০৭ নভেম্বর ২০২৬, ১৮:৩০

একই যোগ্যতা, ভিন্ন সুযোগ: পদোন্নতিতে বৈষম্যের শিকার গ্রন্থাগার প্রভাষকরা

মাউশি  © ফাইল ফটো

বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজে কর্মরত গ্রন্থাগার প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির দাবি উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে একই পদে চাকরি করে অবসরে যেতে হওয়ায় পেশাগত বৈষম্য ও পদোন্নতিবঞ্চনার অভিযোগ তুলেছেন তারা। এ বৈষম্য নিরসনে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালক বরাবর আবেদন করেছেন গ্রন্থাগার প্রভাষকরা।

আবেদনকারীরা জানান, বেসরকারি এমপিওভুক্ত কলেজের গ্রন্থাগার প্রভাষকরা অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষকদের মতো সমমানের শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে চাকরিতে যোগদান করেন। তারাও বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জাতীয় মেধাতালিকার ভিত্তিতে নিয়োগ সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে কর্মজীবন শুরু করেন। তাদের পদটিও নবম গ্রেডভুক্ত। অথচ অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ থাকলেও গ্রন্থাগার প্রভাষকদের জন্য একই ধরনের সুযোগ নেই।

তাদের অভিযোগ, বিদ্যমান এমপিও নীতিমালায় পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় দীর্ঘ কর্মজীবন পার করেও গ্রন্থাগার প্রভাষকদের একই পদে থাকতে হচ্ছে। এমনকি চাকরিজীবনের শেষ পর্যন্ত পদোন্নতি ছাড়াই অবসরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন তারা। একই যোগ্যতা ও নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চাকরিতে প্রবেশ করেও পদোন্নতির ক্ষেত্রে এমন বৈষম্য তাদের পেশাগত মর্যাদা ও কর্মস্পৃহাকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এমপিওভুক্ত কলেজের অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির ক্ষেত্রে নির্ধারিত ৫০ শতাংশ অনুপাতের হিসাবের মধ্যে গ্রন্থাগার প্রভাষকদেরও প্রভাষক হিসেবে গণনা করা হয়। ফলে তাদের অন্তর্ভুক্তি অন্যান্য বিষয়ের প্রভাষকদের পদোন্নতির হিসাবকে প্রভাবিত করলেও নিজেদের পদোন্নতির ক্ষেত্রে তারা কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না। বিষয়টিকে স্পষ্ট পেশাগত বৈষম্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন আবেদনকারীরা।

গ্রন্থাগার প্রভাষকদের দাবি, তাদের দায়িত্ব শুধু কলেজের গ্রন্থাগার পরিচালনা ও বই সংরক্ষণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। তারা শিক্ষার্থীদের নিয়মিত গ্রন্থাগারবিষয়ক পাঠদান বা লাইব্রেরি ক্লাস পরিচালনা করেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, তথ্যসাক্ষরতা বৃদ্ধি, একাডেমিক সহায়তা, গবেষণায় তথ্য সরবরাহ, তথ্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা এবং ডিজিটাল লাইব্রেরি পরিচালনার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। উচ্চশিক্ষার মানোন্নয়ন ও জ্ঞানভিত্তিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলতেও তাদের ভূমিকা রয়েছে।

আবেদনকারীরা মনে করেন, আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থায় গ্রন্থাগারের গুরুত্ব ক্রমাগত বাড়ছে। শিক্ষার্থীদের তথ্য অনুসন্ধান, গবেষণা ও জ্ঞানার্জনের দক্ষতা তৈরিতে গ্রন্থাগার প্রভাষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অথচ তাদের পেশাগত উন্নয়ন ও পদোন্নতির সুযোগ না থাকায় এ পেশায় দীর্ঘমেয়াদি কর্মপ্রেরণা ব্যাহত হচ্ছে।

আবেদনে পেশাগত সমতা প্রতিষ্ঠা, বৈষম্য নিরসন, কর্মস্পৃহা বৃদ্ধি এবং গ্রন্থাগার শিক্ষার আধুনিকায়নের স্বার্থে এমপিওভুক্ত কলেজের গ্রন্থাগার প্রভাষকদের সহকারী অধ্যাপক পদে পদোন্নতির সুযোগ সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।