তারেক রহমানের মাধ্যমেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার চাকরি জাতীয়করণ হবে
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জতীয়করণ হবে বলে প্রত্যাশাব্যক্ত করেছেন মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের পেশাজীবী সংগঠন বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) এক বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি আলহাজ্ব এ এম এম বাহাউদ্দীন ও মহাসচিব অধ্যক্ষ শাব্বীর আহমদ মোমতাজী এসব কথা বলেন।
বিবৃতিতে তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাসন আমলে তারই হাতে প্রতিষ্ঠিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাসমূহ যুগযুগ ধরে অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত। মাদরাসা শিক্ষা ধারাকে জাতীয় শিক্ষা ব্যস্থার সাথে সামাঞ্জস্যপূর্ণ করতে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন স্কেলের আওতায় এনে সম্মানিত করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া তাদের বেতন স্কেল বর্ধিত করণের মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত বেসরকারি শিক্ষকদের পাশে ছিলেন। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পরে জনগণের আস্থা ও ভালোবাসায় বৈষম্যহীন দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি নিয়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য সন্তান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের শাসন ভার হাতে নেয়ায় বেসরকারী শিক্ষক কর্মচারীরা আশায় বুক বেধেছে।
‘ধিরে ধিরে সর্বস্তরের নাগরিকরা অধিকার ফিরে পাচ্ছে। বৈষম্য দূরীকরণের নানাবিধ দৃশ্যমান কর্মসূচি বাস্তবায়িক হচ্ছে। কিন্তু অবহেলিত স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সমস্যা সমাধানে তেমন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে না। এতে দেশের শিক্ষক সমাজ ব্যাপকভাবে হতাশাগ্রস্থ হচ্ছেন। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর মাতা-পিতার আদর্শকে লালন করে অচিরেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসাকে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ন্যায় সকল সুযোগ সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে শিক্ষক সমজের ভালোবাসায় সিক্ত হবেন।’
নেতৃদ্বয় বলেন, জাতীয় শিক্ষা ব্যস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ মাদরাসা শিক্ষা। এ শিক্ষা ব্যস্থার সাথে সম্পৃক্ত শিক্ষক কর্মচারীগণ সুশিক্ষিত, আদর্শবান, নৈতিকতা সম্পন্ন, সুনাগরিক তৈরীতে সর্বদা নিয়োজিত রয়েছেন। মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীসহ দেশের সকল বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ সময়ের দাবী। শিক্ষা দরদী শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী মরহুমা বেগম খালেদা জিয়া’র সুযোগ্য সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসারকারি শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জতীয়করণ হবে এটি সর্বস্তরের শিক্ষকদের প্রত্যাশা।
‘এছাড়াও নবম পেস্কেলে বেসরকারি শিক্ষক কর্মচারীদের অন্তভর্‚ক্তকরণ, অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছরে উন্নিত করা, বদলী প্রক্রিয়াকে যথাযথভাবে বাস্তবায়িত করা, নন এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহকে এমপিওভুক্ত করার ব্যাপারে নেতৃদ্বয় জোর দাবী উত্থাপন করেন। একইসাথে সর্বস্তরের মাদারাসা শিক্ষাসহ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষক কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের যুগযুগ ধরে বয়ে চলা বৈষম্যের বোঝা দূর করে সকল প্রকার সুবিধা নিশ্চিত করণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, শিক্ষামন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীর প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।’
দেশের মাদরাসা শিক্ষক কর্মচারীদের আশ্বস্ত করে জমিয়াত নেতৃদ্বয় বলেন, ১৯৩৭ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়ে মাদারাসা শিক্ষকদের অধিকার আদায়, দাবী পুরোন ও সুযোগ সুবিধা নিশ্চিত করণের বিষয়ে যা কিছু অর্জিত হয়েছে, তার পুরোটাই জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মাধ্যমে। যখন দেশের শিক্ষকদের পক্ষে কথা বলার মত কেউ ছিলোনা, তখন থেকেই বঞ্চিত অবহেলীত ও কোণঠাসা শিক্ষক কর্মচারীদের সমাজে উপযুক্ত সম্মানের আসনে আসীন করার কাজে নিয়োজিত ছিলো বাংলাদেশ জমিয়াতুল মোদার্রেছীন। আমরা শিক্ষকদের সম্মান সমুন্নত রাখার ব্যাপারে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, শিক্ষকদের মান মর্যাদা ভূলুণ্ঠিত করা আমাদের কাজ নয়। তাই জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের কর্মপদ্ধতী ও অন্যান্য ভুইফোঁড় স্বার্থান্বেষী সংগঠনের কর্মপন্থার সাথে অনেক ভিন্নতা রয়েছে।
‘রাস্তা-ঘাট অবরোধ, জ্বালাও পোড়াও, ভুখা মিছিল কিংবা অনশন করে দেশের শ্রেষ্ট নাগরিকদের আত্মসম্মান ধুলিস্মাৎ করার কর্মসূচী জমিয়াত গ্রহণ করে না। আমরা দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও দাপ্তরিক উপযুক্ততা বিশ্লেষণ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় দাবীসমূহ পর্যায়ক্রমে আদায় করে এসেছি। ভবিষ্যতেও আমাদের কর্মপদ্ধতি একই থাকবে। যার থেকে আমাদের প্রাপ্য বুঝে নিতে হবে তাকে অপমান অবদস্তকরে কখনই দাবী পুরোন হয়নি এবং হবেও না।’
দেশের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীদের ধৈর্য্যধরে ঐক্যবদ্ধ হয়ে জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের হাতকে শক্তিশালী করার জন্য নেতৃদ্বয় আহ্বান জানিয়ে বলেন, অতীতে যেমন জমিয়াতের মাধ্যমে শিক্ষক সমাজ অধিকার আদায়ে সক্ষম হয়েছে, ভবিষ্যতেও অনুরূপভাবেই জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের মাধ্যমে শিক্ষকদের অবশিষ্ট প্রয়োজনসমূহ মিটে যাবে ইনশাআল্লাহ।
নেতৃদ্বয় আরও বলেন, গতকাল ৩ নভেম্বর, মঙ্গলবার আমরা জমিয়াতুল মোদার্রেছীনের নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে প্রেসিডেন্ট মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সাথে সাক্ষাত করেছি। তিনি অত্যন্ত ধৈর্য্যসহকারে আমাদের দাবীসমূহ শুনেছেন এবং স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সমস্যা, শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ বিষয়সহ সকল দাবী বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবেন বলে আমাদেরকে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশাবাদী প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মাধ্যমেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদরাসার সমস্যা সমাধান ও শিক্ষক কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণসহ অন্যান্য দাবীসমূহ বাস্তবায়নের মাধ্যমে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক সমাজ সম্মানের আসনে অধিষ্ঠিত হবেন।