অন্তর্বর্তী সরকার ৮০ শতাংশ ভিসি দলীয় ভাগাভাগির মাধ্যমে নিয়োগ দিয়েছে: ড. তানজিমউদ্দিন খান
বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৫ থেকে ৮০ শতাংশ ভিসি দলীয়ভাবে ভাগাভাগির মাধ্যমে নিয়োগ হয়েছে দাবি করেছেন সদ্য পদত্যাগ করা বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দিন খান।
তিনি বলেছেন, ভিসিদের অনেক সময় তাদের সিভি অনেক সুনাম করে প্রচার করা হয়েছে। অনেক পৃষ্ঠার সিভি দেখানো হয়েছে। কিন্তু দেখা যাচ্ছে, উনারা যখন চেয়ারে গেছেন, আওয়ামী লীগ আমলের নিয়োগ প্রক্রিয়ার চাইতেও খারাপভাবে অনেক ক্ষেত্রে শিক্ষক নিয়োগ দিয়েছেন।
আজ শনিবার (১৬ মে) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নেটওয়ার্ক আয়োজিত ‘অভ্যুত্থান-উত্তর বিশ্ববিদ্যালয়: সাম্প্রতিক বাস্তবতা’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় এমন মন্তব্য করেনি তিনি।
‘‘ঢাকার বাইরের বিশ্ববিদ্যালয়ের কথা বলছি—একটা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্ট, এবং সেই ইউনিভার্সিটির ক্যাটাগরি ‘ডি’ ক্যাটাগরিও না, সেখানকার স্টুডেন্টকেও পাবলিক ইউনিভার্সিটির শিক্ষক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে শুধুমাত্র দলীয় পরিচয়ের কারণে। তার মানে, আমরা যে নিপীড়নের কথা বলছি—শারীরিক বা মানসিক—যারা যোগ্য মানুষ হয়েও শিক্ষকতায় আসতে পারলেন না, তারা তো আসলে আরেক ধরনের মানসিক নিপীড়নের শিকার।’’ এই নিপীড়নের কথাটা কে বলবে, প্রশ্ন রাখেন ড. তানজিমউদ্দিন খান।
ইউজিসিতে সদস্য থাকাকালীন নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, যারা সবসময় সততার কথা বলে—তারা কতটা অসৎ, আমি তার প্রত্যক্ষ সাক্ষী। এবং নিপীড়ন শুধু মানসিক কিংবা শারীরিক না, নিয়োগেও নিপীড়ন আছে।
‘‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে দেখেছি লিখিত পরীক্ষার নামে কী ধরনের প্রহসন হয়েছে। রাজশাহী ইউনিভার্সিটি, চিটাগং ইউনিভার্সিটি, নোয়াখালী সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি ইউনিভার্সিটিতে—বিভিন্ন জায়গায় এমন ঘটনা ঘটেছে। যারা সততার কথা বলেন, তাদের অসততার কিছু উদাহরণ দিচ্ছি। কেন আমি অনলাইনে ন্যাশনাল ‘পাঞ্চিং ব্যাগ’-এ পরিণত হয়েছি, কেন কোনো প্রমাণ ছাড়া আমাকে হাজার হাজার কোটি টাকার মালিক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে, কেন আমার কোনো স্টেটমেন্ট না নিয়ে, আমার সঙ্গে ফোনে কথা না বলে আমাকে কোট করা হয়েছে—এই পত্রিকাগুলো অনলাইনে করেছে। কিছু পত্রিকা তো ভয়ংকর।’’
একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়োগসংক্রান্ত উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, একটা বিশ্ববিদ্যালয়ের একটা বিভাগে নিয়োগ হবে। প্যানেল করা হয়েছে চারজন বা পাঁচজনের। এরকম কখনো আমি শুনিনি যে ওইভাবে নিয়োগ হতে পারে। প্যানেলে যিনি প্রথম, তিনি চাকরি পাননি। পরে সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো—ওই প্যানেল থেকে পরবর্তী এক বছরে যখন ওই ডিপার্টমেন্টে পোস্ট খালি হবে, তখন ওই প্যানেল থেকেই নেওয়া হবে। উনারা সততার কথা বলেন! ইউজিসির অনুমোদন ছাড়া ২৫০ নিয়োগ প্রক্রিয়া চলে গেছে। দুইশ মানুষের নিয়োগ হয়েছে। এরকম উদাহরণ দিচ্ছি। আমরা ইউজিসি থেকে অনুমোদন দিয়েছি—সম্ভবত আমার এক্স্যাক্ট ফিগারটা মনে নেই—২০ জন শিক্ষকের, তাদের চাহিদা অনুযায়ী, বাজেটের সঙ্গে মিলিয়ে। কিন্তু আমাদের বাজেট টিম যখন গিয়ে দেখলো, ১৭ জনই সেই বিভাগগুলোতে নেওয়া হয়নি। তার মানে, যিনি উপাচার্য ছিলেন, তিনি বিভাগের চাহিদা অনুযায়ী না নিয়ে নিজের চাহিদা অনুযায়ী লোক নিয়েছেন। আমাদের বাজেট টিম গিয়ে যখন এটা আইডেন্টিফাই করেছে, তখন উনি আমার কাছে এসেছেন ভূতাপেক্ষ অনুমোদন নিতে।
তিনি আরও বলেন, চিটাগং ইউনিভার্সিটি এবং রাজশাহীর যে লিখিত পরীক্ষাগুলো হয়েছে, এমনও অভিযোগ আছে—যারা লিখিত পরীক্ষার প্রশ্ন করেছে, তাদের নিজস্ব ক্যান্ডিডেটদের আগেই প্রশ্ন দিয়ে দেওয়া হয়েছে। কেউ কেউ বাসা থেকে লিখে নিয়ে এসেছে—এরকম অভিযোগও এসেছে। তার মানে, আমরা তো নিপীড়নের কথা বলছি। কিন্তু শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে যে প্রক্রিয়া, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী রাজনৈতিক নিয়োগের কথা বলেছেন—সেই জায়গায় কিন্তু কোনো পরিবর্তন আসেনি।