। এর পাশাপাশি আবেদনে উল্লেখ করা মানবিক কারণ ও সংযুক্ত কাগজপত্রও কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় আসবে।

বদলির জন্য ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শূন্য পদের তথ্য সংগ্রহ শুরু হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন বলেও জানিয়েছে অধিদপ্তর।

আবেদনকারীর সংখ্যা বেশি হতে পারে বিবেচনায় নিয়ে কয়েক ধাপে বদলি কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে শূন্য পদের পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়ার পর সফটওয়্যারভিত্তিক আবেদন প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হবে।