মেয়ের অনুপ্রেরণায় ৩২ বছর বয়সে এসএসসি পাস করলেন সুমাইয়া জান্নাত
বয়স যে শিক্ষার পথে বাধা হতে পারে না, তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন সুমাইয়া জান্নাত। অল্প বয়সে বিয়ের কারণে পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও মেয়ের অনুপ্রেরণা ও সহযোগিতায় ৩২ বছর বয়সে এসএসসি পাস করেছেন তিনি। তার এই ব্যতিক্রমী শিক্ষাযাত্রার গল্প উঠে এসেছে টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সবাই জিপিএ-৫ অর্জন করলেও সুমাইয়া সেই ফলাফল অর্জন করতে পারেননি। তবে তার সংগ্রাম, অধ্যবসায় ও শেখার আগ্রহের প্রতি সম্মান জানিয়ে তাকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানায় আয়োজকরা।
এ আয়োজনে সুমাইয়ার মেয়েকেও আমন্ত্রণ জানানো হয়। সে নিজেও একজন কৃতী শিক্ষার্থী। গত বছর জানুয়ারি সেশনে টেন মিনিট স্কুলের কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ভালো ফলাফলের জন্য পুরস্কার পেয়েছিল সে। মেয়ের অনুপ্রেরণাই দীর্ঘ বিরতির পর সুমাইয়াকে আবার পড়াশোনা শুরু করতে উৎসাহিত করে।
অনুষ্ঠানে নিজের শিক্ষাজীবনের গল্প তুলে ধরে সুমাইয়া জানান, তার এই যাত্রার পেছনে সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা তার মেয়ে। মেয়ের ইচ্ছা ছিল, তার মা উচ্চশিক্ষিত হবেন। অল্প বয়সে বিয়ে হওয়ায় সুমাইয়ার পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায়। মেয়ের সেই স্বপ্ন পূরণ করতেই বয়সের বাধা পেরিয়ে আবার এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন তিনি।
সুমাইয়া জানান, নিজের মেয়ের স্কুল থেকেই তিনি এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। এ সময় মেয়ের পাশাপাশি স্কুলের শিক্ষকেরাও তাকে সহযোগিতা করেছেন। তবে তার এই বয়সে পড়াশোনা শুরু করার সিদ্ধান্ত নিয়ে আশপাশের অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন। কেউ কেউ জানতে চেয়েছেন, এই বয়সে পড়াশোনা করে তিনি কী করবেন কিংবা এখন আর চাকরি করার সুযোগ আছে কি না।
এসব প্রশ্নের জবাবে সুমাইয়া মনে করেন, শিক্ষার সঙ্গে বয়সের কোনো সম্পর্ক নেই। শুধু চাকরির জন্য মানুষ শিক্ষিত হয় না; বরং একজন ভালো মানুষ হয়ে ওঠার জন্যও শিক্ষার প্রয়োজন রয়েছে।
পড়াশোনা শুরু করার পর দীর্ঘ বিরতির কারণে বিভিন্ন বিষয়ে পিছিয়ে পড়তে হয় সুমাইয়াকে। নিয়মিত পড়াশোনায় অভ্যস্ত হতেও বেশ কষ্ট হচ্ছিল তার। এ সময় মেয়ে তাকে অনলাইনভিত্তিক শিক্ষা প্ল্যাটফর্ম টেন মিনিট স্কুলের ক্লাস অনুসরণ করার পরামর্শ দেয়।
সুমাইয়া জানান, তার মেয়ে দীর্ঘদিন ধরে শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করে আসছে। পরিবারের প্রয়োজনে একাধিকবার স্কুল পরিবর্তন করতে হলেও ফলাফলে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছে সে। মেয়ের ভালো ফলাফল দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে সুমাইয়াও ইউটিউবে অনলাইন ক্লাস দেখা শুরু করেন। এভাবেই ধীরে ধীরে পড়াশোনায় মনোযোগী হয়ে ওঠেন তিনি।
নিজের পরীক্ষার প্রস্তুতির সময় মেয়ের কাছ থেকে পাওয়া সহযোগিতার কথাও তুলে ধরেন সুমাইয়া। তার পরীক্ষার প্রথম দিন মেয়েরও অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা চলছিল। তবু মাকে সাহস জুগিয়েছে মেয়ে। প্রয়োজনে নিজে রান্না করে মাকে খাইয়েছে, তার প্রয়োজনীয় কাজ গুছিয়ে দিয়েছে। এমনকি মা যখন ঘরের কাজে ব্যস্ত থাকতেন, তখন মেয়ে নিজেই মোবাইলে পড়ার ভিডিও চালু করে দিয়ে তাকে ক্লাস দেখার কথা মনে করিয়ে দিত।
সুমাইয়ার আরও জানান, তার এই শিক্ষাযাত্রায় মেয়ের অবদান অসামান্য। পাশাপাশি টেন মিনিট স্কুলের অনলাইন ক্লাসও তাকে পড়াশোনায় এগিয়ে যেতে সহায়তা করেছে। এই সহযোগিতা না পেলে বয়সের এই পর্যায়ে এসে ভালো ফলাফল অর্জন করা তাঁর জন্য কঠিন হতো বলে মনে করেন তিনি।