০৬ অক্টোবর ২০২৬, ২২:২৭

বিদ্যালয়ের সভায় শিক্ষিকাকে থাপ্পড় আরেক শিক্ষকের, ভিডিও ভাইরাল

শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়  © সংগৃহীত

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সভা চলাকালে এক সহকারী শিক্ষিকাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে তারই সহকর্মী ও স্বামীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনার ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

অভিযোগের পর তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করেছে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ সেপ্টেম্বর কলমাকান্দার পোগলা ইউনিয়নের শুনই সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সভা চলাকালে প্রধান শিক্ষক মো. সিরাজুল ইসলামের সঙ্গে সহকারী শিক্ষক মো. খুরশেদ আলমের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। এ সময় খুরশেদ আলমের স্ত্রী ও ওই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা তাদের থামতে বললে তিনি ক্ষুব্ধ হয়ে তাকে থাপ্পড় মারেন।

ঘটনার পর ২০ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। পরে উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা শীতেষ চন্দ্র পালকে প্রধান করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি গত সোমবার বিকেলে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনার ভিডিওটি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ১ মিনিট ৫৮ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে খুরশেদ আলমকে প্রধান শিক্ষকের সঙ্গে উত্তেজিতভাবে কথা বলতে দেখা ও শোনা যায়। একপর্যায়ে পাশে বসা তার স্ত্রী তাকে শান্ত হতে বললে খুরশেদ বলেন, ‘থাপ্পড় দিয়া দাঁত ফালাইয়া দিবো, কথা কস ক্যারে?’

এর জবাবে শিক্ষিকাকে বলতে শোনা যায়, ‘এখন রাখুন, এটা অফিস।’ এরপর খুরশেদ বলেন, ‘অফিস হইছে দেইখ্খা কী হইছে? আমি কি কেউর কর্মচারী?’ পরে তিনি তার স্ত্রীকে থাপ্পড় মেরে বলেন, ‘বাইর হ।’

অভিযুক্ত শিক্ষক মো. খুরশেদ আলম বলেন, তিনি আট বছর ধরে ওই বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করছেন এবং তার স্ত্রী প্রায় পাঁচ বছর ধরে সেখানে কর্মরত। ঘটনার জন্য তিনি অনুতপ্ত। ঘটনার সময় তিনি নিজের রাগ সংযত করতে পারেননি। বিষয়টি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ায় তিনি নিজেও বিব্রত অবস্থায় রয়েছেন। তিনি ও তার স্ত্রী নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন বলেও জানান।

কলমাকান্দা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মোশাররফ হোসেন খান বলেন, ‘তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। অভিযুক্ত শিক্ষক খুরশেদ আলমের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কাছে সুপারিশ করা হয়েছে।’

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, স্বামী-স্ত্রী হলেও বিদ্যালয়ের মধ্যে কোনো শিক্ষক আরেকজন শিক্ষককে থাপ্পড় মারতে পারেন না। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তিনি বলেন, এমন অসদাচরণ চাকরি বিধির পরিপন্থী। ইতিমধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেয়েছেন। এ বিষয়ে বিভাগীয় মামলার প্রস্তুতি চলছে।