অনলাইনে ব্যক্তিগত তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন কীভাবে, জেনে নিন ৫ উপায়
আজকাল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের ব্যক্তিগত অনেক তথ্য জেনে বা না জেনে ছড়িয়ে পড়ছে। একটু অসতর্কতার কারণে অনেকেই অজান্তে নিজেদের গোপনীয় তথ্য তুলে দিচ্ছেন অন্যের হাতে। ছবি বা ভিডিও পোস্ট করা কিংবা দৈনন্দিন প্রয়োজনে বিভিন্ন অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ব্যবহার সব মিলিয়ে আমাদের নানা সংবেদনশীল তথ্য প্রতিদিনই ইন্টারনেটে উন্মুক্ত হয়ে যাচ্ছে।
সামান্য অসাবধানতায় এসব তথ্য চলে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে, যা ব্যবহার করে পাতা হচ্ছে নিত্যনতুন ফাঁদ। তাই বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সার্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
সাইবার নিরাপত্তার বৈশ্বিক ও দেশীয় সংস্থাগুলোর পরামর্শ অনুযায়ী, নিজেকে ও নিজের তথ্য নিরাপদ রাখতে মূল ৫টি বিষয়ে খেয়াল রাখা প্রয়োজন-
১. অতিরিক্ত তথ্য প্রকাশ বন্ধ করুন
ফেসবুক বা অন্যান্য মাধ্যমে নিজের প্রতিটি পদক্ষেপের আপডেট দেওয়া বন্ধ করুন। বাসা বা কর্মক্ষেত্রের ঠিকানা, ফোন নম্বর, পরিবার কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের অতি-সংবেদনশীল তথ্য সবার জন্য উন্মুক্ত না রাখাটাই বুদ্ধিমত্তার কাজ। অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসিতে গিয়ে ‘পাবলিক’ থেকে বদলে কেবল পরিচিতদের দেখার সুযোগ দিন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অতিরিক্ত এসব তথ্য অনুসরণ করে অপরাধীরা আপনাকে খুঁজে পেতে পারে।
সামান্য অসাবধানতায় এসব তথ্য চলে যেতে পারে সাইবার অপরাধীদের হাতে, যা ব্যবহার করে পাতা হচ্ছে নিত্যনতুন ফাঁদ। তাই বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ সার্বিক ইন্টারনেট ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা অত্যন্ত জরুরি।
২. পিন, পাসওয়ার্ড ও ওটিপি কারোর সাথে শেয়ার নয়
ব্যাংক, বিকাশ, নগদ বা যেকোনো সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা সেজে ফোন করলেও ব্যাংক বা অ্যাকাউন্টের তথ্য কাউকে দেবেন না। ওটিপি (OTP), পিন (PIN), পাসওয়ার্ড বা লগইন কোড শুধু আপনার নিজের ব্যবহারের জন্য। কোনো বৈধ প্রতিষ্ঠান কখনো গ্রাহকের কাছে ফোন করে এসব তথ্য জানতে চায় না। তাই এ ধরনের ফোন আসলে সরাসরি এড়িয়ে চলুন; মনে রাখবেন, এটি একটি ফাঁদ।
৩. অচেনা বা প্রলোভন দেখানো লিংকে ক্লিক এড়ান
বর্তমানে অনলাইন ফাঁদের সবচেয়ে ভয়ংকর হাতিয়ার এটি। মেসেঞ্জারে, মেসেজে বা ই-মেইলে কোনো উপহার, অফার কিংবা জরুরি সতর্কবার্তার লিংক এলেই তাতে ক্লিক করবেন না। সাইবার অপরাধীরা চেনা কোনো প্রতিষ্ঠানের লোগো বা ইন্টারফেস নকল করে ভুয়া ওয়েবসাইট বানায়, যাতে আপনি ঢুকলেই তথ্য চুরি হয়ে যায়। কোনো মেসেজ সত্য মনে হলেও আগে প্রতিষ্ঠানটির অফিশিয়াল হেল্পলাইনে ফোন দিয়ে নিশ্চিত হন।
অন্য খবর: মেরিটাইম ইউনিভার্সিটির স্নাতকে ভর্তি পরীক্ষার তারিখ ঘোষণা
৪. ভিন্ন ভিন্ন পাসওয়ার্ড ও টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন ব্যবহার
সব অ্যাকাউন্টে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করা সবচেয়ে বড় ভুল। বিশেষ করে ই-মেইল, ফেসবুক ও আর্থিক লেনদেনের অ্যাকাউন্টে আলাদা এবং শক্তিশালী পাসওয়ার্ড সেট করুন। পাশাপাশি প্রতিটা অ্যাকাউন্টে ‘টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন’ বা টু-স্টেপ ভেরিফিকেশন চালু রাখুন। এতে কেউ পাসওয়ার্ড জেনে গেলেও আপনার ফোনে আসা কোড ছাড়া সে লগইন করতে পারবে না।
৫. মোবাইল ও কম্পিউটারের সফটওয়্যার নিয়মিত আপডেট রাখা
মোবাইল বা কম্পিউটারে অপারেটিং সিস্টেম কিংবা অ্যাপের কোনো আপডেট আসলে তা ফেলে রাখবেন না। এসব আপডেটের মূল উদ্দেশ্যই হলো ডিভাইসের নিরাপত্তা ত্রুটিগুলো মেরামতের কাজ করা। এছাড়া অপরিচিত বা অননুমোদিত কোনো ওয়েবসাইট থেকে মোবাইল অ্যাপ বা সফটওয়্যার নামানো থেকে বিরত থাকুন।
মূল কথা হলো-অনলাইনে অপ্রয়োজনীয় তথ্য প্রকাশে সচেতনতা, অচেনা লিংকে না ঢোকা এবং নিজের গোপনীয় কোড অন্যকে না দেওয়া এগুলো মেনে চললেই সাইবার ঝুঁকি থেকে অনেকটাই মুক্ত থাকা সম্ভব।