এইচএসসিতে জিপিএ-৫ পেলেন দৃষ্টিশক্তিহীন মৌমি
দৃষ্টিশক্তি না থাকলেও অদম্য ইচ্ছাশক্তি ও অধ্যবসায়ের মাধ্যমে সাফল্য অর্জন করেছেন তাহমিনা আক্তার মৌমি। এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পেয়েছেন তিনি। সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয়ের মধ্যেও মৌমির এই অর্জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে উঠেছে।
মৌমি সিলেট সরকারি মদনমোহন কলেজের শিক্ষার্থী। তিনি মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার জায়ফরনগর গ্রামের আব্দুল আহাদ ও আমিনা আক্তার পুষ্প দম্পতির মেয়ে।
নিজের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে মৌমি বলেন, ‘সবার সহযোগিতার কারণে আমি এ সাফল্য অর্জন করতে পেরেছি। এজন্য আমি সবার কাছে কৃতজ্ঞ।’
পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যারা দৃষ্টি প্রতিবন্ধী, তারা দুই থেকে তিনবছরের জুনিয়র একজন শ্রুতিলেখকের মাধ্যমে পরিক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল। সে প্রশ্ন পড়ে শোনালে আমি উত্তর বলে গেছি। শ্রুতিলেখক তা উত্তরপত্রে লিখেছে।’
মৌমি জানান, পল্লব রায় তাকে শ্রুতিলেখক হিসেবে সহযোগিতা করেছেন। পল্লব রায় হাজী আব্দুস সাত্তার উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।
মৌমি সিলেটে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের নিয়ে কাজ করা গ্রিন ডিসএবেল্ড ফাউন্ডেশনের (জিডিএফ) আবাসিক শিক্ষার্থী। প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী পরিচালক বায়েজিদ আহমদ খান বলেন, ‘মৌমি প্রথম শ্রেণি থেকে আমাদের আবাসিক শিক্ষার্থী। তার এমন সাফল্যে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত।’
উল্লেখ্য, এবারের এইচএসসি পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে ফল বিপর্যয় হয়েছে। বোর্ডটির অর্ধেক শিক্ষার্থীই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি। একই সঙ্গে কমেছে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও। এমন পরিস্থিতির মধ্যেও মৌমির জিপিএ-৫ অর্জন বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে।