০৬ জুলাই ২০২৬, ২০:৪৭

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-বরাদ্দে নতুন নিয়ম শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক বিকাশে পরিপন্থী

ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের লোগো  © সংগৃহীত

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা-বরাদ্দে নতুন নিয়ম শিক্ষকদের অ্যাকাডেমিক বিকাশে পরিপন্থী বলে মন্তব্য করেছেন ইউনিভার্সিটি টিচার্স লিংকের (ইউটিএল) আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. যুবাইর মুহাম্মদ এহসানুল হক এবং সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বিলাল হোসাইন। 

আজ সোমবার ইউটিএলের কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি ও প্রচার টিমের সদস্য ড. মুহাম্মদ শামসুজ্জামান রাজীবের সই করা এক বিবৃতিতে এ প্রতিবাদ জানান তারা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা বরাদ্দ ইউজিসির নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে বিবৃতিতে ইউটিএল নেতারা বলেন, ‘বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে গবেষণা কার্যক্রমকে গতিশীল, ফলপ্রসূ ও প্রাতিষ্ঠানিকভাবে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে বাংলাদেশ সরকার বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের জন্য গবেষণা খাতে বরাদ্দ প্রদান চালু রেখেছে। 

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠান হিসেবে নিজ নিজ অ্যাকাডেমিক কাঠামো, অনুষদভিত্তিক প্রয়োজন, গবেষণার ক্ষেত্র এবং প্রাতিষ্ঠানিক বাস্তবতা বিবেচনায় এই বরাদ্দ সুষমভাবে বণ্টন করে আসছিল। এর ফলে বিভিন্ন অনুষদের শিক্ষকগণ গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি অ্যাকাডেমিক উৎকর্ষতা এবং পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ পেতেন। কিন্তু গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, ২০২৬–২০২৭ অর্থবছর থেকে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা খাতে নিয়মিত বরাদ্দ শূন্য করে দিয়ে ওক্ত ফান্ডের নিয়ন্ত্রণ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনে (ইউজিসি) নেওয়া হয়েছে।’

তারা বলেন, এ ধরনের সিদ্ধান্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন, গবেষণার স্বাধীনতা এবং শিক্ষকসমাজের একাডেমিক বিকাশের পরিপন্থী। গবেষণা বরাদ্দের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের নিজস্ব প্রশাসনিক ও একাডেমিক কাঠামোকে অগ্রাহ্য করা হয়েছে এবং ইউজিসির মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করা হয়েছে; আর এই প্রচেষ্টা কখনো বাস্তবসম্মত নয়।’

বিবৃতিতে বলা হয়, ইউজিসির মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে বরাদ্দ নিয়ন্ত্রণ করা হলে গবেষণা কার্যক্রমে জটিলতা, দীর্ঘসূত্রিতা এবং প্রশাসনিক অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ইতোমধ্যে ইউজিসির বিভিন্ন কার্যক্রমে লোকবল সংকট ও প্রশাসনিক দীর্ঘসূত্রিতার অভিজ্ঞতা শিক্ষকসমাজের কাছে স্পষ্ট। বাংলাদেশের উচ্চশিক্ষা, গবেষণা ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গঠনের স্বার্থে বিশ্ববিদ্যালয়ভিত্তিক গবেষণা কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত নয়, বরং আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন। 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহের গবেষণা খাতের বরাদ্দ অবিলম্বে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন ক্ষুণ্ন করে গবেষণা বরাদ্দের ওপর কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অন্যথায়, শিক্ষকগণ এ বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।