২২ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫৩

যশোরের ২৯ কারিগরি প্রতিষ্ঠান বন্ধের নোটিশ

বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড  © সংগৃহীত

দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থী না থাকায় যশোরের ২৯টি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলের নোটিশ দিয়েছে বাংলাদেশ কারিগরি শিক্ষা বোর্ড। সাত কার্যদিবসের মধ্যে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে না পারলে প্রতিষ্ঠানগুলোর অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিবন্ধন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হবে।

কারিগরি শিক্ষা বোর্ড যশোরের ২৯টিসহ সারা দেশে ১ হাজার ৮৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন বাতিলের চিঠি দিয়েছে। সাত দিনের মধ্যে কোনো উত্তর না পেলে চূড়ান্ত বাতিল বা অনুমোদন প্রত্যাহার করা হবে বলে জানানো হয়েছে। জাতীয় দক্ষতামান বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদি) চলতি শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠদান কেন স্থগিত হবে না, তা জানতে চেয়ে এবং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এর আগে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছিল।

সর্বশেষ ১ জুলাই থেকে ১০ জুলাই কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হলেও যশোরের ২৯টিসহ সারাদেশে ১ হাজার ৮৫টি প্রতিষ্ঠান কোনো জবাব দেয়নি। কারিগরি শিক্ষাবোর্ড গত ২০ জুলাই ওয়েবসাইটে এ তথ্য প্রকাশিত হয়।

বোর্ডের আদেশে বলা হয়েছে, বোর্ডের আওতাধীন জাতীয় দক্ষতামান বেসিক শিক্ষাক্রমে যেসকল প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি করানো হচ্ছে না, সেসকল প্রতিষ্ঠানকে আগামী জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৬ সেশন থেকে ভর্তি কার্যক্রম কেন স্থগিত করা হবে না এবং প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন কেন বাতিল বা প্রত্যাহার করা হবে না, তা জানতে চেয়ে এর আগে দুই দফায় কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছিল।

১ জুলাইয়ের চিঠিতে ১০ জুলাইয়ের মধ্যে জবাব দেওয়ার অনুরোধ করা হলেও সংশ্লিষ্ট এক হাজার ৮৫টি প্রতিষ্ঠান থেকে অদ্যাবধি কোনো ব্যাখ্যা বোর্ডের দপ্তরে জমা পড়েনি।

আদেশে বলা হয়েছে, এটিকে ‘চূড়ান্ত নোটিশ’ হিসেবে গণ্য করে আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে যথাযথ কারণ দর্শিয়ে লিখিত ব্যাখ্যা কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে জমা দিতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কোনো বক্তব্য নেই মর্মে বিবেচনা করা হবে। একইসাথে প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানের পাঠদান অনুমোদন ও সংশ্লিষ্ট কোর্সের নিবন্ধন বাতিলসহ প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

যশোরের ২৯টির মধ্যে যশোর সদর উপজেলায় ১৯টি, মণিরামপুর উপজেলায় তিনটি, কেশবপুর উপজেলায় তিনটি, ঝিকরগাছার তিন, শার্শায় একটি রয়েছে।

মণিরামপুরের এক পরিচালক বলেন, ছয় মাসের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ করার পর তার সনদ নিয়ে কোথাও কোনো কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে, ওই কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে ওই কোর্সে এখন আর কেউ ভর্তি হচ্ছে না। কারিগরি শিক্ষাবোর্ড যদি যুগোপযোগী কোনো বেসিক কোর্স চালু করে তাহলে শিক্ষার্থী পাওয়া যাবে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন অধ্যক্ষ বলেন, ‘আমরা কারিগরি বোর্ডকে জাতীয় দক্ষতামনা বেসিক (৩৬০ ঘণ্টা মেয়াদি) কোর্সটি সময়োপযোগী করার অনুরোধ জানিয়েছি। ছয় মাসের ওই কোর্সে কোনো শিক্ষার্থী ভর্তি হচ্ছে না বা পাওয়া যাচ্ছে না। যার কারণে কোর্সটি বন্ধ হয়ে যেতে পারে।’

প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে রয়েছে 
যশোর সদর: টেকনিক্যাল স্কুল অ্যান্ড কলেজ, যশোর টেকনিক্যাল অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট কলেজ, সিটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ট্রাস্ট কম্পিউটার সিস্টেম, দর্পণ যুব কম্পিউটার অ্যাকাডেমি, সেন্টার ফর কম্পিউটার এডুকেশন যশোর, মডেল পলিটেকনিক কলেজ, বাংলাদেশ টেকনিক্যাল কলেজ, কপোতাক্ষ পলিটেকনিক কলেজ ভেকুটিয়া, সিটি পলিটেকনিক কলেজ, ইছালী ইউনিয়ন ইনফরমেশন অ্যান্ড সার্ভিস সেন্টার, আহছানিয়া মিশন ট্রেনিং সেন্টার, আইম কম্পিউটার টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, জেসিএফ টেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট, জেন আইটি যশোর, ক্যান্টনমেন্ট কলেজ, ডিস্ট্রিক আনসার অ্যান্ড পিডিপি টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার, ইন্টিলেন্ট আইটি, যোজান হিউম্যান রিসোর্স ডেভলম্যান্ট ইন্সিটিটিউট;

মণিরামপুর: চারুনীড় রিলেশন অব আর্ট, জোহরা নাজির ফাউন্ডেশন ট্রেনিং ইনস্টিটিউট, সিবাস কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার মণিরামপুর;

কেশবপুর: কসমিক কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, ন্যাশনাল কম্পিউটার প্রশিক্ষণ একাডেমি, শহীদ স্মৃতি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট;

ঝিকরগাছা: জিস্ট কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টার, পলি কম্পিউটার অ্যান্ড টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট, কপোতাক্ষ কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্র;

শার্শা: জনকল্যাণ কারিগরি ইন্সটিটিউট