১০ জুন ২০২৬, ১১:৪৭

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ চান প্রাথমিকের সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকরা

সংবাদ সম্মেলনে প্রাথমিক শিক্ষকেরা   © সংগৃহীত

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক পদে চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের দ্রুত যোগদান ও পদায়নের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষকেরা। দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ প্রক্রিয়া ঝুলে থাকায় তারা চরম অনিশ্চয়তা ও মানসিক চাপের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। এ অবস্থায় দ্রুত সমাধানের জন্য তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

বুধবার (১০ জুন) সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তারা এই দাবি জানান। এ সময় তারা দ্রুত যোগদান, পদায়ন এবং পরবর্তী পর্যায়ে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষকেরা বলেন, তারা দীর্ঘদিন ধরে অপেক্ষার মধ্যে রয়েছেন। তারা জানান, চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত হওয়ার পরও এখনো যোগদানের সুযোগ পাননি। এতে তারা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃষ্টি আকর্ষণ করে শিক্ষকেরা বলেন,  'আমরা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ১৪ হাজারেরও বেশি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত শিক্ষক। গত ফেব্রুয়ারি মাসে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার পর মেডিকেল পরীক্ষা এবং একাধিক ধাপের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেও আজ পর্যন্ত যোগদানের অপেক্ষায় রয়েছি। দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকায় আমরা অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হচ্ছি।' 

তারা আরও বলেন, 'প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগে ৯৩% মেধা ও ৭% কোটা অনুসরণ করে একটি স্বচ্ছ, সুন্দর ও গ্রহণযোগ্য নিয়োগ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছি। আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, আপনি এই মেধাবী শিক্ষক সমাজের স্বপ্নের সারথি হয়ে আমাদের দ্রুত যোগদানের ব্যবস্থা করবেন এবং দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নে অবদান রাখার সুযোগ করে দেবেন। আপনার সদয় হস্তক্ষেপ ও আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কাম্য। বিনীত, ১৪ হাজারেরও বেশি চূড়ান্তভাবে সুপারিশপ্রাপ্ত প্রাথমিক শিক্ষকবৃন্দ।’

জানা যায়, অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে চলতি বছরের ৯ জানুয়ারি পার্বত্য তিন জেলা ছাড়া দেশের ৬১ জেলায় সহকারী শিক্ষক নিয়োগের লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। এরপর ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে ১ মার্চ পর্যন্ত প্রার্থীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা, ডোপ টেস্টসহ সব ধরনের যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হয়।

মোট ১০ লাখ ৮০ হাজারের বেশি আবেদনকারীর মধ্যে ৬৯ হাজার ২৬৫ জন মৌখিক পরীক্ষার জন্য নির্বাচিত হন। পরে চূড়ান্তভাবে ১৪ হাজার ৩৮৪ জন প্রার্থী নিয়োগের সুপারিশ পান।

নিয়ম অনুযায়ী যোগদান প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার কথা থাকলেও অজ্ঞাত কারণে গত কয়েক মাস ধরে সেটি আটকে আছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরও কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা দেয়নি বলে অভিযোগ করেন প্রার্থীরা।

সূত্র জানায়, সুপারিশপ্রাপ্ত এই শিক্ষকদের মূল্যায়ন দুই ধাপে সম্পন্ন করা হবে। এরপর সামগ্রিক প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে এবং সেখান থেকে যোগদানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।