‘সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসিদের দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে’
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক নাসির উদ্দিন আহমদ বলেছেন, সরকারকে প্রকৃত অর্থে একটা দলনিরপেক্ষ অবস্থানে যেতে হবে। সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে, বিশেষ করে ভিসিদের দলনিরপেক্ষভাবে কাজ করতে হবে। আর শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যেভাবে শিক্ষকদের নামে মামলা হচ্ছে, হত্যা মামলা হচ্ছে— একজনের চাকরি বন্ধ রাখা হচ্ছে— এগুলো বন্ধ করতে হবে। এই ব্যাপারগুলোকে সরকারকে গুরুত্ব দিতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকার যেভাবে ঘোষণা দিয়েছে যে যাচাই-বাছাই করা হবে, সরকার দ্রুত যেন যাচাই-বাছাই করে শিক্ষকদেরকে এই অস্বস্তিকর অবস্থা থেকে মুক্ত করে।
আজ শনিবার ( ১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়: সাম্প্রতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, একটা মামলাতে ১৪ জন শিক্ষককে হত্যা মামলায় জড়িত করা হয়েছে। সেই মামলায় যারা আছেন, তাদের মধ্যে দুই-একজনকে মারধর করে তুলে নেওয়া হয়েছে বা পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। আর অনেকেই কাজে যোগ দিতে পারছেন না। আর যারা কাজে যাচ্ছেন, তারাও সবসময় একটা ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে আছেন। অন্তর্বর্তী সরকার বলেছিল যে, যেসব শিক্ষকের নামে মামলা হয়েছে সেগুলো যাচাই-বাছাই করা হবে, আমরা রিপোর্ট দেখছি। অপরপক্ষে ছাত্র, শিক্ষক এবং ব্যবসায়ীদের নামে যেসব হত্যা মামলা হয়েছে, প্রত্যেকের কাছেই নগদ কোনো চাঁদা দাবি করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য সুনির্দিষ্ট সার্ভিস রুল সরকার প্রবর্তন না করবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা তাদেরকে কোনো ফ্রন্টেই রক্ষা করতে পারবো না। কারণ নিয়োগের প্রক্রিয়া এবং চাকরি থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়— দুটোই নিয়ন্ত্রণহীন। ইউজিসিকে এবং সরকারকে এ বিষয়টি হাতে নিতে হবে। প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের, ছাত্রদের এবং কর্মচারীদের চাকরির নিরাপত্তা সরকার নির্ধারণ করবে। সরকার যদি ইউজিসির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় নিয়ন্ত্রণ করতে পারে, তাহলে সরকার শিক্ষকদের, ছাত্রদের এবং কর্মচারীদের অধিকারও নিশ্চিত করবে। তাদের অধিকারের সার্ভিস রুল থাকতে হবে। সার্ভিস রুল না থাকার কারণে এখানেও নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।