শিক্ষাঙ্গনে সহিংসতায় শিক্ষা অধিকার সংসদের উদ্বেগ, ৩ দফা দাবি
দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সাম্প্রতিক সংঘাত ও সহিংসতার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে শিক্ষা অধিকার সংসদ। সংগঠনটি এসব ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ তদন্ত, দোষীদের আইনের আওতায় আনা এবং শিক্ষাঙ্গনে গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে তিন দফা দাবি জানিয়েছে।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) এক বিবৃতিতে শিক্ষা অধিকার সংসদের সদস্য-সচিব এবং জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন এ উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনে সোমবার ও মঙ্গলবার ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে যে ধরনের সংঘাত ও সংঘর্ষের ঘটনা আমরা দেখেছি তা আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। ক্যাম্পাসে ছাত্র সংগঠনগুলোর এ ধরনের আচরণ রাজনৈতিক সংস্কৃতি গভীর অসুস্থতার প্রতিচ্ছবি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রসংগঠনগুলোর সংঘর্ষ, প্রতিপক্ষের ওপর হামলা এবং ভয়াবহভাবে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মানুষের ওপর আক্রমণের ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়। এটি নৈতিকতার পরাজয়, মানবিকতার সংকট এবং শিক্ষার মূল চেতনার ওপর আঘাত।’
তিনি আরও বলেন, ‘দুঃখজনকভাবে আমরা দেখে আসছি—ছাত্রসংগঠনগুলো সুযোগ পেলেই সহিংসতার ভাষায় কথা বলে। রড, লাঠি, ধারালো অস্ত্র, আতঙ্ক এবং দখলদারির রাজনীতি যেন ক্যাম্পাসগুলোতে আবার ফিরে এসেছে। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগ ক্যাম্পাসগুলোতে যে নির্মমতা চালিয়েছিল, আজকের ঘটনা যেন তারই পূনরাবৃত্তি। বিস্ময়কর হলেও সত্য, আজকে যারা শিক্ষাঙ্গনে ক্রিয়াশীল তারাই তখন হামলার লক্ষ্যবস্তু ছিলো, অথচ তারাই এখন হামলাকারীর ভূমিকায়।’
বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয় এমন একটি জায়গা, যেখানে মতের অমিল থাকবে, তর্ক হবে, আন্দোলন হবে, প্রতিবাদ হবে। কিন্তু সহিংসতা কখনোই শিক্ষাঙ্গনের ভাষা হতে পারে না। যে ছাত্র রাজনীতি চিন্তার পরিবর্তে পেশিশক্তিকে বেছে নেয়, যে সংগঠন যুক্তির পরিবর্তে হামলাকে বেছে নেয় এবং যে নেতৃত্ব অনুসারীদের মানবিকতার পরিবর্তে ঘৃণা শেখায়—তারা শিক্ষাঙ্গনের নয়, বরং অন্ধ ক্ষমতার রাজনীতির প্রতিনিধি।’
শিক্ষা অধিকার সংসদ বিবৃতিতে সব ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিন দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো—
১. ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করে জড়িতদের দলীয় পরিচয় নির্বিশেষে আইনের আওতায় আনতে হবে।
২. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালকে রাজনৈতিক সহিংসতার বাইরে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৩. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গণতান্ত্রিক, সহনশীল ও মানবিক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
বিবৃতির শেষে শিক্ষা অধিকার সংসদ জানায়, ‘শিক্ষাঙ্গন হোক জ্ঞান, বিতর্ক, সহমর্মিতা ও ন্যায়বিচারের স্থান—ভয়, দখল, প্রতিশোধ ও রক্তপাতের নয়।’