২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪:৫৯

স্মার্টফোনের কর্মক্ষমতা বাড়াতে পারে ১০টি ফিচার, চালু করবেন যেভাবে

প্রতীকী ছবি  © সংগৃহীত

স্মার্টফোনে প্রতিদিন নানা ধরনের অ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে অনেক সময় ফোন ধীর হয়ে যায়, ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয় কিংবা অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশনে বিরক্ত হতে হয়। তবে ফোনের সেটিংসে থাকা কিছু ফিচার ঠিকভাবে ব্যবহার করলে পারফরম্যান্স, নিরাপত্তা ও ব্যবহারের সুবিধা বাড়ানো যায়। এমন ১০টি ফিচার নিয়ে এ আয়োজন—

১. ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস সীমিত করুন

ফোনের Settings থেকে About Phone-এ গিয়ে Build Number-এর ওপর টানা সাতবার ট্যাপ করলে Developer Options চালু হবে। এরপর Developer Options-এ গিয়ে Background Process Limit অপশন থেকে ‘At most 2 or 3 processes’ নির্বাচন করুন।

এতে ব্যাকগ্রাউন্ডে চলা অ্যাপের সংখ্যা কমে র‍্যাম খালি রাখার সুযোগ তৈরি হয়। তবে ডাউনলোডিং অ্যাপ বা মিউজিক প্লেয়ার মিনিমাইজ করে রাখলে সেগুলো মাঝে মাঝে বন্ধ বা বিরতিতে যেতে পারে।

২. নোটিফিকেশন হিস্ট্রি চালু রাখুন

Settings থেকে Notifications অপশনে গিয়ে Advanced Settings বা More Settings-এ Notification History খুঁজে চালু করা যায়।

ফিচারটি চালু থাকলে গত ২৪ ঘণ্টায় আসা নোটিফিকেশনগুলো পরে দেখা যায়। ভুল করে কোনো নোটিফিকেশন মুছে ফেললেও সেখান থেকে তা খুঁজে পাওয়া সম্ভব।

৩. প্রাইভেট ডিএনএস ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন কমান

Settings থেকে Connections বা Network & Internet অপশনে গিয়ে Private DNS খুঁজে নিন। এরপর Private DNS provider hostname নির্বাচন করে ‘dns.adguard.com’ লিখে সেভ করা যায়।

এটি কিছু ওয়েবসাইট ও অ্যাপে বিজ্ঞাপন ও ট্র্যাকার কমাতে সাহায্য করতে পারে। তবে কিছু পাবলিক ওয়াই-ফাই নেটওয়ার্কে সংযোগের ক্ষেত্রে সমস্যা হলে সাময়িকভাবে এটি বন্ধ করতে হতে পারে।

৪. অ্যানিমেশন স্কেল কমিয়ে দিন

Developer Options-এ গিয়ে Window animation scale, Transition animation scale এবং Animator duration scale—এই তিনটি অপশন ১x থেকে ০.৫x করে দেওয়া যায়।

এতে অ্যাপ খোলা বা বন্ধ হওয়ার অ্যানিমেশন দ্রুত শেষ হয়। ফলে ফোনের ব্যবহার আরও দ্রুত মনে হতে পারে। এতে কোনো ডেটা মুছে যায় না।

৫. গুগল লোকেশন হিস্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করুন

Settings থেকে Google-এ গিয়ে Manage your Google Account নির্বাচন করুন। এরপর Data & Privacy থেকে Location History বা Timeline অপশনে গিয়ে এটি Pause বা Turn off করা যায়।

এতে গুগলের লোকেশন হিস্ট্রি সংরক্ষণ বন্ধ করা যায় এবং ব্যক্তিগত গোপনীয়তা বাড়ে। তবে লোকেশন হিস্ট্রি বন্ধ করলেও প্রয়োজনের সময় ম্যাপস বা অন্য নেভিগেশন অ্যাপে লোকেশন ব্যবহার করা যেতে পারে।

