০৪ নভেম্বর ২০২৬, ১৩:২০

প্রধানমন্ত্রী চাওয়ার পরও কেন আটকা বদলি?

মাউশির লোগো  © সংগৃহীত

প্রধানমন্ত্রীর চাওয়ার পরও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের বদলির আদেশ কেন এখনো জারি হচ্ছে না, তা নিশ্চিতভাবে জানেন না শিক্ষক নেতারা। তবে বদলির আওতায় প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে শিক্ষামন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে জানিয়েছেন এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোটের সদস্য সচিব অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী। একই সঙ্গে বদলি কার্যক্রমে আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা না করে অবিলম্বে আদেশ জারির দাবি জানিয়েছেন তিনি।

আজ বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল ১০টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি ও কর্মসূচির কথা জানান অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী।

বদলির আদেশ জারি না হওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বদলির আদেশ কেন এখনো জারি হয়নি, তা আমরা নিশ্চিতভাবে বলতে পারছি না। তবে বদলির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী মহোদয় অত্যন্ত আন্তরিক ছিলেন। বিশেষ করে প্রতিষ্ঠানপ্রধান ও সহকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের বদলির আওতায় অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তার আন্তরিকতার ফলেই এটি সম্ভব হয়েছে। কিন্তু আবেদন নেওয়ার পরও কী কারণে বদলির আদেশ জারি হচ্ছে না, তা আমাদের জানা নেই। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও মন্ত্রণালয় ভালো বলতে পারবে। আমাদের দাবি, অবিলম্বে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।’

নিজের কর্মস্থল ও পারিবারিক দূরত্বের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘আমি নিজেও পরিবার থেকে প্রায় ১১০ কিলোমিটার এবং নিজের বাড়ি থেকে ১৬৯ কিলোমিটার দূরে চাকরি করছি। কর্মস্থল দূরে হওয়ায় স্ত্রী-সন্তানদের দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করা আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়েছে। বদলি কোনো বিলাসিতা নয়; এটি একজন শিক্ষকের মানবিক ও পারিবারিক প্রয়োজন। দীর্ঘদিন ধরে বদলির প্রত্যাশায় থাকা শিক্ষকরা অপেক্ষা করছেন। তাই এ নিয়ে আর কোনো দীর্ঘসূত্রতা কাম্য নয়। অবিলম্বে বদলির আদেশ জারি করতে হবে।’

বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নে সরকারের কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই উল্লেখ করে অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজিজী বলেন, ‘বদলির জন্য সরকারের কোনো বাজেটের প্রয়োজন নেই, একটি টাকাও খরচ করতে হবে না। ইতোমধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সফটওয়্যারের মাধ্যমে বদলির আবেদন নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসার শিক্ষকদের ম্যানুয়ালি আবেদন করতে হয়েছে। আবেদন জমা দিতে গিয়ে মাদ্রাসার শিক্ষকদের অসহনীয় পরিশ্রম করতে হয়েছে। অনেক শিক্ষক আমাকে জানিয়েছেন, তাঁদের প্রত্যেকের প্রায় পাঁচ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। ফজরের আগে এসে মাগরিবের পর পর্যন্ত কয়েক হাজার শিক্ষক দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে কষ্ট করে আবেদন করেছেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘আমরা সরকারের কাছে বলতে চাই, বদলি কার্যক্রম বাস্তবায়নে কোনো অর্থের প্রয়োজন নেই। শুধু সদিচ্ছা ও আন্তরিকতা প্রয়োজন। বদলির ক্ষেত্রে যেসব সমস্যা রয়েছে, সেগুলো সমাধান করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে আদেশ জারি করতে হবে। এর মাধ্যমে বদলির প্রত্যাশায় থাকা শিক্ষকরা যেন তাঁদের আপনজনদের কাছে ফিরে যাওয়ার সুযোগ পান।’

এ সময় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদানের দাবিও তুলে ধরেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় দাবি হলো, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের নবম পে স্কেল অনুযায়ী বেতন-ভাতা প্রদান করতে হবে। দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার একটি বিশাল অংশ বেসরকারি এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ওপর নির্ভরশীল। অথচ একই শিক্ষাগত যোগ্যতা, দায়িত্ব ও পেশাগত মর্যাদা থাকা সত্ত্বেও এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন।’