০৭ মার্চ ২০২৬, ২০:৫১

দায়সারা কার্যক্রমের অভিযোগ ইবির শিক্ষক সংগঠনের বিরুদ্ধে, শিক্ষার্থীদের নিন্দা

বিএনপি-জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন ও ইবির লোগো  © সংগৃহীত

ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইবি) সমাজকল্যাণ বিভাগের সভাপতি সহকারী অধ্যাপক আসমা সাদিয়া রুনা হত্যার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েই দায়সারা কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিয়াশীল শিক্ষক সংগঠনগুলোর বিরুদ্ধে। এতে ক্ষোভ ও নিন্দা জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। নিজ ক্যাম্পাসে এমন নৃশংস ঘটনায় রাজপথে কর্মসূচি দেওয়া যেত বলে মন্তব্য তাদের। 

গত ৪ মার্চ বিকালে থিওলজি অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ অনুষদের দ্বিতীয় তলায় সমাজকল্যাণ বিভাগের নিজ অফিস কক্ষে কর্মচারী ফজলুর হাতে প্রাণ হারান বিভাগীয় সভাপতি আসমা সাদিয়া রুনা। বিভাগের শিক্ষকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে শোকের ছায়া নেমে আসে ক্যাম্পাস জুড়ে। হত্যাকারীদের বিচারক দাবিতে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন শিক্ষার্থীরা। 

নিজ কর্মস্থলে একজন শিক্ষকের এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ডে গভীর শোক ও উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাদা দল, নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় জাতীয়তাবাদী শিক্ষক ফোরামের নেতারা। একইসাথে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি করেছে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়, মাওলানা ভাসানী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা।

তবে যে বিশ্ববিদ্যালয়ে এমন নৃশংস ঘটনা সেই ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের দেখা যায়নি মানববন্ধন বা কোন প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দিতে। ঘটনার পরদিন গভীর শোক ও হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করে বিবৃতি দেয় ইবির বিএনপিপন্থী শিক্ষকদের সংগঠন জিয়া পরিষদ ও ইউট্যাব এবং জামায়াতপন্থী শিক্ষক সংগঠন গ্রীণ ফোরামের নেতারা। তবে কাগজে-কলমে বিবৃতির পাশাপাশি স্বশরীরে কোনো কর্মসূচি না দেওয়ায় শিক্ষকদের এমন কর্মকাণ্ডকে দায়সারা বলছেন শিক্ষার্থীরা। তবে আগামী রবিবার প্রতিবাদ কর্মসূচি পালিত হবে বলে জানা গেছে। 

মাভাবিপ্রবি শিক্ষকদের মানববন্ধনের ভিডিও শেয়ার করে সমাজকল্যাণ বিভাগের শিক্ষার্থী মিতু লিখেছেন, মনে হচ্ছে ইবিতে কিছুই হয়নি! এদেরকে কিছু বললেও চুপ থাকে, গালাগালি করলেও চুপ থাকে, জুতা ছুড়ে মারলেও চুপ থাকে। ইবিতে কোনো কিছুই লজ্জাজনক না, এগুলো ইবির ন্যাচার.. ছিহ! 

একই বিভাগের শিক্ষার্থী তমা লিখেছেন, আজ পর্যন্ত এরা স্বার্থ ছাড়া কিছু করছে? বেতন নিয়ে আন্দোলন করতে বলেন দেখবেন করবে। ফালতু সব! 

দাওয়াহ এন্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মশিউর রহমান লিখেছেন, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মানিত শিক্ষকগণ। আমরা লজ্জিত! যে আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে কোন মানববন্ধন বা প্রতিবাদ দেখলাম না আপনাদের পক্ষ থেকে। 

লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী এজাজ লিখেছেন, ইবি শিক্ষিকা রুনা ম্যাডামের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাভাবিপ্রবি শিক্ষকদের মানববন্ধন। কিন্তু নিজের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের কাউকেই এখনো এ বিষয়ে কথা বলতে বা প্রতিবাদ জানাতে দেখলাম না—এটা সত্যিই হতাশাজনক।  

ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী পপি লিখেছেন, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি নির্মম হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। অথচ সবচেয়ে বিস্ময়ের বিষয়..... আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এখনও নীরব! যেখানে অন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা এই ঘটনার বিরুদ্ধে কথা বলছেন, সেখানে আমাদের শিক্ষকদের এই নীরবতা সত্যিই লজ্জাজনক। শিক্ষকরা শুধু জ্ঞান দেওয়ার মানুষ নন, তারা ন্যায় ও সত্যের পক্ষে দাঁড়ানোরও পথপ্রদর্শক। তাই এমন একটি ঘটনার পর তাদের নীরবতা অনেক প্রশ্নের জন্ম দেয়। ছিহ্ প্রশাসন ছিহ্! 

তবে আগামীকাল রবিবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম এবং গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ড. মোস্তাফিজুর রহমান। 

গ্রীণ ফোরামের সাধারণ সম্পাদক ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা একেবারেই নিশ্চুপ বিষয়টা এমন নয়। ক্রিয়াশীল সব শিক্ষক সংগঠন মিলে আলাপ আলোচনা করে আগামীকাল প্রশাসন ভবনের সামনে প্রতিবাদ কর্মসূচি পালনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

তবে কর্মসূচী আহ্বানে বিলম্বের কারণ হিসেবে জিয়া পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, শুক্রবার ও শনিবার প্রশাসনের উদ্যোগে দোয়া মাহফিল ও একদিনের শোক কর্মসূচি ছিল, আজ সবাই কালো ব্যাচ ধারণ করেছে। আমরা শিক্ষক সমাজের পক্ষ থেকে পৃথক কর্মসূচি আহবান করেছি যা আগামীকাল পালিত হবে। ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষক উপস্থিতি কম বিধায় সবাইকে জানাতে ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শিক্ষকদের উপস্থিতি বাড়াতে একদিন সময় বেশি দেওয়া হয়েছে।