০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২০:০০

‘শিক্ষকদের বদলি আসলে হবে না’ কেন? বললেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া   © ভিভিও থেকে নেওয়া

বেসরকারি এমপিওভুক্ত ৬ লাখ শিক্ষকের বদলি হবে না বলে মন্তব্য করে কারণ জানিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া। 

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) ৬ লাখ শিক্ষককে তারা অনলাইনের মাধ্যমে বদলির সুযোগ করে দিয়েছেন। বিষয়টা আসলে হলো শিক্ষকদেরকে হয়রানি করা। আসলে বদলি হবে না। কারণ বাংলাদেশে ২ শতাংশ শিক্ষক হলো সরকারি, আর ৯৮ শতাংশ শিক্ষক হলো বেসরকারি। 

তিনি বলেন, ‘২ শতাংশ সরকারি শিক্ষকের জন্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবের কক্ষে যে ভিড় থাকে, তা আপনারা দেখেছেন। এই ২ শতাংশ শিক্ষককে যেখানে তারা সামলাতে পারে না। সেখানে কিভাবে তারা ৬ লাখ শিক্ষককে সামলাবে? এটার জন্য কোনো সফটওয়্যার ও কোনো ধরনের সিস্টেম তৈরি করা হয়নি। কিন্তু তারা শিক্ষকদের বলছে তোমরা আবেদন কর। 

এবার শিক্ষকরা নাচতে নাচতে আবেদন করছে, তারা মনে করছে, তাদেরটা হয়ে গেছে। আসলে এটা শিক্ষকদের হয়রানি ছাড়া আর কিছুই না। সেজন্য আমি বলছি, প্রথমে এনটিআরসিএ’র যে শিক্ষকরা রয়েছেন, তাদের বদলিটা অন্তত আরম্ভ বা শুরু করে দেন। এটা করার জন্য অর্থের খরচ হয় না, এটার জন্য তো অর্থের প্রয়োজন লাগে না।’

বিশ্ব শিক্ষক দিবস সম্মেলনে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন।

এ ছাড়াও শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্যজোটের মহাসচিব চৌধুরী মুগীস উদ্দিন মাহমুদ এবং বাংলাদেশ শিক্ষক সমিতির মহাসচিব মো. জাকির হোসেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-অর্থবিষয়ক সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, জাসাসের আহ্বায়ক চিত্রনায়ক হেলাল খানসহ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। 

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ‘বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছিলাম। সেই সময় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। 

২০১০ সালের ১২ তারিখের সমাবেশের আগে আমি ওনাকে একটা লিখিত দিলাম যে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা আপনি দেন। তাহলে এই শিক্ষকরা সবসময় এটা মনে রাখলে আপনি একটা ইতিহাসে থাকবেন। আপনি ক্ষমতায় গেলেই তো দিবেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, আগামীতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এমপিওভুক্ত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি ইনশাআল্লাহ জাতীয়করণ করব।’

তিনি বলেন, ‘সেই সময় বেগম খালেদা জিয়াকে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, সম্পদের, মানে অর্থের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এটা আমি করব। আমি এর চেয়েও বেশি কিছু দিব, বড় কিছু দিব, আরও বড় পরিসরে। উনি আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তুমি আরও একটি বড় সমাবেশ করবে। সেটা সরকারে গেলেই, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হলে বিশাল একটি সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশে আমি ঘোষণা দিব।’