৬. কুইক শেয়ার ব্যবহার করুন

ফোনের নোটিফিকেশন প্যানেল থেকে Quick Share আইকনে ট্যাপ করে Who can share with you অপশনে গিয়ে ‘Everyone for 10 minutes’ বা ‘Contacts only’ নির্বাচন করা যায়।

এর মাধ্যমে মোবাইল ডেটা বা থার্ড-পার্টি অ্যাপ ছাড়াই কাছাকাছি থাকা ডিভাইসে ছবি, ভিডিওসহ বিভিন্ন ফাইল দ্রুত পাঠানো যায়। ফাইল নেওয়ার পর নিরাপত্তার জন্য ‘Contacts only’ নির্বাচন করে রাখা ভালো। এতে অপরিচিত ব্যক্তির কাছ থেকে অপ্রত্যাশিত ফাইল শেয়ার রিকুয়েস্ট আসার সম্ভাবনা কমে।

৭. লকস্ক্রিনে সংবেদনশীল নোটিফিকেশন লুকিয়ে রাখুন

Settings থেকে Lock Screen বা Security অপশনে গিয়ে Notifications নির্বাচন করুন। এরপর ‘Hide content’ বা ‘Don’t show sensitive content’ অপশনটি চালু করা যায়।

এতে ফোন লক থাকা অবস্থায় মেসেজের বিস্তারিত লেখা, ব্যক্তিগত চ্যাট কিংবা ওটিপি লকস্ক্রিনে দেখা যাবে না। ফলে অন্য কেউ ফোনের স্ক্রিন দেখলেও নোটিফিকেশনের গোপন তথ্য সহজে পড়তে পারবে না।

৮. অব্যবহৃত অ্যাপের পারমিশন সরিয়ে দিন

Settings থেকে Apps-এ গিয়ে নির্দিষ্ট কোনো অ্যাপের Permissions অপশনে প্রবেশ করুন। সেখানে ‘Remove permissions if app isn’t used’ বা ‘Pause app activity if unused’ অপশন থাকলে সেটি চালু করা যায়।

দীর্ঘদিন ব্যবহার না করা অ্যাপের ক্যামেরা, মাইক্রোফোন বা অন্যান্য সংবেদনশীল পারমিশন স্বয়ংক্রিয়ভাবে সরিয়ে দিতে পারে এই ফিচার। পরে অ্যাপটি ব্যবহার করলে প্রয়োজন অনুযায়ী আবার পারমিশন দিতে হবে।

৯. ফোকাস মোড ব্যবহার করুন

Settings থেকে Digital Wellbeing & Parental Controls-এ গিয়ে Focus Mode নির্বাচন করুন। এরপর যেসব অ্যাপ মনোযোগ নষ্ট করে, সেগুলো নির্বাচন করে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য শিডিউল করা যায়।

ফোকাস মোড চালু থাকলে নির্বাচিত অ্যাপগুলোর নোটিফিকেশন বন্ধ থাকে এবং সেগুলো ব্যবহারে বাধা দেওয়া হয়। ফলে পড়াশোনা বা কাজের সময় অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ থেকে দূরে থাকা সহজ হয়।

১০. ফাইন্ড মাই ডিভাইস চালু রাখুন

Settings থেকে Security & Privacy-তে গিয়ে Find My Device অপশনটি চালু রাখা যায়। প্রয়োজনীয় লোকেশন ও নেটওয়ার্ক পারমিশনও সক্রিয় রাখতে হবে।

ফোন হারিয়ে গেলে বা চুরি হলে গুগল অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা, দূর থেকে রিং বাজানো, ফোন লক করা কিংবা প্রয়োজন হলে ডেটা মুছে ফেলার সুবিধা পাওয়া যায়।

তবে এই সুবিধাগুলো ব্যবহারের জন্য ফোনে পর্যাপ্ত ব্যাটারি, নেটওয়ার্ক সংযোগ এবং প্রয়োজনীয় সেটিংস চালু থাকা গুরুত্বপূর্ণ।