কারিগরিতে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি ছাড়াই বদলির আবেদনের সুযোগ, সিদ্ধান্ত সফটওয়্যারে
বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আবেদন আরও সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন বদলির জন্য প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অনুমতি নিতে হবে না। শিক্ষক নিজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধানও কোনো শিক্ষককে বদলির আবেদন থেকে বিরত রাখার সুযোগ পাবেন না। স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যারের মাধ্যমে পুরো প্রক্রিয়া পরিচালনা করা হবে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (এমপিও) মোহাম্মদ আবু সাঈম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে এসব তথ্য জানান।
তিনি বলেন, বদলির জন্য কোনো শিক্ষককে প্রতিষ্ঠানপ্রধানের অনুমতির ওপর নির্ভর করতে হবে না। শিক্ষক নিজেই অনলাইনে আবেদন করতে পারবেন। প্রতিষ্ঠানপ্রধান চাইলে কোনো শিক্ষককে আবেদন করা থেকে আটকে রাখার সুযোগ থাকবে না।
শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক বলেন, বদলি কার্যক্রমের জন্য স্বয়ংক্রিয় সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছে। শিক্ষক তার নিজের তথ্য দিয়ে সফটওয়্যারে প্রবেশ করে সংশ্লিষ্ট বিষয় বা ট্রেডের শূন্য পদ দেখতে পারবেন। পছন্দের প্রতিষ্ঠানে তাঁর পদ বা বিষয়ের শূন্যতা থাকলে সেখানে বদলির জন্য আবেদন করতে পারবেন।
বদলি প্রক্রিয়ায় শূন্য পদের তথ্যও অনলাইনে দেখার সুযোগ থাকবে। প্রতিষ্ঠানপ্রধানরা তাদের প্রতিষ্ঠানের কোন পদে কতটি শূন্যতা রয়েছে, তা অনলাইনে জানাচ্ছেন অধিদপ্তরে। এখন পর্যন্ত ৯০০টির বেশি শূন্য পদের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে সব প্রতিষ্ঠানের তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ২২ হাজার ৩০৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। এসব শিক্ষকের বদলি কার্যক্রম কয়েক ধাপে করার পরিকল্পনা রয়েছে। কারণ প্রথম ধাপেই আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি হতে পারে বলে ধারণা করছে অধিদপ্তর।
এ ছাড়া একজন শিক্ষক বদলি হয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানে গেলে তাঁর আগের প্রতিষ্ঠানে যে শূন্য পদ তৈরি হবে, সেটিও পরবর্তী বদলি কার্যক্রমে সমন্বয় করার ব্যবস্থা সফটওয়্যারে রাখা হচ্ছে। ফলে একজনের বদলির ফলে তৈরি হওয়া শূন্য পদে অন্য শিক্ষককে বদলির সুযোগ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৭ আগস্ট বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলি-সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি করে। বদলি কার্যক্রম সফটওয়্যারের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিজস্ব ই-মেইল তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ৩০ আগস্টের মধ্যে এসব ই-মেইল তৈরি করে অধিদপ্তরকে জানানোর কথা থাকলেও এ সময়সীমা বাড়ানো হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা।