৭ দফা দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা
দীর্ঘদিনের পদোনন্নতিবঞ্চনাসহ সাত দফা দাবিতে আন্দোলনে নামছেন বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তারা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে আগামীকাল রবিবার (২৫ অক্টোবর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরে (মাউশি) অবস্থান কর্মসূচি পালন করবেন তারা।
শনিবার (২৪ অক্টোবর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডার প্রভাষক পরিষদের ব্যানারে এ কর্মসূচির আয়োজন করা হচ্ছে।
জানা গেছে, শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষকের মোট ৯ হাজার ৭৮২টি পদের বিপরীতে সহকারী অধ্যাপকের পদ রয়েছে ৪ হাজার ৪৫১টি। পদোন্নতির পথ সুগম করতে ২০২৬ সালের ৪ জানুয়ারি তৎকালীন মাউশি মহাপরিচালক অধ্যাপক বি. এম. আবদুল হান্নান ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব পাঠিয়েছিলেন। এছাড়া গত ৩০ জুন শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কাছে ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি, ভূতাপেক্ষ পদোন্নতি ও সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির দাবি জানানো হয়।
কর্মসূচির আয়োজকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের পদোন্নতির লক্ষ্যে গত ১৬, ১৭ ও ২১ সেপ্টেম্বর বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা সম্পন্ন হলেও এখনো জিও জারি করা হয়নি। এর আগে গত ২৩ জুলাই মাউশি বিভাগ থেকে দুটি স্মারকে ডিপিসি সভা আহ্বান করা হয় এবং ২৭ জুলাই তৎকালীন সচিবের সভাপতিত্বে সভা হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে তা পিছিয়ে যায়। এ অবস্থায় আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষা ক্যাডারের প্রভাষকরা।
শিক্ষা ক্যাডারদের ৭ দফা দাবি হলো-
১. গত ১৬, ১৭ ও ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিত ডিপিসির সভার আলোকে যোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতির সরকারি আদেশ অবিলম্বে জারি করতে হবে।
২. প্রযোজ্য বিধিমালা, যোগ্যতা ও জ্যেষ্ঠতা অনুসারে ২৪তম থেকে ৩৮তম বিসিএসের পদোন্নতিযোগ্য কর্মকর্তাদের পদোন্নতি নিশ্চিত করতে হবে।
৩. প্রস্তাবিত ২ হাজার ৮২৩টি সুপারনিউমারারি পদ সৃষ্টির প্রস্তাব দ্রুত নিষ্পত্তি ও অনুমোদনের মাধ্যমে পদোন্নতির প্রতিবন্ধকতা দূর করতে হবে।
৪. বিধি ও প্রাপ্যতা অনুযায়ী যোগ্য কর্মকর্তাদের আর্থিক সুবিধাসহ ভুতাপেক্ষ পদোন্নতি নিশ্চিত করতে
হবে৷
৫. শিক্ষা ক্যাডারে দীর্ঘদিনের পদোন্নতিসংক্রান্ত দীর্ঘসূত্রতা ও ক্যাডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন করে নিয়মিত স্বচ্ছ ও সময়বদ্ধ পদোন্নতি কাঠামো নিশ্চিত করতে হবে।
৬. তৃতীয় ও চতুর্থ গ্রেডে পদোন্নতির যোগ্যতা ও প্রাপ্যতাসংক্রান্ত জটিলতা নিরসন করে সংশ্লিষ্ট ফাইলগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
৭. পদোন্নতিবঞ্চিত কর্মকর্তাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি বৈঠক আয়োজন করে পদোন্নতি বাস্তবায়নের সুনির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণা করতে হবে।