আগামী ঈদেই শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া চান এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা
নিজ উপজেলা, জেলা বা বিভাগে চাকরির সুযোগ না পেয়ে শত শত কিলোমিটার দূরে শিক্ষকতা করতে বাধ্য হচ্ছেন হাজার হাজার শিক্ষক। এতে পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তাঁরা। এমনকি অনেকের বিবাহবিচ্ছেদের মতো ঘটনাও ঘটেছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে বদলিপ্রত্যাশী শিক্ষকদের দ্রুত বদলির ব্যবস্থা করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান সেলিম ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কথা জানান তিনি।
তিনি বলেন, শিক্ষকদের আন্দোলন ও আবেদন-নিবেদনের পর সরকার বদলির সিদ্ধান্ত নেয় এবং বদলির জন্য সফটওয়্যার চালু করে। তবে সফটওয়্যারটি ত্রুটিপূর্ণ। এই সফটওয়্যারের মাধ্যমে শিক্ষকদের কাছ থেকে বদলির আবেদন গ্রহণ করা হলেও কোনো অজ্ঞাত কারণে আবেদনকারীদের বদলির আদেশ দেওয়া হচ্ছে না। অনতিবিলম্বে শিক্ষকদের বদলির আদেশ প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।
সেলিম ভূঁইয়া বলেন, পরিবার-পরিজন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে দূরবর্তী এলাকায় চাকরি করতে গিয়ে শিক্ষকরা নানা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। ফলে তাঁরা শিক্ষকতা পেশায় পুরোপুরি মনোনিবেশ করতে পারছেন না। এ সমস্যা নিরসন না হওয়ায় শিক্ষক-কর্মচারীদের রাজপথে নেমে আন্দোলন করতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার গুণগত মান উন্নয়নও বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ ছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের শতভাগ উৎসব ভাতা ও সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
তিনি বলেন, বর্তমানে এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ উৎসব ভাতা পাচ্ছেন। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে সামান্য এই ভাতা দিয়ে কোনোভাবেই ঈদের আনন্দ উপভোগ করা সম্ভব নয়। আসন্ন ঈদে প্রতিটি শিক্ষক পরিবার যেন আনন্দমুখর পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারে, সে জন্য শতভাগ উৎসব ভাতা প্রদানে প্রধানমন্ত্রীর প্রতি অনুরোধ জানান তিনি।
বাড়িভাড়া প্রসঙ্গে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বর্তমানে সরকার এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের ১৫ শতাংশ বাড়িভাড়া দিচ্ছে। এই সামান্য অর্থ দিয়ে কোনোভাবেই বসবাসযোগ্য বাড়ি ভাড়া পাওয়া সম্ভব নয়। এ অবস্থায় সরকারি নিয়মে বাড়িভাড়া প্রদানের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
এ ছাড়া শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করার দাবিও জানিয়েছেন সেলিম ভূঁইয়া। তাঁর মতে, বাংলাদেশের মানুষের গড় আয়ু বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য ক্ষেত্রে চাকরি থেকে অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা হয়েছে। অভিজ্ঞ শিক্ষকরা শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবেন। তাই শিক্ষক-কর্মচারীদের অবসরের বয়সসীমা ৬৫ বছর করা প্রয়োজন।
সভায় দেশের বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের দাবিও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোট। লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রায় ৯৭ শতাংশ শিক্ষার দায়িত্ব পালন করছে বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। অথচ এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা, আর্থিক নিশ্চয়তা ও সামাজিক মর্যাদার ক্ষেত্রে নানা সীমাবদ্ধতা রয়েছে।
সংগঠনটির দাবি, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের ভাগ্যের পরিবর্তনে চাকরি জাতীয়করণের কোনো বিকল্প নেই। এ বিষয়ে জাতীয়করণের একটি সম্ভাব্য আর্থিক হিসাবও তুলে ধরা হয়েছে। সংগঠনের হিসাব অনুযায়ী, বেতন-ভাতা, চিকিৎসা ভাতা, বাড়িভাড়া, দুটি উৎসব ভাতা ও বৈশাখী ভাতাসহ জাতীয়করণে বছরে মোট ব্যয় হতে পারে প্রায় ২৬ হাজার ৩৭৩ কোটি টাকা।
অন্যদিকে শিক্ষার্থীদের বেতন, সেশন চার্জ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সম্পদ থেকে আয়, সঞ্চিত অর্থের সুদ এবং রিজার্ভ ফান্ড থেকে বছরে প্রায় ৮ হাজার ৪০০ কোটি টাকা আয়ের সম্ভাবনা দেখিয়েছে সংগঠনটি। তাদের উপস্থাপিত হিসাব অনুযায়ী, বিদ্যমান সরকারি ব্যয় ও সম্ভাব্য আয় সমন্বয় করে জাতীয়করণে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় দাঁড়াতে পারে বছরে প্রায় ৭০০ কোটি টাকা। সংগঠনটি মনে করে, এই পরিমাণ অতিরিক্ত ব্যয়ের মাধ্যমে দেশের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করে শিক্ষাব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব।