০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:০২

জাতীয়করণ নিয়ে কী বলেছিলেন খালেদা জিয়া, তুলে ধরলেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া

রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিচ্ছেন অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া  © ভিভিও থেকে নেওয়া

বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা দিতে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে লিখিতভাবে অনুরোধ করেছিলেন বলে জানিয়েছেন কুমিল্লা-২ আসনের সংসদ সদস্য এবং বাংলাদেশ শিক্ষক-কর্মচারী ঐক্য জোটের মহাসচিব অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া।

বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে শিক্ষক কর্মচারী ঐক্যজোট আয়োজিত সম্মেলনে বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে এসব কথা বলেন তিনি।

অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সেই সময় খালেদা জিয়া ক্ষমতায় গেলে এমপিওভুক্ত সব বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। ওই ১২ তারিখের সমাবেশের আগে আমি ওনাকে একটা লিখিত দিলাম যে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা আপনি দেন। তাহলে এই শিক্ষকরা সবসময় এটা মনে রাখলে আপনি একটা ইতিহাসে থাকবেন। আপনি দিতে পারবেন না, ক্ষমতায় গেলেই তো দিবেন। সেই অনুষ্ঠানে তিনি বললেন, আগামীতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এমপিওভুক্ত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি ইনশাআল্লাহ জাতীয়করণ করব।

২০১০ সালের একটি সমাবেশের প্রসঙ্গ তুলে সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সে সময় রাজনৈতিকভাবে মিটিং-সমাবেশ করা কঠিন ছিল। ওই পরিস্থিতিতে বেগম খালেদা জিয়া আমাকে একটি সমাবেশ আয়োজনের নির্দেশ দিয়েছিলেন। প্রথমে ১০ মে তারিখ দেওয়া হলেও স্থান না পাওয়ায় পরে ১২ মে তারিখে সমাবেশের আয়োজন করা হয়। ২০১০ সালের ১২ মে যখন আমরা রাজনৈতিকভাবে কোনো মিটিং-সমাবেশ করতে পারছিলাম না, তখন উনি আমাকে আদেশ দিয়েছিলেন, তুমি একটি সমাবেশ কর। আমরা তো শিক্ষক মানুষ, এত বড় জায়গায় কীভাবে করব? আমি ওনার কাছে সমাবেশের জন্য গেলে, উনি আমাকে ১০ তারিখ দিয়েছিলেন। 

তিনি বলেন, ১০ মে যখন আমি চীন মৈত্রি সম্মেলন কেন্দ্রে গিয়ে দেখলাম ১০ মে খালি নেই। তখন কর্তৃপক্ষ আমাকে জানাল, ১২ মে খালি আছে, আপনি নিতে পারেন। কিন্তু এটার ভাড়া হলো পাঁচ লাখ টাকা। আর প্রধানমন্ত্রীর একটু বিশ্রাম নেওয়ার জন্য, টি-ব্রেকের জন্য আরেকটি নিতে হবে, সেটা ৭৫ হাজার টাকা। আমি একটা চেকবই নিয়ে গিয়েছিলাম। তখন তারা বলল, কালকে নিলে আপনাকে গ্যারান্টি দিতে পারব না। তখন আমি একটা চেক দিয়ে ওই ১২ তারিখের জন্য বুকিং দিয়ে চলে আসলাম। পরে ওই তারিখ নিয়ে নেত্রীর সঙ্গে আলোচনা এবং বগুড়ার একটি কর্মসূচির কারণে সমাবেশের তারিখ পরিবর্তনের কথাও জানাই।

সেলিম ভূঁইয়া বলেন, ১২ তারিখে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রীর বগুড়াতে তৃণমূল— মানে বিএনপিকে সংগঠিত করার একটি কর্মসূচি ছিল। সেখানে আমানুল্লাহ আমান সাহেব ছিলেন। আমি আমানুল্লাহ আমান সাহেবকে রিকোয়েস্ট করলাম যে ভাই, ১২ তারিখে এইটা খালি। ম্যাডাম আমাকে তারিখ দিয়েছেন। তখন তিনি আমাকে সহযোগিতা করলেন। আমাদেরটা ১৩ তারিখ করলেন। 

শিক্ষকদের জাতীয়করণের দাবি নিয়ে খালেদা জিয়ার কাছে লিখিত দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, ১২ তারিখের ওই সমাবেশের আগে আমি ওনাকে একটা লিখিত দিলাম যে, বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণের ঘোষণা আপনি দেন। তাহলে এই শিক্ষকরা সবসময় এটা পেলে আপনি একটা ইতিহাস করতে পারবেন। আমার দেওয়া হিসাব নিয়ে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী ও শিক্ষা সচিবের সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল। উনি তখন এটা হিসাব করে তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রীকে ডাকলেন। শিক্ষা সচিব শহিদুল আলম সাহেব ছিলেন, তাকেও ডাকলেন। বললেন, ও (অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া) যে হিসাব দিছে, এই হিসাবটা কীভাবে? তখন তারা বললেন, সেলিম ভাই যে হিসাব দিছে, এই হিসাবটা পুরো সঠিক না। কিন্তু বর্তমান প্রয়োজনে আপনি এটার কোনো বিকল্প নেই। 

জাতীয়করণের বিষয়ে সমাবেশে ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে অধ্যক্ষ সেলিম ভূঁইয়া বলেন, সেই অনুষ্ঠানে বেগম জিয়া বললেন, আগামীতে জনগণের সমর্থনে সরকার গঠন করতে পারলে আমরা এমপিওভুক্ত সকল বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীদের চাকরি জাতীয়করণ করব ইনশাআল্লাহ।

তিনি বলেন, ওই সময় বেগম খালেদা জিয়াকে আরও বড় পরিসরে কর্মসূচি আয়োজনের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। উনি বলেছিলেন, সম্পদের, মানে অর্থের সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও এটা আমি করব। আমি এর চেয়েও বেশি কিছু দিব, বড় কিছু দিব, আরও বড় পরিসরে। উনি আমাকে ইঙ্গিত দিয়েছিলেন যে তুমি আরও একটি বড় সমাবেশ করবে। সেটা সরকারে গেলেই, ২০১৪ সালের নির্বাচনে ইনশাআল্লাহ বিজয়ী হলে বিশাল একটি সমাবেশ করবে। সেই সমাবেশে আমি ঘোষণা দিব।