০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:২২

লোডশেডিংয়ে স্বস্তি দেবে আইপিএস? কেনার আগে যা জানা জরুরি

লোডশেডিংয়ে স্বস্তি দেবে আইপিএস? কেনার আগে যা জানা জরুরি  © এআই তৈরি

বর্তমানে লোডশেডিংয়ের যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষ। তীব্র গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান-বাতি চালানো কিংবা কম্পিউটারে প্রয়োজনীয় কাজও করা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অনেকের ঘরেই এখন বিকল্প ভরসা ইন্সট্যান্ট পাওয়ার সাপ্লাই (আইপিএস)। তবে বাজার থেকে একটি আইপিএস কিনলেই যে কয়েক ঘণ্টা নির্বিঘ্নে পুরো ঘর চালানো যাবে, বিষয়টি এমনও নয়। কতক্ষণ ব্যাকআপ মিলবে, কোন কোন যন্ত্র চালানো যাবে এবং খরচ কত হবে সবকিছু নির্ভর করে আইপিএসের ক্ষমতা, ব্যাটারির আকার ও ব্যবহৃত লোডের ওপর।

যেভাবে কাজ করে
আইপিএস মূলত বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার পর ব্যাটারিতে সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় যন্ত্র চালু রাখে। বিদ্যুৎ থাকা অবস্থায় ব্যাটারি চার্জ হয়। বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাটারির শক্তি ইনভার্টারের মাধ্যমে ব্যবহারযোগ্য বিদ্যুতে রূপান্তরিত হয়ে ফ্যান, বাতি, রাউটারসহ নির্দিষ্ট যন্ত্রে সরবরাহ হয়। অর্থাৎ আইপিএস নিজে বিদ্যুৎ তৈরি করে না, এটি মূলত ব্যাকআপ ব্যবস্থা।

যতক্ষণ ব্যাকআপ পাওয়া যায়
এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ব্যাকআপের সময় নির্দিষ্ট নয়। একই আইপিএস ও ব্যাটারি দিয়ে কম লোড চালালে দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ পাওয়া সম্ভব হলেও বেশি লোডে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হবে। বাজারে থাকা একটি ৯০০VA আইপিএসের সঙ্গে ১৬৫Ah ব্যাটারি দিয়ে সর্বোচ্চ তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপের কথা বলা হয়েছে। আবার ১১২৫VA ও ২০০Ah ব্যাটারির একটি মডেলে সাড়ে তিন ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যাকআপের উল্লেখ রয়েছে। তবে দুই ক্ষেত্রেই সময়টি লোডের ওপর নির্ভরশীল। তাই আইপিএস কেনার সময় শুধু 'কত ঘণ্টা চলবে' জানতে না চেয়ে কত ওয়াটের লোডে কতক্ষণ চলবে এটি জানা বেশি জরুরি।

খরচের পরিমাণ
বর্তমান অনলাইন বাজারের তালিকা অনুযায়ী, ব্যাটারিসহ ৯০০VA আইপিএসের একটি মডেলের দাম প্রায় ৩৯ হাজার টাকা এবং ১১২৫VA মডেলের দাম ৪৬ হাজার টাকারও বেশি। বড় ক্ষমতার ২৩০০VA ও ২৮০০VA মডেলের দাম যথাক্রমে প্রায় লাখ টাকার কাছাকাছি। তবে এগুলো নির্দিষ্ট বিক্রেতার বর্তমান অনলাইন মূল্য ব্র্যান্ড, ব্যাটারি, মডেল, দোকান ও সময়ভেদে দাম কমবেশি হতে পারে।

লাইট-ফ্যান চালাতেই কি বড় আইপিএস দরকার?
লাইট ফ্যানের জন্য বড় আইপিএস প্রয়োজন নেই। যদি লক্ষ্য হয় শুধু কয়েকটি ফ্যান, বাতি, রাউটার বা টিভি চালানো, তাহলে সেই মোট লোড হিসাব করেই আইপিএসের ক্ষমতা নির্বাচন করা উচিত। অন্যদিকে ফ্রিজ, পানির পাম্প, মাইক্রোওয়েভ বা এয়ার কন্ডিশনারের মতো বেশি ক্ষমতার যন্ত্র চালাতে চাইলে ছোট বাসার আইপিএস যথেষ্ট নাও হতে পারে। তাই কেনার আগে কোন কোন যন্ত্র একসঙ্গে চলবে তার হিসাব করা জরুরি। এবং সেই অনুযায়ী আইপিএস নির্বাচন করতে হবে।

আইপিএস কি বিদ্যুৎ বিল কমাবে?
প্রথমত বলে রাখা ভালো আইপিএসের মূল উদ্দেশ্য বিদ্যুৎ বিল কমানো নয়, বিদ্যুৎ চলে গেলে ব্যাকআপ দেওয়া। বরং ব্যাটারি চার্জ করার সময় বিদ্যুৎ ব্যবহার হয় এবং বিদ্যুৎকে ব্যাটারিতে সঞ্চয় করে আবার ব্যবহারের প্রক্রিয়ায় কিছু শক্তি ক্ষয়ও হয়। তাই শুধু বিল কমানোর জন্য আইপিএস কেনা যুক্তিযুক্ত নয়। এর সুবিধা হলো লোডশেডিংয়ের সময় প্রয়োজনীয় যন্ত্রগুলো সচল রাখা।

আইপিএস নাকি সোলার?
বলে রাখা ভালো দুটির কাজ এক নয়। সাধারণ আইপিএস গ্রিডের বিদ্যুৎ দিয়ে ব্যাটারি চার্জ করে এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে সেই সঞ্চিত শক্তি ব্যবহার করে। ফলে দীর্ঘ সময় লোডশেডিং হলে ব্যাটারি শেষ হয়ে যেতে পারে। 

অন্যদিকে ব্যাটারিসহ সোলার-হাইব্রিড ব্যবস্থায় দিনের বেলায় সৌরবিদ্যুৎ থেকেও ব্যাটারি চার্জ করা যায়। ফলে গ্রিডের ওপর নির্ভরতা কমানোর সুযোগ থাকে। তাই স্বল্প সময়ের লোডশেডিং মোকাবিলায় আইপিএস, আর দীর্ঘমেয়াদে বিকল্প বিদ্যুৎ উৎস তৈরির ক্ষেত্রে সোলার-হাইব্রিড ব্যবস্থা বেশি উপযোগী হতে পারে।

আইপিএস যাদের প্রয়োজন
যাদের এলাকায় নিয়মিত লোডশেডিং হয় এবং বিদ্যুৎ চলে গেলে কয়েক ঘণ্টা ফ্যান, লাইট, রাউটার বা কম্পিউটার চালু রাখা জরুরি তাদের জন্য আইপিএস কার্যকর সমাধান হতে পারে। তবে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় ব্যাকআপ প্রয়োজন হলে শুধু আইপিএসের ওপর নির্ভর করার আগে ব্যাটারির খরচ, রক্ষণাবেক্ষণ ও ভবিষ্যতে ব্যাটারি পরিবর্তনের বিষয়টিও বিবেচনা করতে হবে।

সব মিলিয়ে, আইপিএস বিদ্যুতের বিকল্প উৎস নয়, এটি বিদ্যুৎ চলে যাওয়ার সময় জরুরি যন্ত্রগুলো সচল রাখার ব্যাকআপ ব্যবস্থা। তাই বেশি ক্ষমতার আইপিএস কেনার চেয়ে নিজের প্রয়োজন অনুযায়ী লোড হিসাব করে সঠিক ক্ষমতার আইপিএস ও ব্যাটারি বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ।