প্রাথমিকের ৪২ শিক্ষকের শাস্তিমূলক বদলি বাতিল ও বেতন বৈষম্য দূরীকরণে মন্ত্রীকে খোলা চিঠি
আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ৪২ জন প্রাথমিক শিক্ষকের ওপর আরোপিত শাস্তিমূলক বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল এবং বেতন বৈষম্য নিরসনে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের অনুরোধ জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং নীতি নির্ধারণী চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত এক খোলা চিঠিতে এই দাবি করা হয়।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ১৯৩৫ সালে প্রতিষ্ঠিত দেশের এই অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী পেশাজীবী সংগঠনটি দীর্ঘ ৯১ বছরেরও অধিক সময় ধরে শিক্ষকদের অধিকার আদায়ে কাজ করে আসছে। চিঠিতে সংগঠনটি উল্লেখ করেছে যে, একসময় প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন গ্রেড সমান থাকলেও বর্তমানে তিন ধাপের ব্যবধান তৈরি হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে গভীর অসন্তোষ ও বৈষম্যের অনুভূতি সৃষ্টি হয়েছে।
উল্লেখ করা হয়, এই বৈষম্য দূরীকরণে ইতিপূর্বে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং অর্থ মন্ত্রণালয় পৃথক প্রেস নোটের মাধ্যমে তিন দফা দাবি বাস্তবায়নের আশ্বাস প্রদান করেছিল। তবে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও সেই যুক্তিসঙ্গত দাবিগুলো বাস্তবায়নের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি না হওয়ায় শিক্ষক সমাজ শান্তিপূর্ণ ও অহিংস আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করতে বাধ্য হয়। চিঠিতে আরও জানানো হয় যে, সম্পূর্ণ শৃঙ্খলাপূর্ণ এই আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে ৪২ জন শিক্ষককে শাস্তিমূলক বদলি করা হয়েছে, যা সারা দেশের শিক্ষক সমাজকে গভীরভাবে মর্মাহত করেছে। শিক্ষক সমিতির মতে, মতপ্রকাশ ও ন্যায্য দাবির পক্ষে অবস্থান নেওয়া কোনো অপরাধ নয়, বরং সংলাপ ও সহমর্মিতাই হতে পারে এই সংকটের টেকসই সমাধানের পথ।
চিঠিতে জানানো হয়, উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির পক্ষ থেকে বিনীতভাবে তিনটি বিশেষ অনুরোধ জানানো হয়েছে। প্রথমত, আন্দোলনকারী ৪২ জন শিক্ষকের শাস্তিমূলক বদলির আদেশ অবিলম্বে বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, পূর্বে ঘোষিত তিন দফা যৌক্তিক দাবি দ্রুত বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং তৃতীয়ত, শিক্ষকদের সাথে তাৎক্ষণিক সংলাপের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু সমাধানের পথ সুগম করতে হবে। সমিতি বিশ্বাস করে যে, শিক্ষকদের মর্যাদা ও প্রাপ্য অধিকার নিশ্চিত করা হলে দেশের প্রাথমিক শিক্ষাব্যবস্থা আরও গতিশীল ও ফলপ্রসূ হবে। রাষ্ট্র ও শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ নির্মাণে নিবেদিত শিক্ষকদের এই ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার দ্রুত ইতিবাচক ও মানবিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে—এমনটাই প্রত্যাশা করা হয়েছে এই খোলা চিঠিতে।