ব্যাংক-জিমেইলসহ বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্য চুরি করতে পারে নতুন ম্যালওয়্যার, এআই দিয়ে বিশ্লেষণ
স্মার্টফোন, ল্যাপটপ ও কম্পিউটার থেকে ব্যক্তিগত তথ্য চুরির ঝুঁকি বাড়াচ্ছে নতুন এক ম্যালওয়্যার। ‘ভোল্টা অটোডক্সার’ নামের এই ক্ষতিকর সফটওয়্যারটি চুরি করা তথ্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের সহায়তায় বিশ্লেষণ করতে পারে। এর মাধ্যমে ব্যবহারকারীর ব্যাংকিং তথ্য, পাসওয়ার্ড, পেমেন্ট কার্ডের বিবরণ, অনলাইন কেনাকাটার ইতিহাস ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্য সংগ্রহের পাশাপাশি ব্যক্তিগত পছন্দ-অভ্যাস সম্পর্কেও ধারণা পাওয়া সম্ভব। ইতোমধ্যে সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের নজরদারিতে সক্রিয় ও ক্ষতিকর এই ম্যালওয়্যারটি শনাক্ত হয়েছে।
স্মার্টফোন এখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অফিসের কাজ, ব্যাংকিং, অনলাইন কেনাকাটা থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও—সবকিছুই সংরক্ষিত থাকে এই একটি ডিভাইসে। ফলে স্মার্টফোনসহ অন্যান্য ডিজিটাল ডিভাইস সাইবার অপরাধীদের অন্যতম লক্ষ্য হয়ে উঠেছে। কোনো ডিভাইস ম্যালওয়্যারে আক্রান্ত হলে তার গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত তথ্য চুরি এবং আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হয়।
সাইবার অপরাধীরা শুধু তথ্য চুরি করেই থেমে থাকছে না। চুরি করা তথ্য এআইয়ের মাধ্যমে বিশ্লেষণ করে ব্যবহারকারীর আর্থিক লেনদেন, পছন্দ ও ব্যক্তিগত অভ্যাস সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা তৈরির সুযোগ পাচ্ছে। প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণে বলা হচ্ছে, কিছুদিন আগে পিএইচপি কোডিংয়ের দুর্বলতা নিয়ে আলোচনার পর নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে ভোল্টা অটোডক্সার। এটিকে বিপজ্জনক ম্যালওয়্যার হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
যেভাবে কাজ করে ভোল্টা অটোডক্সার
ম্যালওয়্যার হলো একধরনের ক্ষতিকর সফটওয়্যার, যা ব্যবহারকারীর অজান্তে ডিভাইসে প্রবেশ করে তথ্য চুরি করতে পারে। তবে ভোল্টা অটোডক্সার চুরি করা তথ্য এআইয়ের সহায়তায় বিশ্লেষণ করে সাইবার অপরাধকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
নিরাপত্তা গবেষকদের মতে, এই ম্যালওয়্যার ব্রাউজারে সংরক্ষিত লগইন তথ্য, বিভিন্ন অনলাইন পরিষেবায় ব্যবহৃত পেমেন্ট কার্ডের বিবরণ এবং গুগল পের মতো পেমেন্ট ওয়ালেটের তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। এ ছাড়া বিভিন্ন অনলাইন অ্যাকাউন্টের সঙ্গে যুক্ত তথ্যও এর মাধ্যমে বেহাত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। ডিসকর্ড, জিমেইল ও টেলিগ্রামসহ কয়েকটি প্ল্যাটফর্মের তথ্যও এতে ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।
ধরা যাক, কোনো ব্যবহারকারী একটি অনলাইন শপিং সাইটে কেনাকাটা করছেন। ম্যালওয়্যারটি তার অজান্তে ওই সাইটের লগইন তথ্য সংগ্রহ করতে পারে। পাশাপাশি ব্যক্তিগত ব্রাউজিং ইতিহাস, ব্যবহৃত কার্ডের বিবরণ, কেনাকাটার তথ্য, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কার্যক্রম ও অ্যাকাউন্ট-সংক্রান্ত তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করতে পারে। এভাবে ব্যবহারকারীর ব্যয়ের অভ্যাস, পছন্দের পণ্য এবং নিরাপত্তার দুর্বলতা সম্পর্কে ধারণা তৈরি করে সেগুলো অপব্যবহারের সুযোগ পায় সাইবার অপরাধীরা। তবে ভোল্টা অটোডক্সার বাস্তবে কতটা ছড়িয়েছে কিংবা এর মাধ্যমে ইতোমধ্যে কতজন আক্রান্ত হয়েছেন, সে বিষয়ে এখনো সুস্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।
যেভাবে নিরাপদ থাকবেন
এ ধরনের ম্যালওয়্যার থেকে সুরক্ষিত থাকতে প্রতিটি অনলাইন অ্যাকাউন্টে আলাদা ও শক্তিশালী পাসওয়ার্ড ব্যবহার করতে হবে। পাশাপাশি টু-ফ্যাক্টর বা মাল্টিফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু রাখা জরুরি। অপরিচিত বা সন্দেহজনক লিংকে ক্লিক করা থেকে বিরত থাকতে হবে। একইভাবে সন্দেহজনক অ্যাপ ডাউনলোড করা যাবে না।
এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ অ্যাকাউন্টগুলো কোন কোন ডিভাইসে লগইন করা রয়েছে, তা নিয়মিত পরীক্ষা করা প্রয়োজন। ল্যাপটপ, কম্পিউটার ও স্মার্টফোনের অপারেটিং সিস্টেম, সফটওয়্যার এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়মিত হালনাগাদ রাখাও জরুরি।