উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের যোগদান নিয়ে সৃষ্ট উদ্ভূত পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ইউট্যাব)। সংগঠনটি বলছে, উপাচার্যের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করেছে। পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক বর্ষপঞ্জি ব্যাহত করার ঝুঁকিও তৈরি করছে।
আজ বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ দাবি করা হয়। বিবৃতিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি ও সংগঠনটির প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের আহ্বায়ক ও সংগঠনটির মহাসচিব অধ্যাপক ড. মো. মোর্শেদ হাসান খান স্বাক্ষর করেছেন। এছাড়া দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ১২৬ জন শিক্ষককে বিবৃতিদাতা হিসেবে রাখা হয়েছে।
বিবৃতিতে ইউট্যাব মনে করে, উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে পরিচালিত এ আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা ও গবেষণা কার্যক্রম ব্যাহত করার পাশাপাশি ক্যাম্পাসের স্থিতিশীলতা ও শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশকে বিঘ্নিত করার আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
বিবৃতিতে ইউট্যাবের নেতৃদ্বয় বলেন, চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় প্রকৌশল ও প্রযুক্তিনির্ভর উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান। এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা, গবেষণা এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে। এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে একাডেমিক কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং শিক্ষার অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। এ অবস্থায় উপাচার্যের বিরুদ্ধে চলমান আন্দোলন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাঠদান, পরীক্ষা ও একাডেমিক বর্ষপঞ্জি ব্যাহত করার ঝুঁকি তৈরি করছে।
তারা আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রশাসনের মধ্যে যেকোনো যৌক্তিক মতপার্থক্য থাকলে তা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করাই গণতান্ত্রিক ও শিক্ষাবান্ধব পন্থা। গঠনমূলক আলোচনা, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার প্রতি আস্থা রেখে যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। কিন্তু প্রশাসনের সঙ্গে কার্যকর সংলাপ ও আলোচনার সুযোগ গ্রহণ না করে সরাসরি উপাচার্যের পদত্যাগের দাবি তোলা কোনোভাবেই সমস্যার গঠনমূলক সমাধানের পথ হতে পারে না। বরং এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা ও সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের অবনতি ঘটাতে পারে।
ইউট্যাবের নেতৃদ্বয় দৃঢ়ভাবে বলেন, কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হোক, তা কখনোই কাম্য নয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেকোনো দাবি উত্থাপন ও আন্দোলন পরিচালনার ক্ষেত্রে শিক্ষার পরিবেশ, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ এবং প্রতিষ্ঠানের সার্বিক স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে। তাই চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতি নিরসনে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে দায়িত্বশীল, সংযত ও সহনশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান জানাচ্ছে ইউট্যাব।
বিবৃতিতে নেতৃদ্বয় আরও বলেন, চুয়েটে শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ, একাডেমিক কার্যক্রমের স্বাভাবিক ধারাবাহিকতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে অনতিবিলম্বে চলমান অনাকাঙ্ক্ষিত আন্দোলন বন্ধ করে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানে এগিয়ে আসতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বার্থবিরোধী যেকোনো কর্মকাণ্ড পরিহার করে শিক্ষার পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তারা।
একই সঙ্গে চুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইউট্যাব নেতৃদ্বয় বলেন, কোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচারণায় প্রভাবিত না হয়ে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীল আচরণের মাধ্যমে ক্যাম্পাসে শান্তিপূর্ণ ও স্বস্তিদায়ক শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে সবাইকে আন্তরিক ভূমিকা পালন করতে হবে।
‘‘ইউট্যাব বিশ্বাস করে, পারস্পরিক সংলাপ, সহনশীলতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চার মধ্য দিয়েই চুয়েটে বিদ্যমান পরিস্থিতির শান্তিপূর্ণ সমাধান সম্ভব। দেশের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবন নির্বিঘ্ন রাখার কোনো বিকল্প নেই।’’