যত বেশি ভিন্নমতকে ধারণ করবে, ততই সফল হবে ইউটিএল
সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের সফলতা নির্ভর করবে কতটা ভিন্নমত ও ভিন্নপথের মানুষকে এই সংগঠন ধারণ করতে পারে তার ওপর। তাই শুরু থেকেই সংগঠনটির নীতিগত ভিত্তি শক্তিশালী করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। আজ শনিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে ইউটিএলের প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে এ মন্তব্য করেন তিনি।
রাবি অধ্যাপাক ড. সালেহ হাসান নকীব বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠনকে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও পেশাদার চরিত্রের হওয়া প্রয়োজন। এ ধরনের সংগঠনে ধর্মীয় পরিচয়ের প্রকাশ বা রিলিজিয়াস ওভারটোন যত কম রাখা যায়, ততই সংগঠনের জন্য কল্যাণকর। সংগঠনটি যেন ভবিষ্যতে পদ-পদবি পাওয়ার সিঁড়িতে পরিণত না হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এই ধরনের প্ল্যাটফর্মের চরিত্র হওয়া উচিত ইনক্লুসিভ। এর পরিসর যত বিস্তৃত হবে, তত বেশি ভিন্নমত ও ভিন্নপথের মানুষকে একসঙ্গে নিয়ে চলা সম্ভব হবে।
নিজের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমি নিজে একজন বিশ্বাসী মানুষ। আমার ব্যক্তিগত জীবনে বিশ্বাসই সবচেয়ে বড় সম্পদ। কিন্তু কোনো প্রফেশনাল অর্গানাইজেশনে রিলিজিয়াস ওভারটোন যত কম রাখা যায়, আখেরে সেটাই বেশি কল্যাণ বয়ে আনে। একজন মানুষের প্রকৃত পরিচয় তার চরিত্র, আমানতদারিত্ব ও সত্যনিষ্ঠতায়। ধর্মীয় পরিচয়কে বাহ্যিকভাবে প্রদর্শনের প্রবণতা কমিয়ে পেশাদারিত্বকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে কিছু সংগঠন পদ-পদবি পাওয়ার মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইউটিএল যেন কখনো সেই পথে না যায়, সেদিকে শুরু থেকেই সতর্ক থাকতে হবে। অন্যথায় দীর্ঘমেয়াদে সংগঠন, প্রতিষ্ঠান ও দেশ—কোনোটিই এর সুফল পাবে না।
উচ্চশিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে রাকির সাবেক উপাচার্য বলেন, উচ্চশিক্ষার কাছ থেকে তিনটি বিষয় প্রত্যাশিত—উচ্চমানের বিষয়ভিত্তিক জ্ঞান, চিন্তা করার সক্ষমতা এবং উদ্ভাবনী দক্ষতা। এর পাশাপাশি বাংলাদেশের মতো রাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা হলো জাতীয় সংকটে পথ দেখানো। শিক্ষা সবসময়ই সংকটে পথ দেখায়। বাংলাদেশের সামনে আরও নানা ধরনের সংকট আসবে। সেসব সংকট থেকে উত্তরণের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হতে পারে উচ্চশিক্ষা।'
শিক্ষকতার পেশা নিয়ে ড. নকীব বলেন, একজন শিক্ষকের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ গুণ হলো শেখার প্রতি ভালোবাসা। যারা শিখতে ভালোবাসেন না, তাদের জন্য শিক্ষকতা উপযুক্ত পেশা নয়। প্রথম দিন থেকে শেষ দিন পর্যন্ত একজন শিক্ষকের মধ্যে ‘লাভ অব লার্নিং’ থাকতে হবে।