৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬:৫১

ইউটিএল-এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী: ঢাবিতে দিনব্যাপী সম্মেলন শনিবার 

ইউটিএল-এর ১ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী আয়োজন উপলক্ষ্যে ঢাবির টিচার্স ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন  © সংগৃহীত

দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সংগঠন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) আগামীকাল শনিবার দিনব্যাপী সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। 

‘বিপ্লব ও বিজয়ে ৩৬ জুলাই: নতুন প্রত্যাশায় আগামীর ভাবনা’ শীর্ষক প্রতিপাদ্যে সকাল ১০টায় ঢাবির মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। 

আজ শুক্রবার বিকাল ৩টায় ঢাবির টিচার্স ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়। 

অনুষ্ঠানে ‘উচ্চ শিক্ষায় উৎকর্ষ ও পেশাদারিত্ব: সময়ের অনিবার্য অপরিহার্যতা’ শীর্ষক প্রবন্ধ উপস্থাপন করবেন রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আতিয়ার রহমান। 

বিশেষ অতিথি হিসেবে জাতীয় সংসদের সংসদ সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ও বর্তমান উপাচার্য, উপ-উপাচার্য এবং ট্রেজারার, রাজনৈতিক নেতাসহ পেশাজীবি সংগঠন, ছাত্র সংসদের নেতা ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত থাকবেন।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংক (ইউটিএল)-এর ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক। 

ইউটিএলের সদস্য সচিব ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়, ধর্মীয় মূল্যবোধ, বাংলাদেশী জাতীয়তাবাদ এবং ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণের একটি জাতীয় প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ২০২৫ সালের ২৬ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে ইউনিভার্সিটি টিচার্স' লিংক (ইউটিএল)-এর যাত্রা শুরু হয়। প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকেই ইউটিএল চারটি মূলনীতি- জ্ঞান, আত্মমর্যাদা, বিশ্বাস ও স্বাধীনতা- কে ধারণ করে এগিয়ে চলেছে এবং মতাদর্শিক ভিন্নতা সত্ত্বেও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের মধ্যে যারা একটি ন্যায়ভিত্তিক, মর্যাদাসম্পন্ন ও জ্ঞাননির্ভর বাংলাদেশ গঠনের প্রত্যয়ে বিশ্বাসী, তাদের সকলকেই ইউটিএল আন্তরিকভাবে স্বাগত জানায়। 

ইউটিএল এমন একটি উচ্চশিক্ষা ব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে, যেখানে বিশ্ববিদ্যালয় হবে জ্ঞানচর্চা, গবেষণা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের কেন্দ্র। একই সঙ্গে দেশের পাবলিক ও প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকগণ দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বৈষম্য, বঞ্চনা ও প্রাতিষ্ঠানিক সীমাবদ্ধতার মুখোমুখি হয়ে আছেন। ইউটিএল সেই বৈষম্যের অবসান এবং শিক্ষক সমাজের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করতে বদ্ধপরিকর। 

১৯৪৭ সালের আজাদী, ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধ এবং ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব- এই তিনটি ঐতিহাসিক মাইলফলকের চেতনাকে ধারণ করে একটি বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক, জ্ঞানসমৃদ্ধ ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে অগ্রসর হবার বিষয়েও ইউটিএল কমিটেড। এরকম প্রেক্ষিত বিবেচনায় ‘বিপ্লব ও বিজয়ের ৩৬ জুলাই: নতুন প্রত্যাশায় আগামীর ভাবনা’-এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ইউটিএলের প্রথম বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে। 

আগামীকাল শনিবার (১ আগস্ট) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মুজাফ্ফর আহমেদ চৌধুরী মিলনায়তনে প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিন সকাল ৯টায় রেজিস্ট্রেশন শুরু হবে। 

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউটিএল শিক্ষা সেমিনার, গবেষক নেটওয়ার্ক তৈরি, জাতীয় শিক্ষানীতি প্রণয়ন, কারিকুলাম সংস্কার ইত্যাদি ইস্যুতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অধিকার ও নৈতিক সুরক্ষা, গবেষণা তহবিল প্রতিষ্ঠা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের একাডেমিক স্বাধীনতা প্রদান, গবেষণা তহবিল বাড়ানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্র এবং সরকারের কাছে সঠিক বিবেচনার আহবানও জানিয়েছে। বিভিন্ন জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু যেমন রাজনৈতিক বিবেচনায় উপাচার্য নিয়োগ, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীকে গুলি করে হত্যার ঘটনা, স্কুল কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি মনোনয়নে অসংগতিসহ নানান ইস্যুতে বিভিন্ন সময়ে ইউটিএল যৌক্তিক মতামত তুলে ধরেছে এবং প্রতিবাদ জানিয়েছে। 

এসব কার্যক্রম বেগবান করতে বিগত এক বছরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়সহ অনেক ক্যাম্পাসে আজ ইউটিএল-এর চ্যাপ্টার গঠিত হয়েছে। 

ইউটিএল জাতি গঠনে শিক্ষকের ভূমিকা শীর্ষক সেমিনার, আলোচনা সভা; যেখানে বরেণ্য শিক্ষাবিদ এবং গবেষকগণ দিকনির্দেশনা দিয়েছে। ঐতিহাসিক ঘটনা, দিবসগুলোর তাৎপর্য এবং জুলাই বিপ্লব নিয়ে বুদ্ধিবৃত্তিক আলোচনার আয়োজন করা হয়েছে, যাতে নতুন প্রজন্ম প্রকৃত ইতিহাস জানতে পারে।